somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আকস্মিক সংকট

০১ লা মে, ২০১৯ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাব্লিক বাসে পরের কোন স্টেশান থেকে যে লোক উঠবে তার জন্য পাশের সিট বাচিয়ে রাখা সহজ কথা নয়...

সুমনা এই কঠিন কাজটা কয়েক মাইল ধরেই করে আসছে.....

আজকে অবশ্য এই বাসে তেমন ভীড় নাই... সব লোকই বসা... নো স্টান্ডিং পিপ...

এই স্টপেজ থেকে সুমনার কাঙখিত যাত্রী উঠলেন...

উঠলেন ত উঠলেন... সকলের যেন কপাল পুড়লো... দুজনের সে কি হাসি-গল্প-উচ্ছ্বাস.....

তাদের উপচে পড়া আনন্দ আর সুখ দেখে মনে হচ্ছে বাসে যাত্রামান সকল যাত্রীর আনন্দ আর সুখ ছিনিয়ে নিয়ে তারা দু'জনে দেদারসে ভোগ করছে....

কাজেই বাকী আর সকল যাত্রী বেজায় বিরক্তি আর বিষাদ নিয়ে তাদের দুধর্ষ সুখে জ্বলছে.... কারোর আর কিছু বলার তো নাই....

পরের স্টপেজ থেকে এক বিশাল ধামড়া ছোকড়া বাসে উঠে বসল...

উঠার সময় সে মোবাইলে কথা বলছিল, তাই সুমনাদের বে-খতিয়ান আনন্দের বাড়া-বাড়ি উচ্ছ্বাস তার গোচর হলো না...

কথা বলা শেষ হলেই সকলের মত তারোও নজরে এলো সুমনাদের বাড়া-বাড়ি আলাপন ও হাস্যোচ্ছ্বাস...

সে উৎসের দিকে ফিরে তাকালো.... এবং ঝাট করে উঠে তাদের দিকে আগালো...

সুমনারা অতি আনন্দে নিমজ্জমান থাকার কারণে ধামড়াজির বাসে উঠা, পিছন ফিরে তাদের দেখা ও নিজের সিট থেকে উঠে তাদের সিটের কাছে চলে আসা... এসবের কিছুই লক্ষ্য করলো না...

ধামড়াজি সুমনার পাশের ভদ্রলোকের কাধের উপর আলতো করে টাচ করে বল্লোঃ এক্সকিউজ মি, ব্রাদার.. আপনি একটু কষ্ট করে ওই সিটে গিয়ে বসুন এখানে আমি বসি...

শুনে সুমনা ধামড়াজি কে তাকিয়ে দেখলেন এবং এক পলকে তার সকল আনন্দ ধপ করে নিভে গিয়ে মুখের উপর কয়েক জনমের বর্ষাকালের সমুদয় মেঘের সমষ্টি নেমে এলো...

চমকের তীব্রতায় কোন কথা বলা হলো না সুমনার... চুপসে গেলো... একেবারেই....

ছেলেটি জবাবে বল্লোঃ সরি...আমি ঠিক বুঝলাম না, ভাই আপনার কথা....

--আপনি প্লিজ, ওখানে গিয়ে বসুন... এখানে আমাকে বসতে দিন...প্লিজ..

--এসবের মানে কী...??

--মানে আপনাকে এই সিট টা ছাড়তে হচ্ছে...প্লিজ..

--হোয়াট ইজ দিস... সিট কী তোর বা.......!

ঠাশ করে শব্দ হলো.... থাপ্পরের... ধামড়াজি ছেলেটার গালে বিকট এক চড় বসিয়ে দিল তার বাক্য সম্পন্ন হওয়ার আগেই...

থাপ্পড়ের ঝাকুনিতে ছেলেটার চোখ থেকে খসে পড়া চশমা টা কুড়িয়ে সুড়-সুড় করে নির্দেশিত সিটে গিয়ে বসে পড়লো...

বাসের বাকী যাত্রীদের সেই মুহুর্তের খুশির কথা না বল্লেও সকলেরই অনুভব হচ্ছে.....

ধামড়াজি বসলেন সুমনার পাশে....

একটু ইশ-পিশ করলেন... মুচকি হাসলেন আর শুরু করলেন....

--আজকের দিনে যে তোমার ক্লাস নাই, এটা অন্য কেউ না জানলেও আমি ঠিকই জানি...

আজকের দিনের একমাত্র ক্লাস টা অন্য দিনের গ্যাপে শিফট করার মূল কল-কাঠি যে তুমি ই নেড়েছিলে, সেটাও আমি জানি...

সুমনা নিজের পায়ের নখের দিকে তাকিয়ে নির্বাক...

আর তোমাকে হাতে নাতে ধরার জন্য আমি গোয়েন্দা গিরি করে তোমার পিছু নিয়েছি এরকম ধারণা করার কোন কারণ নাই... সাক্ষাৎ টা নিতান্তই আকস্মিক...

অবশ্য আমার কাছে ধরা পড়ে তোমার লাভই হলো... আমার কাছে ধরা পড়ার ভয়টা অন্ততঃ আর থাকলো না....

এই কথা শুনে সুমনা ফিক করে হেসে দিলো এবং বড্ড লাজুক চোখে ধামরাজির দিকে মুখ তুলে তাকালো...

.... এর পর আবার শুরু হলো সিমাহীন গল্প-আর হাসি...

তবে এবারের হাসি গুলো বাধ ভাংগা উচ্ছ্বাস নয়... সংযত, মার্জিত ও পরিশীলিত....

কিছুক্ষণ চলার পর.... ধামড়াজির নামার স্টপেজ চলে এলো...

সুমনাকে সে বল্লোঃ চলো নামি... ধরা যেহেতু পড়েই গেছো... আজকে আর না... ওকে...??

সুমনাও কোন কথা না বলে ধামড়াজির সাথে উঠে দাড়লো.... নামার জন্য....

ধামড়াজির বাম হাতের কেনী আংগুল টা ধরে পিছু পিছু আগাতে থাকল...

সে....ই যে সেই... ছেলেটার সিটের পাশে গিয়ে ধামড়াজি আবার তার কাধে টাচ করে বল্লঃ কঠোরতার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত... এর পর আমাদের অসংখ্য বারই দেখা হবে, তাই রিকুয়েস্ট...রাগ টা যেনো পুষে না রাখো....

এবারে যাষ্ট তুমি বলে ফেল্লো.. সে..

সুমনা তার দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় কিছু বলে ধামড়াজির হাতে শক্ত করে ধরে একমত ঝুলেই ঝুলেই বাস থেক নেমে গেলো....

নামার সময় সে আরেকবার ছেলেটার দিকে ফিরে তাকিয়ে দেখলো...

......সুমনা ইচ্ছা করেই দীর্ঘক্ষণ ছেলেটাকে কল বা এস এম এস করছে না এই ভেবে যে, এখন সে বিকট ক্ষ্যাপা.....নক করলে প্রতিকূল সাড়া আসবে...

এক্ষণেই ছেলেটার একটা এস এম এস পেল সুমনা...

লেখা আছে "আজকের ঘটনার পরও তোমার সাথে আমার রিলেশন থাকবে ভাবো...? যে ছেলেটা জনসম্মুখে আমাকে থাপ্পড় মারল, আমারই চোখের সামনে তুমি তারই হাত ধরে বাস থেকে নামলা... ছিঃ... ইউ আর যাষ্ট গুড বাই.."

সুমনা এস এম।এস টা পড়ে ভাবলো, এখানে একটা টিট ফর ট্যাট রিপ্লে না দিলে সে পেয়ে বসবে...

তাই সুমনা রিপ্লে দিলো.... "মায়ের পেটের ভাইয়ের হাত ধরে বাস থেকে নামার অপরাধে যে ছেলে ব্রেকাপের হুমকি দেয়, তাকে তো আমি রিলেশ জুড়ে রাখার জন্য অনুরোধ করবো না...

থাপ্পড়টা তোমার তোমার পাওনা... তোমার অসমাপ্ত বাক্যটার জন্য....

আমার সাথে রিলেশন শ্যাষ পর্যন্ত নিতে চাইলে এরকম থাপ্পরের চমক অফার আরোও অসংখ্য পাবা...

টেক ইউর ডিসিশান...."

এর পর সুমনার মোবাইলে আবার রিপ্লে এলো.... কি লেখা ছিল, সেটা ক্লিয়ার না.... তবে আনুমানিক এরকম হতে পারে অনেকটা.....

"আরে কি বলো....!! উনি তোমার ভাই....!! ধুর আমি কি জানি নাকি...!!

কি সব কান্ড হয়ে গেলো বলো দেখি..... বলবা না আমকে.... যাহ্...!!"

এর পর আরোও অংখ্য এস এম এস ই এলো-গেলো...

কে জানে কালকে আবার কোন বাসের যাত্রীদের দুর্ভোগ নেমে আসছে....
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×