somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সন্ধ্যায় আমার খবর আছে (পর্ব ২)

৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভেবেছিলাম মীম হয়তো গাড়ির মধ্যে আমার সাথে কথাই বলবে না । স্কুল আর কলেজে ওর সাথে যেমন দাকুমড়া সম্পর্ক ছিল ।
ভয়ে ছিলাম এদিক ওদিক দিয়ে যদি ভুল করেও কোন ভাবে ওর গায়ে টাচ্ লেগে যায় ! আর যদি তখন কিছু বলে ! লজ্জায় মাথা কাটা যাবে ।
বাসের মধ্যে আমার আবার খুব ঘুম আসে । যদি ওর দিকে ঝুকে পড়ি । খুবই অস্বস্তির মধ্যেই যাত্রা শুরু হল ।
মীম প্রথমে জানালার দিকেই তাকিয়ে ছিল । মনে হল লক্ষন ভাল না । ও হয়তো কথাই বলবে না । আজ কালকার মেয়ে দের যা মুড !
কিছু জিজ্ঞেস করবো কিনা ভাবছি এমন সময় মীমই কথা বলল
“ সরি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছি ।“
আমার বলা উচিত্ না না কষ্ট কিসের ! কিন্তু আমি বললাম “হ্যা খুব বেশি কষ্ট দিলে ! জীবন শেষ হয়ে গেল ।“
মীম মনে হয় কিছু বোঝার চেষ্টা করছে । তারপর হঠাত্ হেসে ফেলল ।
বলল “ তোমার ইয়ার্কী করার স্বভাব আর গেল না ।“
আমি হাসলাম ।
“এতো ফরমাল হবার তো দরকার নাই । স্যার ফর্মালিটি দেখিয়ে গেল আবার তুমি শুরু করেছ ! আমিতো আর তোমাকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছি না । দুজন একসাথে যাচ্ছি । কথা বলতে বলতে গল্প করতে করতে যাবো । এতে কষ্টের কি আছে । আর তোমার মত একজনের পাশে বসে যাচ্ছি এটা তো আমার সৌভাগ্য ।“
“ সৌভাগ্য ?”
মীম সরু চোখে আমার দিকে তাকাল ।
“ সৌভাগ্য কোন দিক দিয়ে ?”
“ না মানে এইতো তুমি একটা ভাল মেয়ে । আজ কালতো ভাল মেয়ে পাওয়াই যায় না । তারপর ভাল যায়গায় পড়ছ ! সবচেয়ে বড় কথা তোমার মত সুন্দরীর পাশে বসাটা কি সৌভাগ্যের নয় ?”
“ ঢং কর, না ? তুমি আসলেই আগের মতই আছো । ধাড়িবাজ ।“
“ ধাড়িবাজ ?”
আমি আহত হবার ভান করি । “
“তা নয়তো কি ? মানুষকে খোচা দিতে তোমার খুব ভাল লাগে । তাই না ? স্কুলে থাকতে আমাকে নিয়ে কি সব বাজে কবিতা বানাতে মীম মীম মীম/রোজ খায় ডিম এটা কোন কবিতা হল ?”
“ রোজ খায় না রোজ পাড়ে ডিম ।“ কথাটা বলতে চাই নি মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেল । এবার দেখলাম মীম সত্যি সত্যি রেগে উঠল । কিছু করার নেই । বলে ফেলেছি ।
“সরি ! সরি । কিন্তু মীম সত্যি বলছি আমি এবার তোমাকে হেয় করার মিন করে বলি নি । আই রিয়েলি মিন ইট । তুমি সত্যি অনেক সুন্দর হয়েছ দেখতো ।“
এই কথাই মনে হল একটু কাজ হল । রাগ একটু মনে হল কমলো ।
তারপর আস্তে আস্তে ও কথা শুরু করে । তারপর পুরো রাস্তা জুড়ে ওর সাথে অনেক কথা হল । অনেক কথা বললাম । আমি নিজেই ভাবি নি ওর সাথে এতো কথা বলব ।
বাস থেকে নেমে ওকে নিজে হলে পৌছে দিলাম । সিএনজি তে করে ।
যখন ওকে রেখে চলে আসবো তখন কেন জানি আমার একটু খারাপ লাগছিল । আসার সময় ওর মোবাইল নাম্বর নিয়ে আসলাম । নিজের টাও দিয়ে এলাম । বললাম কোন দরকার হলে ফোন দিয়ো ।
ওকে রেখে চলে আসছি এমন সময় মনে হল পিছন ফিরে তাকাই । কিন্তু তাকিয়ে ভুল করলাম । ভেবেছিলাম ও হয়তো তাকিয়ে থাকবে । কিন্তু কোথায় কি ? ও কখন চলে গিয়েছে ভিতরে ।
খানিকটা হতাশই হলাম ।
ভেবেছিলাম ওকে ফোন দিবো না । কি দরকার ?
ফোন দিলাম ।
আরো চার দিন পর ।
আর গাধার মত ফোন দিলাম রাতে ।
রাত কথন প্রায় ১২ টা ।
“হ্যালো” মীমের গম্ভীর কণ্ঠস্বর ।
“ হ্যালো । ভাল আছো ?”
“ এতো রাতে ? কোন দরকার ছিল ?”
কি আশা করেছিলাম আর কি উত্তর এলো ।
“না মানে খোজ খবর নেবার জন্য ফোন দিলাম ।“
“ অপু কিছু মনে করো না আমার খুব মাথা ধরেছে । পরে কথা বলি ?”
“ হ্যা হ্যা কোন সমস্যা নাই । পরে কথা হবে ।“
বলেই ফোন কেটে দিলাম । নিজের গালে চড় মারতে ইচ্ছা হল কষে । এমন নিজে সেধে কেউ অপমানিত হতে যায় !
আর মীমকে ফোন দেবো না বলে ঠিক করলাম । হয়তো আর ফোন দেওয়া হতো না যদি না !
যদি না পরদিন সকালে মীম ফোন দিতো !
পরদিন সকালে মীমের ফোনেই ঘুম ভাঙ্গলো ।
“ এখনও ঘুমাচ্ছ?”
আমি কিছু বললাম না । বুঝতে চেষ্টা করছি ও কেন সকাল সকাল ফোন দিলো ।
“ আমি একটু ঘুমাই বেশি ।“
“ অপু আমি আসলে সরি বলার জন্য ফোন করেছি ।“
“ সরি ? তুমিতো সরি বলার মত এমন কোন কাজ কর নি ।“
“না কাল রাতের ব্যবহারের জন্য আমি সরি ।“
আমি খানিকটা অবাক হলাম ।
মীম বলল “আমার ওভাবে ফোন রাখা একদম ঠিক হয় নি । তোমার নিশ্চই খারাপ লেগেছে । আসলে কাল বিকাল থেকে আমার মেজাজটা খুবই খারাপ ছিল । এই জন্য । আই ডিডেণ্ট মিম দ্যাট । প্লিজ তুমি কিছু মনে কর না ।“
ভদ্রতা করে কিছু বলতে হয় ।
তাই বললাম “ইটস ওকে । তবে আমার কিন্তু সত্যি খারাপ লেগেছিল ।“
“ অপু আমি সরি তো বললাম ।“
“ না ঠিক আছে । বললাম আর কি ।“
মীম কিছুক্ষন কোন কথা বলল না ।
তারপর আমি বললাম “তো আমি কি এখন তোমাকে ফোন করতে পারি ?”
“ অবশ্যই । যখন ইচ্ছা ।“
তারপর যেন সব ঠিক হয়ে গেল । ঐ দিন রাতে মীমই আমাকে ফোন দিলো । এর পর থেকে আমাদের রিলেশন ভাল হয়ে গেল । মধুরও । প্রতিদিনই আমরা কথা বলতে লাগলাম । প্রথমে ফোনে তারপর সরাসরি । দেখা হত কথা হত । ঘোরাঘুরিও হত ।
সবকিছুই ভাল চলছিল এমন সময়ই এই আহাম্মকেল মত কাজটা করলাম । কেবল কার্ড দিলেও না হয় কথা ছিল । কার্ডের মধ্যে কাব্যিক বিদ্যা প্রয়োগ না করলেই কি হত না !!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৫১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×