somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগার ভুয়া মফিজকে ধন্যবাদ ....

২৯ শে জুন, ২০২৫ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ যখন আমার জন্য আলাদাভাবে প্যারা নিয়ে কিছু করে, তখন তার প্রতি একটা আলাদা অনুভূতি সৃষ্টি হয়! আমি সব সময় মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকি বা থাকার চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকেই ভাবটা এমন হলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই মনোভাবটা আরও বেড়েছে। যেখানে ঝামেলা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে আমি আগে থেকেই কেটে পড়ি। আমি যেহেতু অন্যের জন্য কোনো ঝামেলা নিতে পছন্দ করি না, তাই অন্যেরা আমার জন্য কোনো ঝামেলা নেবে সেটাও আমি আশা করি না। কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ থাকে, যারা ঠিকই ঝামেলা নেয় আমার জন্য।

কয়েকদিন আগে ব্লগের ভুয়া মফিজ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে আমি ইংরেজি বই পড়ি কি না। আমি আসলে তখন এত কিছু ভেবে উত্তর দিইনি। বাংলা বই আমি বেশি পড়লেও ইংরেজি বইও পড়ি। আর যেহেতু অনুবাদের কাজ টুকটাক করি, সেই সুবাদে কিছু তো পড়তেই হয়। সেই মনে করেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। আর কিছু মনে আসেনি। তার কিছুদিন পরে আমাকে আরও খানিকটা অবাক করে দিয়ে আমার ঠিকানা নিলেন। কারণটা হচ্ছে, আমাকে বই পাঠাবেন। তার পরিচিত একজন দেশে আসছেন, তার হাতে বই পাঠাবেন!

আমি নিজেকে দিয়ে ব্যাপারটা একটু বিবেচনা করলাম। আমি যদি ভুয়া মফিজের জায়গায় থাকতাম, তাহলে কি এই প্যারা নিয়ে কাজটা করতাম? দেশে থাকলে কুরিয়ারে হয়তো বই পাঠানো যেত, কিন্তু একেবারে এত দূর থেকে অন্যের হাত দিয়ে বই পাঠানো, সেটার খোঁজখবর নেওয়া, ঠিকমতো গেল কি না, দেশে এসে ঠিকমতো কুরিয়ার করল কি না—এত সব আমি আসলেই করতাম না।
যে কাজটা আমি একজনের জন্য করি না, সেই কাজটা যদি সেই একজন আমার জন্য করে, তবেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। আমার মতো একজনের জন্য যে কাজটা সে করছে, সেটার জন্য আমার মন ভালো হয়ে যায়!

বইদুটো হাতে এল ঢাকায় এসে। আমি সাধারণ বইটিও খুব একটা যত্ন করি না। একবার যে বই আমি পড়ে ফেলি, সেই বইয়ের প্রতি আমার আর কোনো আগ্রহই থাকে না। তবে উপহার পাওয়া বইগুলো আমি বড় যত্ন করে রাখি। আমার কাছে কিছু বই একেবারে প্লাস্টিকের মলাট দেওয়া অবস্থায় যত্ন করে রয়েছে।

বইদুটো প্যাকেট খুলে দেখলাম। একটা বই দেখে মনটা আরও বেশি ভালো হয়ে গেল। এই বইটা আমি অনেক দিন ধরেই পড়ব পড়ব করছিলাম। বুকশপে অর্ডার দিতে গিয়েও দিইনি। আর সেই বইটাই এসে হাজির! কোনোভাবে যেন মনের খবর তিনি জেনে ফেলেছেন।

ব্লগার ভুয়া মফিজকে ধন্যবাদ! ধন্যবাদের সাথে আর কী যে বলব, সেটা বুঝতে পারছি না। কোনোভাবে যদি আপনাকে কয়েকটা বই উপহার দিতে পারতাম, তবে আরও একটু ভালো লাগত।



(বই দুটোর ছবি দিতে পারলে ভালো হতো, তবে সেগুলো বুকশেলফে তোলা রয়েছে যত্ন করে। এখন সেগুলো নামিয়ে ছবি তুলতে ইচ্ছে করছে না। পরে একসময় ছবি যোগ করে দেব।)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০২৫ রাত ১২:২৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×