somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনাদের জীবনের সব থেকে বড় ভয় গুলো কী ?

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২২ রাত ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সহজ ভাষায় যদি প্রশ্ন করা হয় আপনাদের জীবনের সব থেকে বড় ভয়টা কিসের? ভয়শব্দটা কত ভয়ংকর কিছুই না সামনে আসে । তবে আমি ঐ রকম কিছুর কথা বলছি না । মানে কেউ যদি হাতে রামদা নিয়ে আমার দিকে দৌড়ে আসে অবশ্যই আমি ভয় পাবো । এই ভয়তো সবাই পাবে । এমন কিছু না । এমন কোন ভয় যা আপনার মনের ভেতরে সব সময় ধরে আছে । যে ভয় কখনই আপনাকে শান্তি দেয় না । মনের ভেতরে সেই ভয়টা সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায় ! বিখ্যাত লোকেরা প্রায়ই এই স্বপ্ন দেখে যে তারা কোন অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হয়েছে পোশাক ছাড়া ।

আমি অনেক কিছুতেই ভয় পাই । কিন্তু সব থেকে বড় ভয়টা হচ্ছে মানুষের উপর নির্ভর হয়ে যাওয়া । আমার জীবনের সব থেকে বড় ভয় বলতে গেলে এটাই । আমি যখন স্কুলে পড়ি তখন আমার নানা শরীর প্যারালাইজ হয়ে যায় । তারপর তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় সাত বছর সে বিছানায় পড়ে ছিল । খাওয়া দাওয়া থেকে বাথরুম সব কিছু এই বিছানাতেই হত । প্রথম প্রথম সবাই তার দেখা শুনা করতো । কিন্তু যত দিন যেতে লাগলো সেই দেখা শোনার পরিমান কমতে শুরু করলো । এক পর্যায়ে এমন হল যে তার ঘরে ঢোকা যেত না ঠিক মত । আমি খুব কম গিয়েছি তার ঘরে । আমার কেবল মনে হত সে যেন মনে মনে সব সময় মৃত্যুকে কামনা করতো ! এমন জীবন বেঁচে থাকার আসলেই কোন মানে হয় না !

আমার মনে তখন এই চিন্তাটা এসে ভর করে । যদি জীবনে কোন একদিন এমন হয়, কোন এক সময়ে আমার শরীর খারাপ হয়ে আমিও ঠিক এমন ভাবে অন্যের উপর নির্ভর হয়ে পড়ি ! আমি এই ভাবনাটা নিতেই পারি না । কোন ভাবেই নিতে পারি না ! আমি ছোট বেলা থেকে সব সময় নিজের কাজ নিজে করার ব্যাপারে বিশ্বাসী । অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়াটা আমার কোন কালে ভাল লাগে না । যদি দরকার পরে কারো কাছে সাহায্য নিতেই হয় তখন সেটা মনে রাখি এবং সেই উপকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সব সময় চেষ্টা করি । ছোট বেলায় কেবল আমি আমার বাবা আর মায়ের উপর নির্ভর করতাম । একটা সময়ের পর সেটাও আমার বন্ধ হয়ে গেছে । এখন যে কোন নিজের উপর নিজে নির্ভর করি সব সময় । আমার শরীরের উপর যেন আমার নিয়ন্ত্রন না হারায় কোন দিন । একেবারে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এমন ভাবে নিজের শরীর নিজের নিয়ন্ত্রনে থাকে এটাই কেবল চাওয়া !

কিন্তু এখন যদি এমন কোন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে আমি নিজের কাজ নিজে করতে পারছি না । অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে, অন্য কেউ তা যে যতই আপন হোক না কেন, তাদের মর্জি মোতাবেক করতে হচ্ছে এই ভয়টা আমার সব সময় করে । এই কারণে আমি টুপ করে মরে যেতে চাই। এতো ভুগে অসুস্থ হয়ে কিংবা বুড়ো অকেজো হয়ে মরতে চাই না ।

প্রিয় মানুষের বদলে যাওয়ার ভয় আমার খুব করে । কে জানি একবার বলেছিলো যে আপনি একজন মানুষের কাছে বিশেষ কেউ হয়ে উঠতে পারবেন, কিন্তু আজীবনই যে আপনি কাছে বিশেষ মানুষ হয়েই থাকবেন, এটার কোন গ্যারান্টি নেই । হঠাৎ করে আপনার প্রিয় মানুষের কাছে আপনি একবারে গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারেন । এবং এটা হতে পারে কোন কারণ ছাড়াই । আপনার কোন দোষ নেই, কোন অপরাধ নেই, তবুও খেয়াল করে দেখলেন যে আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাকে আর ভাল বাসছে না । সে হয়তো আপনার সাথেই আছে, আপনার পাশেই ঘুমাচ্ছে কিন্তু তার মনে আপনার জন্য আর সেই ভালোবাসা নেই !

একই রকম আরেকটা ভয় হচ্ছে ভালবাসার মানুষ কর্তৃক প্রতারিত হওয়া । আপনারা যারা আমার গল্প টুকটাপ পড়েন, তাদের কাছে একটা ব্যাপার হয়তো ধরা পরবে ! আমার গল্পে কখনই গল্পের নায়ক কিংবা নায়িকা প্রতারণা করে না । মানে অন্য কোন ছেলে কিংবা মেয়ের সাথে চিটিং করে শারীরিক সম্পর্ক করে না । কিন্তু বাস্তবে এমন হতেই পারে । যদি সত্যিই হয় কোন কারণ সেদিন আসলে কী হবে আমার জানা নেই ।

আরেকটা ভয় হচ্ছে ফ্যামিলি মেম্বারের মৃত্যু । বয়সে ছোট হওয়ার কারণে স্বাভাবিক ভাবে এবং বয়সে যদি মৃত্যু হয় তাহলে আমাকে এই ব্যাপার সম্মুখীন হতেই হবে কোন না কোন দিন । করোনার কালে যখন আব্বাকে ঢাকাতে নিয়ে আসা হল তখন মনের ভেতরে এই ভয়টা তীব্র ভাবে জেকে বসেছিলো । প্রতিদিন হাসপাতালে এই একটা ভয় বারবার ঘুরে ফিরে আসতো !

আরেকটা ভয়ের কথা বলি । আমি আমার সাইকেলটা খুব বেশি পছন্দ করি । কিন্তু এই বেশি পছন্দের কারণেই হয়তো আমার মনে প্রায়ই সাইকেল চুরির ভয়টা দেখা দিয়েছে । এমন অনেকবার স্বপ্ন দেখেছি যেখানে দেখতে পেয়েছি যে কোন ভাবে আমার সাইকেলটা চুরি হয়ে গেছে । আমাদের বাসার নিচে যেদিন সাইকেল চুরি হল, সেদিন ভাগ্য গুণে আমারটা চুরি হয় নি । সেদিনের পর থেকে আমি সব সময় সাইকেল সাত তলার উপরে তুলে রাখি । এই সাইকেল চুরি নিয়ে যা স্বপ্ন দেখি তার বেশির ভাগই ভুলে যাই সকালে । কেবল মনে থাকে যে সাইকেল চুরি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি । তবে একটা স্বপ্নের কথা বেশ ভাল করে মনে আছে । কারণ হচ্ছে এই একই স্বপ্ন আমি তিন বার দেখেছি । এই স্বপ্নটা খানিকটা অদ্ভুত । স্বপ্নে দেখা যায় যে আমি সাইকেল নিয়ে ২৭ নম্বরে গিয়েছি খেতে । ২৭ নম্বরে জিনডিয়ান নামের একটা বড় রেস্টুরেন্ট আছে সেখানে । সেখানকার পার্কিংয়ে আমার সাইকেল রেখেছি । খাবার খেয়ে এসে দেখি আমার সাইকেলটা চুরি হয় নি ঠিক, তবে সাইকেলের সামনের টুকু খুলে নিয়ে সেখানে রিক্সার সামনের অংশ টুকু সেট করে দিয়ে গেছে । মানে হচ্ছে কেউ আমার সাইকেলের সামনের চাকা আর হ্যান্ডেল খুলে সেখানে রিক্সার চাকা আর হ্যান্ডেল লাগিয়ে দিয়ে গেছে । এই একই স্বপ্ন আমি তিন বার দেখেছি । এই রহস্যটা আমি আজও ঠিক বুঝলাম না ।

যাই হোক ব্লগারদের জীবনেও এমন কোন না কোন ভয় নিশ্চিত আছে । সেই ভয় গুলো কিসের ভয় ?

pic source


সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২২ রাত ২:০৮
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি এসোনা ফুল দিতে আমার সমাধীতে। সেই সৌরভ মাটি পাবে সব কিছুই পারবোনা আমি নিতে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৩১


কোন সূচনা ছাড়া মূল বক্তব্যে যেতে চাই। আমি মনে হয় এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশী শোকাহত। কারণ আছে। আমার জীবনের প্রথম শিক্ষিক ছিলেন আমার ছোট চাচা। আমার চেয়ে মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন চলে যেতে হবে মায়ার পৃথিবী ছেড়ে!!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৩৮


একদিন চলে যেতে হবে মায়ার পৃথিবী ছেড়ে ,
একদিন বলতে হবে বিদায় তোমাকে এই অবণীর পরে।
কবরের অন্ধকার ঘর সেদিন হবে শেষ ঠিকানা,
একদিন আর লিখতে পারবোনা ___কোন কবিতা!
সেদিন আর হবেনা যে চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাস ডায়েরি: অগোছালো ভাবনার প্রতিলিপি

লিখেছেন রাফীদ চৌধুরী, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৪৪




২৭/১১/২০২২
সময়: ০৪:৫৯ মিনিট

প্রায় ভোর রাত। আর কিছুক্ষণের মাঝেই সকাল হয়ে যাবার কথা। যদিও শীতের সময় দিন দেখা পাওয়াই ভাগ্যের বিষয়। এই নভেম্বর মাসে দিনের শুরুই হয় ৯ টার পরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

How the iconic FIFA World Cup Trophy is made....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪১

How the iconic FIFA World Cup Trophy is made....

১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতায় (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) ফিফার তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী ব্রাজিল চিরতরে জিতে নিয়েছিল ‘জুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স স স !! মিথ্যা বলো না !

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৫৫






স স স !! মিথ্যা বলো না
সত্যের পরাকাষ্ঠ নও তুমি
এটা সকলেরই জানা
তবুও মিথ্যা বলো না

অলীক ফানুসে ডুবিয়ে রেখ না
জানোতো ফানুস পুড়ে গেলে
কেবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×