somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রিটিশ ম্যাগনেটিক পিলার ও অতীতের ঘটনা

৩০ শে মে, ২০২২ রাত ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটা ইন্টারেস্টিং খবর চোখে পড়লো । খবরের শিরোনাম দশকের পর দশক প্রতারণার হাতিয়ার ম্যাগনেটিক পিলার আসলে কী । কিভাবে এই ম্যাগনেটিক পিলার কথা বলে মানুষজনকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে । এরকম নানান প্রতারনার খবর আমরা নানান সময়ে শুনে থাকি । কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং মনে হওয়ার কারণ হচ্ছে আমি যখন স্কুলে পড়ি, সিক্স কিংবা সেভেনের দিকে তখন এই পিলার কেন্দ্র করে আমাদের গ্রামে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছিলো ।

গ্রামে তখন এই গুজব চলছে বেশ ভাল ভাবে । কে বা কারা এই গুজব শুরু করেছিলো সেটা বলতে পারবো না তবে তখন এই ম্যাগনেটিক পিলার নিয়ে খুব আলোচনা হচ্চে । আমাদের এলাকার আশে পাশে নাকি এই পিলার আছে । কে বা কারা এই খোজ নিয়ে এসেছে । এই পিলার খুব শক্তিশালী ! এই পিলার নাকি বজ্রপাত নিজের দিকে টেনে আনতে পারে । তাই বৃষ্টির সময়ে যদি কেউ এই পিলারের আশে পাশে থাকে তাহলে সে বজ্রের আঘাতে মারা যাবে । এছাড়া এই পিলার অনেক দিন মাটির নিচে থাকার ফলে এর ধাতু বদলে গেছে । এই ধাতুর মূল্য অনেক । কয়েকশ কোটি টাকা । ইউরোপ আমেরিকাতে এর অনেক চাহিদা ! এছাড়া এই পিলার নাকি খালি হাত দিয়ে ধরা যাবে না । যে ধরবে তার পুরো শরীর নাকি ঝলছে যাবে । এই রকম আরও কত কত গল্প যে তখন প্রচলিত হয়েছিলো তার কোন ঠিক নেই ।

সত্যি বলতে কী তখন আমি সহ আমাদের বন্ধুদের বেশ কয়েকজন এই পিলার খোজে বের হয়ে পড়েছিলাম । হাতে শাবল নিয়ে আমরা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতে লাগলাম । যে কোন স্থানে সন্দেহ হলেই সেখানে মাটি খুড়ে দেখার চেষ্টা করতাম ! তবে আরেকটা যে সমস্যা হয়েছিলো সেটা হচ্ছে বৃষ্টি শুরু হলেই আমার মা আমাকে কোন ভাবেই বাইরে বের হতে দিতো না । বৃষ্টি হলেই তখন আমি ভিজতাম । কিন্তু এই গুজবের ফলে মায়ের মনে এটা বসে গিয়েছিলো যে পিলার বজ্রপাত কাছে টানবে আর আমি যদি তখন সেই পিলারের উপরে কিংবা কাছাকাছি দাড়িয়ে থাকি তাহলে আমি মারা যাবো !

তারপর একদিন সত্যি সত্যিই শোনা গেল যে গ্রামের একজন পিলারের সন্ধান পেয়েছে । আমাদের বাসা থেকে কয়েক বাড়ি পরেই তার বাড়ি ছিল । গ্রামে রটে গেল যে সত্যিই যে পিলারের খোজ পেয়েছিল তবে সেটা ধরে রাখতে পারে নি । বিডিআর নিয়ে গেছে । তখন বিডিআর মানে বর্তমানের বিজিবি। আমাদের বাড়ির পাশেই তখন বিডিআর ক্যাম্প ছিল । আমার বাবা বিডিআর ক্যাম্পে ফুড সাপ্লাইয়ের কন্ট্রকটর । তাই ক্যাম্পে আমরা ঢুকতে পারতাম । তবে সেদিন কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হল । কেবল আমার বাবা ক্যাম্পে গেল তার নিত্য দিনের কাজ করতে ।

পরদিন সেই খবর বের হল স্থানীয় পত্রিকাতে । সেখান থেকে জানা গেল যে আমাদের গ্রামের একজনের কাছ থেকে বিডিআরের সদস্যরা পিলারের টুকরো উদ্ধার করেছে । তবে তাকে ধরতে পারে নি । সে পালিয়ে গেছে । আমার বাবা বাসায় এসে জানালো যে সে নিজে দেখে নি তবে কয়েকজন বিডিআর সদস্যদের সাথে তার কথা হয়েছে যারা দেখেছে সেই টুকরো গুলো ! গ্রামে তখন উত্তেজনা কাজ করছে ।
তবে সেই উত্তেজনায় দুদিন পরেই ভাটা পরলো । জানা গেল যে যে টুকরো পিলারের ভাবা হচ্ছেিলো সেগুলো আসলে নরমাল লোহা । কয়েক বছর কেবল মাটির নিচে ছিল এই যা !

তারপর আস্তে আস্তে ম্যাগনেটিক পিলারের আগ্রহ কমে এল । এক সময়ে সেটা আর কারো মনেই রইলো না । গতকাল প্রথম আলোতে সংবাদটা পড়ে পুরোনো সেই দিনের কথা মনে হল । এখনও মানুষজন এই সব বিশ্বাস করে ! অবশ্য আমরা যখন করেছি এখনও মানুষ বিশ্বাস করতেই পারে ! এবং এটার জন্য মানুষ পেছনে টাকা ঢালছে । বেশ কিছু চক্র এই পিলার নিয়ে গুজব এমন ভাবে ছড়িয়েছে যে অনেকেই এটা বিশ্বাস করেছে । বিশেষ করে যাদের সর্টকাটে টাকা আয় করার লোভ বেশি তারা এই সব গুজবে কান দেয় আর টাকা দিয়ে ধরা খায় !

উপরে দেওয়া প্রথম আলোর লিংকটাতে গিয়ে পিলার সম্পর্কে পুরো খবরটা পড়ে আসতে পারেন । ওখানেই বেশ চমৎকার ভাবে লিখেছে তাই আর নতুন করে লিখলাম ! এছাড়া অলৌকিক মুদ্রার খোঁজে মি. এন একা নন, দেড় কোটি টাকা খুইয়েছেন মি. বি এই সংবাদটিও পড়তে পারেন ।


pic source
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০২২ বিকাল ৪:২৮
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×