somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Lucifer - এক ফলেন এঞ্জেলের গল্প (টিভি সিরিজ)

০৪ ঠা জুন, ২০২১ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ টুইটার
আজকে ভাবছিলাম কী নিয়ে পোস্ট দেওয়া যায় । প্রথমে একটা পোস্ট লিখলাম তারপরই পোস্ট টা সরিয়ে নিলাম । নিজের কাছেই যেন পোস্ট টা পছন্দ হল না । তারপর মনে হল আজকে একটা টিভি সিরিজ দেখে শেষ করেছি । সেটা নিয়েই বরং লেখা যাক ।
লুসিফার টিভি সিরিজটা প্রথম প্রচারিত হয় ২০১৬ সালে । যদিও এটা দেখা শুরু করেছিলাম গত বছর লকডাউনের ভেতরে । মোট ৫ টা সিজন রয়েছে এটার । আজকে শেষ এপিসোডটা দেখে শেষ করলাম । লুসিফার আরবান ফ্যান্টাসী সুপার হিরো টিভি সিরিজ । সিরিজের প্লট টা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে । প্রথম কয়েকটা পর্ব দেখার পরেই এক টাকা দেখতে থাকি ।
লুসিফার নামটার সাথে আপনাদের পরিচয় থাকার কথা । আমাদের ধর্মে লুসিফার ইবলিস শয়তান হিসাবে পরিচিত । প্লট টা নিয়ে যডি বলি, লুসিফার হচ্ছে অলমাইটি গডের সন্তান । একজন এঞ্জেল । অনেক মিলেনিয়াম বছর আগে যখন সব এঞ্জেল হেভেনে থাকতো তখন লুসিফার তার বাবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে । এবং তার বাবা তাকে হেভেন থেকে ভ্যানিশড করে দিয়ে হেলের দায়িত্ব দিয়ে পাঠায় । লুসিফার মর্নিংস্টারের দায়িত্ব হয় মৃত্যুর পরে হেলে যাওয়া আত্মাদের টর্চার করার । কিন্তু কোটি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে একই কাজ করতে করতে সে বিরক্ত হয়ে যায় এবং হেল ত্যাগ করে দিয়ে পৃথিবীতে চলে আসে । লসএঞ্জেলসে এসে একটা নাইক ক্লাব খুলে বসে ।
সেখানেই তার দেখা হয় ডিকেক্টিভ ক্লোই ডেকারের সাথে । একটা কেসে দুইজন এক সাথে কাজ করে অপরাধী ধরতে । এবং পরে লুসিফার মর্নিং স্টার হয়ে ওঠে এল এ পি ডির একজন সিলিভ কন্সাল্টেন্ট । দুইজন মিলে একের পর এক কেস সমাধান করতে থাকে ।
এভাবে একের পর এক পর্ব এগিয়ে চলতে থাকে । প্রত্যেক সিজনেই নতুন নতুন ঝামেলা এসে হাজির হয় দুজনের মাঝে । এক সময় লুসিফার আবিস্কার করে যে সে ডিটেক্টিভকে ভালোবাসে । একজন সাধারন মানুষকে ।
সিরিজের আরেকটা চরিত্র হচ্ছে মাইটি এমেনেডিল । এমেনেডিল হচ্ছে এঞ্জেলদের ভেতরে সব থেকে শক্তিশালী । ফার্স্ট বর্ন। সে প্রায়ই সে এলএতে আসে । এবং তার ছোট ভাইকে মানে লুসিফারকে বারবার বলে যে তাকে হেলে ফেরৎ যেতে হবে । কিন্তু লুসিফার সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায় । এমেনেডিল বারবার আসে । এক সময়ে সে এই পৃথিবীতেই থাকতে শুরু করে । তখন তার পরিচয় মনবিজ্ঞানী লিন্ডার সাথে । লিন্ডা তার ছোট ভাই লুসিফারের স্যাইক্রায়াটিস্ট হিসাবে কাজ করেছে । লুসিফার তার কাছে কাউন্সেলিং করেছে । নিজের সমস্যা খুলে বলেছে নিয়মিত । এক সময়ে এমেনেডিলের সাথে লিন্ডার হুক আপ হয় । এবং তাদের একটা সন্তানও হয় ।
অন্য দিকে আরেক চরিত্র হচ্ছে ড্যানিয়েল । সে হচ্ছে ডিটেক্টিভ ক্লইর এক্স হাজব্যান্ড । তাদের একটা মেয়ে আছে । ট্রিক্সি । সেই এল এ পিডিতে ক্লোইর সাথে কাজ করে ।
হেল টর্চারার ম্যাজেকিন আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এই সিরিজের । সে হচ্ছে একজন ডিমন । একজন ডিমনও এই পৃথিবীতে এসে কিভাবে বদলে যায় সেটা সিরিজে দেখানো হয়েছে ।

এক সময়ে লুসিফারের জীবনে লুসিফারের মা এসে হাজির হয়, ইম্মর্টাল কেইন আসে (কেইন হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম খুনী মানুষ যাকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছিলো যে কোন দিন মরবে না), ইভ আসে, তাই জমজ ভাই মাইকেল আসে এবং সব শেষে এসে হাজির হয় স্বয়ং গড । আমি বলবো না আমার দেখা সেরা একটা সিরিজ হচ্ছে লুসিফার তবে এই ওয়াজ ফান । পুরো রিসিজটাই খানিকটা কমেডি ধাচে বানানো হয়েছে । ফ্রি সময়ে দেখতে ভাল লেগেছে বেশ ।

এমন একটা সিরিজ আমেরিকা বলেই বানানো সম্ভব হয়েছে । আমাদের দেশে কিংবা পাশের দেশে যদি এই সিরিজ বানানো হত তাহলে কী যে হয়ে যেত তা আমি ভাবতেই পারছি না । সিরিজটার প্লটের উৎস হচ্ছে বাইবেল । বাইবেলের অনেক চরিত্র এখানে রয়েছে । তবে বাইবেলে যেমন করে আছে তেমন করে নি । এখানে ফুটে উঠে উঠেছে লেখকের সৃজনশীলতা । যেমন লুসিফারকে পিওর ইভিল হিসাবেই ধরা হয় । আমাদের ধর্মেও তাই কিন্তু এই সিরিজে লুসিফারকে সেই ভাবে মোটেও উপস্থাপন করা হয় নি । এখানে দেখানো হয়েছে লুসিফার খারাপ নয়, সে অপরাধী/খারাপদের শাস্তি প্রদান করে । হেলে এটাই তার কাজ । কিন্তু সে মোটেও তেমন নয় ।
ইমাজিন করেন এই দেশে এমন কিছু বানানো হয়েছে আমাদের ধর্মকে কেন্দ্র করে তাহলে কী অবস্থা হবে ?

এই সিরিজটা পছন্দ করার আরেকটা কারণ হচ্ছে এখানে ভালোবাসাটা কে খুব তীব্র ভাবে দেখানো হয়েছে । ভালোবাসার ব্যাপারটা যে যে কোন কিছু কিংবা যে কাউকে বদলে দিতে পারে সেটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । সিজন চারের শেষে যখন লুসিফারকে সত্যি সত্যি পৃথিবী ছেড়ে আবার হেল এ ফিরে যেতে হয় তখন কী তীব্র একটা আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় । অন্য দিকে সিজন ফাইভের প্রথম ভাগের শেষে স্বয়ং গড এসে হাজির হয় পৃথিবীতে । তারপর মজাদার সব ঘটনা ঘটতে শুরু করে লুসিফারকে কেন্দ্র করে ।
এই সিরিজের একটা সাউন্ড ট্রাক আমার খুব পছন্দ । মাই লাভ উইল নেভার ডাই



প্রথম সিজনের ট্রাইলার দেখতে পারেন এখানে


সময় থাকলে দেখে ফেলতে পারেন । নেটফ্লিক্সেই পাবেন পুরো সিরিজটা ।
হ্যাপি ওয়াচিং ।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০২১ রাত ১০:০০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৬৪ জন ব্লগার চাই

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই জুন, ২০২১ দুপুর ২:৪৪




বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগ হচ্ছে আমাদের প্রিয় সামু ব্লগ। কিন্তু জিনিস ইদানিং খুব ফিল করছি। এত বড় প্লাটফর্মে
কি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন ব্লগার ব্লগিং করেন না... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ !! ( একটি রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৩ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৫:১৬


চুপ !! (একটি রম্য কবিতা)
© নূর মোহাম্মদ নূরু

চুপ! চুপ!! চুপ পেলাপান, এক্কেবারে চুপ !!!
চ্যাচা মেচি করলে রাজা রাগ করিবেন খুব।
কথা বলো চুপি চুপি দাড়ি পাল্লায় মেপে
ওজন বেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায়ঃ কপি-পেস্ট দোষের কেন [একটি গল্প ফাও]

লিখেছেন আরইউ, ১৩ ই জুন, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯




একটা গল্প বলিঃ ৯০ এর দশকের কোন এক সময় হবে, তখনকার। গ্রামের নাম নীলগন্জ। ঢাকা থেকে অল্প দূরে -- ধরা যাক ২৫ কি ৫০ কিলোমিটার হবে -- ছোট একটা গ্রাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মহামারী ব্ল্যাক ডেথের গর্ভ হতে জন্ম নেয়া কিছু সাহিত্য ও শিল্প কর্ম নিয়ে একটি পর্যালোচনা।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ৯:৩১


সুত্র : Click This Link
আমরা অনেকেই জানি ব্ল্যাক ডেথ ( Black Death) নামে পরিচিত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি মহামারী অস্বাভাবিক মারণক্ষমতা নিয়ে প্যানডেমিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। মধ্য এশিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিনদেশী গানের সুরের আদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৩ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:১১


কৈশোর ও তারুণ্যের মাঝামাঝি বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কয়েক দিন আগের পোস্টে কিছু হিন্দি গানের লিংক দিয়েছিলাম যেগুলির সুর রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে ধার করা ছিল। এই পোস্টে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের সন্ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×