somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Watchlist: চরকি অরিজিনাল ফিল্মঃ রেডরাম

১৯ শে মে, ২০২২ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঈদে বাড়ি যাওয়ার পর থেকে ঢাকায় ফেরা পর্যন্ত সময় টুকুতে এবার বেশ কিছু টিভি সিরিজ আর মুভি দেখেছি । চরকিতে সাবস্কক্রিপশন কেনার পর থেকে বাংলা বেশ কয়েকটা টেলিফিল্ম আর সিরিজ দেখা হয়েছে । রেডরাম তাদের একটা ।

আমার কাছে একটা ডিটেক্টিভ/রহস্য গল্প কিংবা মুভিকে আমি তখনই ভাল বলবো যখন একেবারে শেষ রহস্য উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি বুঝতে পারবো না যে আসল খুনি টা কে । রেডরুম মুভিটার বেলাতেও সেই একই কথা বলতে হয় । আমি একেবারে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বুঝতে পারি নি যে আসলে খুনটা কে করেছে আর কিভাবে করেছে ।

মুভির প্লট হচ্ছে বিখ্যাত গায়ক সোহেলকে তার নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় । তার বাবা সকাল বেলা চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখে তার ছেলে মেঝেতে মরে পড়ে আছে । খুব ছোট আর সার্প কিছু দিয়ে তার গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে । কিন্তু এদিকে তার স্ত্রী নীলা বিছানাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে । শ্বশুরের আওয়াজে সে ঘুম থেকে জেগে ওঠে । এবং দেখতে পায় যে তার স্বামী মরে পড়ে আছে ।

যথারীতি পুলিশ আসে । এই পুলিশ হচ্ছে রাশেদ । সে আবার নীলা আর সোহেলের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু । রাশেদ হচ্ছে চৌকশ পুলিশ অফিসার । তাকে হিউম্যান লাই ডিটেকটার হিসাবে জানে সবাই । রাশেদ তার বন্ধুর খুনি কে খুজতে থাকে । আস্তে আস্তে পরিবারের অনেক সত্য বের হয়ে আসে । রাশেদ বুঝতে পারে যে সোহেলের পরিবারের সবাই মিথ্যা বলছে । সোহেলের পরিবারের সবাই কিছু লুকাচ্ছে । সোহেলের বাবা মা আর সৎ ভাইয়ের সাথে সোহেলের সম্পর্ক ভাল ছিল না । টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলা ছিল । অন্য দিকে সোহেলের সৎ ভাই খানিকটা মানসিক ভাবে সাইকো ধরনের ।

রাশেদ জানতে পারে যে খুন হওয়ার রাতে কিছু সময়ের জন্য সিসিটিভি বন্ধ ছিল । অন্য দিকে ঘরের দুইটা চাবির ভেতরে একটা সোহেলের বাবার কাছে থাকলেও অন্য হারিয়ে গেছে । সেটা তার সৎ ভাইয়ের কাছে পাওয়া যায় । তাহলে সোহেলকে খুন করলো আসলে কে?
তার স্ত্রী নীলা?
তার বাবা ?
নাকী তার সৎভাই ?

ফরেনসিক রিপোর্টে এটা জানা যায় যে ঐদিন খাবারের সাথে সোহেলকে ঘুমের ঔষদ জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিলো । এরপর সোহেল হয়তো কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে নি । এদিকে পুরো দেশের মানুষ নীলাকে খুনি ভেবে বসে আছে । টক শোতে সবাই নীলাকে দোষী ভেবে বসে । সবাই নীলার শাস্তি দাবী করে । এইভাবে কাহিনী আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় সামনের দিকে ।

কাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সোহেল রাশেদ নীলার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কিছু ঘটনা দেখানো হয় । সোহেল আর রাশেদ কিভাবে দিন কাটিয়েছে । নীলার আগে একজন বয়ফ্রেন্ড ছিল । তবুও সোহেল তাকে কিাভবে দুর থেকে ভাল বাসতো । রাশেদ এটা দেখে তাকে শান্তনা দিতো । কিন্তু একটা সময়ে নীলার আগের বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেকআপ হয়ে যায় এবং সোহেলের সাথে প্রেমে শুরু হয় । তবে নীলার বাবা কোন ভাবেই নীলার সাথে সোহেলের বিয়েটা মেনে নেয় নি । সে মেয়ের উপর অভিমান করে দুরে থাকে । তবে সোহেল মারা যাওয়ার পরে নীলাকে বাসায় নিয়ে যায় । নীলাকে যখন সবাই দোষ দিতে থাকে তখন নীলার বাবা ঠিক করে যে তাকে বাইরে পাঠিয়ে দিবে । পুলিশ যখন বাঁধা দিতে যায় তখনই একজন চোর এসে বলে যে সোহেলকে সেই খুন করেছে । যে সময়টা সিসি টিভি বন্ধ ছিল সেই সময়ে সে ঘরে ঢুকে চুরি করতে কিন্তু সোহেল দেখে ফেলার পর তাকে ভয়ে মেরে ফেলে । কিন্তু স্পষ্টই বোঝা যায় যে খুন সে করে নি । তাহলে কে খুন করেছে? কিভাবে করেছে !

শেষ পর্যন্ত তাহলে সোহেলকে কে খুন করে আর কিভাবে খুন করে ? এই খুনের সাথে জড়িতো থাকে অতীতের কোন একটা অন্যায় । আজকে সেই অন্যায়টা যদি না হত তাহলে কারো জীবন এই ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যেত না ।

আমার মুভিটা বেশ চমৎকার লেগেছে । আপনাদেরও ভাল লাগবে আশা করি । খুব বেশি লম্বা সময়ের না মুভিটা । দুই ঘন্টার একটু বেশি । দেখতে দেখতে আমার বোরিং লাগে নি । আপনাদেরও লাগবে না আশা করি ।

মুভিটির ট্রেইলার টা দেখে নিতে পারেন ।



মুভিটা দেখতে পাবেন চরকি ওটিটি প্লাটফর্মে ।
হ্যাপি ওয়াচিং



pic source

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২২ রাত ২:৫৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা তো রাজনীতি করে না !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪১


৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেকদিন মনে থাকবে। কিন্তু ইতিহাসের বড় বাঁকগুলোর মতো এই পরিবর্তনেরও একটা দাম ছিল, যেটার হিসাব আমরা এখনও পুরোপুরি মেলাতে পারিনি। ক্ষমতার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×