somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোকে ভালোবাসি সরি তোমাকে ভালোবাসি পর্ব ১

১৯ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেউ যদি আমার কাছে প্রশ্ন করে “ভাই আপনার কাছে সব থেকে প্রিয় জিনিসটা কি ?”
আমি এক বারে বলব “ ঘুম” । বিশেষ করে সকালবেলার ঘুম ।
আর সেই সকাল বেলার ঘুম ভাঙ্গিয়ে যদি কেউ দেখা করতে বলে মেজাজ টা কার ভাল থাকে ? এখন আমার মেজাজটা ভাল নাই । কারন ঈশিতা আমারে ফোন দিয়ে এই সকাল বেলা করে ঘুম ভাঙ্গিয়েছে । মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ হওয়া সত্তেও বললাম
“হ্যালো” ।
খারাপ কিছুতো বলা যায় না । একে সে মেয়ে তার উপর আবার ভাল বন্ধু । তুই তুকারির সম্পর্ক ।
“কি করিস ?”
মেজাজটা আরো এক ডিগ্রি খারাপ হল । এই সকাল বেলা সকালে মানুষ কি করে ? বললাম
“ আইফেল টাওয়ারের উপর দাড়িয়ে আছি । এখনই লাফ দেবো । এতো সকালে কি চাস বল ?”
“ কিছু না । তোর খোজ খবর নেওয়ার জন্য ফোন দিছি ।“
“ দেখ মেজাজ খারাপ করাস না । ঘুমাতে দে । আমি ফোন রাখছি ।“
“ আরে শোন না ! তোর সাথে দেখা করা দরকার । প্লিজ আয় না ক্যাম্পাসে ।“
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম ।
“ ক্যাম্পাসে ? এখন ? পারবো না । আর আজ আমাদের ক্লাস নাই ক্যাম্পাসে যাবার প্রশ্নই আসে না ।“
“ প্লিজ অপু আয় না ! তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিল জরুরী । প্লিজ আয় । আমি অলরেডি ক্যাম্পাসে চলে এসেছি ।“
“ চলে গেছিস ভাল করেছিস । আমাকে বলে গিয়েছিস ? আর জরুরী কথা কাল বলিস । এখন আমাকে ঘুমাতে দে ।“
“ তুই আসবি না ?”
“ না ।“
“ সত্যি আসবি না ?”
“ আরে বললাম তো না ।“
“ ঠিক আছে যা তোর আসতে হবে না । মরার ঘুম ঘুমা তুই । আর কোন দিন ফোন দিবি না তুই আমাকে ।“ ফোন রাখার শব্দ হল ।
কি আর করা ! প্রিয় এই ঘুমটাকে বিষর্জন দিতেই হল । ঈশিতা খুব একরোখা টাইপের মেয়ে । দেখা যাক কি এমন জরুরী কথা । হাত মুখ ধুয়ে ক্যাম্পাসে যেতে যেতে বেস খানিকটা সময় লেগে গেল । একবার মনে হয়েছিল ও হয়তো চলে যাবে । কিন্তু না । দেখলাম ও সেমিনারে বসে আছে ।
আমাকে দেখে বলল “ নাস্তা করেছিস ?”
“ নাস্তা আর করতে দিলি কই ? এখন বল তোর জরুরী কথা কি ?”
“ আগে চল নাস্তা করি তারপর বলছি ।“
নাস্তা খাওয়ার সময় ওকে একটু ভাল করে দেখলাম । অন্য দিনের তুলনায় আজ ওকে একটু যেন অন্য রকম লাগছে । ও কখনই মেকআপ সচেতন নয় । যতটুকু না দিলেই নয় ততটুকু । কিন্তু আজ দেখলাম ও সেজেগুজে এসেছে । বেশ ভালই সেজেছে । আর ওকে বেশ সুন্দরও লাগছে ।
খেতে খেতে বললাম “লিপস্টিক দিয়েছিস কেন ?”
“ কেন ? ভাল লাখছে না ।“
“ না ভাল লাগবে না কেন ? কখনও তো দিস না তাই বললাম আর কি ?”
ও কিছু বলল না । বিলটাও আমাকে দিতে দিল না । “
এবার বল কি তোর জরুরী কথা ।“
“ এখন বলব না ।“
“ মানে কি ? সকালবেলা ঘুম ভাঙ্গিয়ে নিয়ে এসেছিস । আর এখন বলছিস বলবি না ।“
“ বলব না এমনতো বলি নাই । তবে এখন না বিকাল বেলা বলব ।“
“ বিকালবেলা বলবি তো এখন ডাকলি কেন ? ফাজলামো করার জায়গা পাস না । তোর জন্য আমার সাধের ঘুম কামাই করে এলাম এখানে । কোন কাজ নাই । খামখা । আসলে তোরা মেয়েরা এমন ঢং করতে পারিস না !”
আমার কথায় ওর যেন একটু মন খারাপ হল । ও অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলো । ওর এই স্বাভার টা আমার জানা । কোন কিছুতে কষ্ট পেলে ও অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে ।
একটু নরম সরে বললাম
“আচ্ছা আই এম সরি । আমি তোকে হার্ট করতে চাই নি । কিন্তু বিকাল বেলা জরুরী কথা বলবি ভাল কথা তাই বলে এই সাত সকালে এভাবে ডেকে আনার মানে কি ?”
দেখলাম ওর চোখে পানি চলে এসেছে । পানি আটকানোর চেষ্টা করছে । ওর আচরনে খানিকটা অবাক হলাম আমি । ও তো এমন নমনিয় কখনও ছিল না । ওর সাথে কথা কাটাকাটি লেগের থাকে । আমি ওকে ঝাড়ি মারলে ও দ্বিগুন বেগে আমাকে ঝাড়ি মারে । এমন তো কখনও হয় না ।। তাহলে আজ ??

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:৩০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×