somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদ্দাম

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাদ্দাম হোসেনকে ওরা খুন করেছে।সকালে আধো আধো ঘুম চোখে নিয়ে চ্যানেল আইয়ের খবর শুনছিলাম।সবগুলো পত্রিকার হেড লাইন বিনা কষ্টে জানা যায় বলে 7টা বা 9টার খবরটা দেখি।সংবাদ পাঠিকা খবরের এক পযর্ায়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানালেন, মিনিট দশেক আগে ফাসিঁতে ঝুলিয়ে সাদ্দামের মৃতু্যদন্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মুহুর্তে চোখের ঘুম হাওয়া হয়ে যায়।বুকটা মুচড়ে ওঠে।বিবিসি খুঁেজ পাওয়ার চেষ্টা করি।স্কাই নিউজ খুঁেজ পাই আগে।বাগদাদ থেকে ঘুম চোখে রিপোর্টার জানাচ্ছিলেন, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কুয়্যাতি টিভি ছাড়া কোন মিডিয়াকে এই ফাঁিসর খবর কাভারের সুযোগ দেয়া হয়নি।আজই তাকে ফাঁিস দেয়া হবে এটা নিশ্চিতভাবে কাউকে জানতেও দেয়া হয়নি। রিপোর্টার এই ফাঁিস বিষয়ে বলেন,মার্কিন প্রশাসন প্রভাবিত সাদ্দামের ফাঁিসর রায়কে রাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
আমি আবার বিবিসি খুঁেজ পাওয়ার চেষ্টা করি ।সিএনএন চোখে পড়ে প্রথমেই।দেখি ওদের রিপোর্টার উচ্ছাসমাখা মুখে কারাগারের সামনে থেকে লাইভ দিচ্ছে।সেখানে দেড় -দ'ুশো লোক সাদ্দামের মৃতু্যতে উল্লাস প্রকাশ করছে। রিপোর্টার বলছেন, সাদ্দামের মৃতু্যতে ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।এবং এদেশের মানুষ তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করায় খুশি।তারপর স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের সাক্ষাতকার প্রচার করা হয় তাতে ইমাম বলেন তার মৃতু্যর ফলে ইরাকের মানুষ দুঃশাসন থেকে রিলিফ পেলো।এখন ইরাকের মানুষের জন্য সুন্দর আগামী অপেক্ষা করছে। আমি রিমোর্ট টিপে আবার স্কাই নিউজে যাই।
বৌ তখনো ঘুমাচ্ছিল ।তাকে জাগিয়ে বলি,সাদ্দামের ফাঁিস দিয়ে দিয়েছে। ও হতচকিত হয়ে বললো ,বলো কী! কী স্পধর্া দেখালো ইদের দিনে একটা মুসলিম দেশের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ফাঁিস দিয়ে দিলো।কারো কোন কথা ভ্রূক্ষেপই করলো না।বুয়া চা নিয়ে আসে। সে বিষয়টা জানার পর খুব মন খারাপ করলো।বললো ,আমার বড় পোলার নাম সাদ্দাম রাখছিলাম।
বুয়ার ছেলে সাদ্দামকে আমি চিনি।তাকে সাদ্দাম বলে ডাকলে সে বলে, আমার নাম বাপের বেটা সাদ্দাম!
অফিসে এসে ব্লগে দেখলাম কয়েকজন এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।তাদের কড়া ভাষায় সমালোচিত হয়েছেন।আমিও জানি,সাদ্দাম তার শাসনের সময় অনেক মানুষ খুন করেছেন। তারপরও সাদ্দামের মৃতু্যতে আজ আমার মন খুব খারাপ।মার্কিনীরা কী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে ইরাকে!ইতোমধ্যে কী করেছে।সাদ্দামের জন্য আমার এতো মায়া হচ্ছে কেন?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ২:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮
×