somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবাইকে ভোট মোবারক

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নির্বাচন নিয়ে এমন উত্তেজনা আমি অনেক দিন অনুভব করি নি। আমি বুঝতে শেখার পর থেকে ২০০১ আর ২০০৮ সালের নির্বাচন আমি দেখেছি ভাল ভাবে। সেই সময়ে মানুষের উন্মাদনা দেখেছি। মিছিল মিটিং আরও কত কি! সেই সময়ে ভোট মানেই ছিল উৎসব। সেই সময়ে তো ফেসবুক ছিল না তাই গুজব বা মারামারির খবর এতো সহজে পাওয়া যেত। নিজ এলাকার ভেতরেই সব কিছু সীমাবদ্ধ থাকত। সব কিছু ছাপিয়ে উত্তেজনাটাই কাজ করত বেশি। তারপর মানুষ যেন ভোটের এই আনন্দের কথা ভুলেই গিয়েছিল। ভোটের দিন যে এমন উৎসব মূখর একটা পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে সেটা বুঝি মানুষ ভুলে গিয়েছিল লম্বা একটা সময়ে।
এবার নির্বাচনেও যে শঙ্কা ছিল না সেই কথা অস্বীকার করা যাবে না। তবে পুরো দিন জুড়ে সামান্য কিছু বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া সব কিছু ঠিক ছিল। সব থেকে বড় ব্যাপার ছিল মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভোট দিতে গেছে। আনন্দ মূখর পরিবেশ নিয়ে নিয়ে গেছে ভোট কেন্দ্রে। এই দৃশ্য আমরা সেই ২০০৮ সালের পর আর দেখি নি।

এবার ভোটের আগে অনলাইনে জামাতের লম্ফ-জম্ফ দেখে সত্যি বলছি যে আমার মনের ভেতরে একটা ভয় ঢুকে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল যে এবার বুঝি জামাত ক্ষমতাই চলেই এল! এমন ভাবে তাদের পোস্ট আমার সামনে এসেছে নির্বাচনের আগে আমার মনেই হল যে এবার তাহলে খবরই আছে। তারপর পরিচিত একজনের সাথে এই ভয় নিয়ে কথা বললাম। সে আশ্বস্ত করে বলল, এটা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। সন্দেহ নেই যে আগের থেকে তারা বেশি আসন পাবে, পাওয়াটাই স্বাভাবিক তবে সংখ্যা গরিষ্ঠ বিএনপিই পাবে। সংখ্যাটা ২০০ এর বেশি। তার কথায় একটা আশ্বস্ত হলেও মনের ভেতরে একটু কুকু ডাকছিল। তারপর ঠিক নির্বাচনের আগের দিন জামাতিদের টাকা নিয়ে ধরা পড়া দেখে মনে হল যে বেশ জোড়ে শোরেই ওরা টাকা ঢালছে।

ভোট হল। মনে মনে ঠিক করলাম যে কোন ফল দেখব না। বাকিটা সময় বই পড়ে কাটাব তারপর রাতে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ব। কিছু সময় বই পড়ার চেষ্টা করলাম বটে কিন্তু কাজ হল না। বারবার মন চলে যাচ্ছিল মোবাইলের দিকে। তারপর যখন ফেসবুকে একের পর খবর আসতে লাগল যে সব জায়গায় জামাত জোট এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সেই ভয়টা আবারও ফিরে এল। মনে হল, যাহ এইবার আর রক্ষা হল না। এইবার জামাত ক্ষমতায় চলেই এল!
নয়টার দিকে আমি মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম যে জামাতই ক্ষমতায় আসছে। ঠিক তখনই একজনের স্টাটাস আমার চোখে এল। সেখানে লেখা টিভিতে সব ফলাফলে বিএনপি এগিয়ে আর ফেসবুকে জামাত এগিয়ে। তখনই আমার মাথায় এল। এতো সময় আমি কেন ব্যাপারটা খেয়াল করলাম না। ফেসবুকের বট বাহিনী স্টাটাসে তো এমনই মনে হবে! এরপর টফি চালু করে টিভি দেখতে লাগলাম। তখনই ব্যাপারটা টের পেলাম! ফেসবুক আর টিভির খবরে আকাশ পাতাল পার্থক্য। কোথায় জামাত এগিয়ে? জামাতের ভাত কোথায়! টিভির সব খবরে বিএনপি এগিয়ে এবং প্রতিনিয়ত সেটা বাড়ছে।

রাতে আমি বারোটার ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়ি। তবে গতকাল আর ঘুম এল না। রাত তিনটা পর্যন্ত জেগে জেগে নির্বাচনের ফল দেখতে লাগলাম। যখন রাতে চোখ বন্ধ করলাম তখন এই নিশ্চয়তা নিয়ে ঘুমাতে গেলাম যে এই জামাত আসবে না ক্ষমতায়। সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখলাম সংখ্যাটা দুইশ পার হয়ে গেছে।

এই নির্বাচনে সার্জিস আলম হেরে গেছে। ব্যাপারটা ভাল লেগেছে। ২৪এর পরে সার্জিসের পা যেন মাটিতে পড়ছিল না। এবার মাটিতে পড়বে। পাটুয়ারি হেরেছে। এটাও ভাল লেগেছে। নির্বাচন ক্যাম্পেইনের ভেতরে পাটুয়ারির ক্যাম্পেন ছিল সব থেকে জঘন্য। যখনগুলো খবর আর ভিডিও দেখেছি বিরক্তি ততই বেড়েছে পাটুয়ারির প্রতি। তাসনিম জারার জয়টা চেয়েছিলাম খুব বেশি করে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে জিতেছে হাবিবুর রশিদ। সত্যি বলতে কি বিএনপির যদি একজন ক্লিন ইমেজ প্রার্থী থাকে তাহলে এই হাবিব সাহেবই আছেন। তাই জারার জন্য কষ্ট লাগলেও হাবিবুর রশিদের জন্য আনন্দিত। অন্য দিকে আরও চেয়েছিলাম যেন বরিশাল-৫ এ মনীষা চক্রবর্তী যেন জেতেন। কিন্তু উনি জেতেন নি। জিতলে ভাল লাগত অনেক। এছাড়া আমাদের ব্লগের মনিরা আপার হাজব্যান্ড এমপি হয়ে গেছেন। তার জয়টা চেয়েছিলাম খুব করে।
আমার এলাকার মমিনুল হক হেরে গেছেন। যদিও ভেবেছিলাম ববি হাজ্জাজ মমিনুল হককে হারাতে পারবে না তবে হারিয়ে গিয়েছে। ভাল হয়েছে। এই লোক যে সংসদে যাবে এটা আনন্দের ব্যাপার। রুমিন ফারহানাকে আমি পছন্দ করি না। বিএনপি যখন তাকে নমিনেশন দিল না তখন খুশি হয়েছিলাম কিন্তু যখন সে দমে না গিয়ে যে নিজে নির্বাচন করে জিতেছে এটা ভাল লাগল। মেয়েদের এমন জেদ করে জয়ী হওয়াটাকে আমি সম্মান করি খুব। ইলিয়াস আলির স্ত্রী জিতেছে। এটা একটা আনন্দের ব্যাপার। হাসনাত আবদুল্লাহ যে জিতবে সেটা তো আগে থেকেই জানা ছিল। আরও কত জনের কথা বলা যায়! এদিকে আমাদের নিজের এলাকার দুই সিটেই জামাত জিতেছে। এই দুঃখ কই রাখব। এক সময়ে আমাদের এলাকা বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত ছিল। আর এবার দুই আসনই জামাতের দখলে। সব থেকে বেশি মেজাজ খারাপ হয়েছে আমির হামজার মত মোল্লার জেতায়। খুব করে চেয়েছিল এই ব্যাটা যেন সংসদে না যাক কিন্তু যাচ্ছে। সাথে এক রাজাকার আর দুই রাজাকার পুত্রও যাচ্ছে! কী আর করা! এটাই গনতন্ত্রের সিদ্ধান্ত। মেনে নিতেই হবে।

এবার তো বিএনপি জিতে গেল। তবে যদি সেই তারা নিজেদের পরিবর্তন না করে, যদি সেই ২০০১ সালের মত করেই দেশ চালায় তবে সামনের বার আর জিতবে না, এই টুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি। তারেক রহমান আশা করি তার ভুল থেকে শিক্ষা নিবেন। আগের ভুল ভুলো আর রিপিট করবে না।

সবাইকে ভোট মোবারক।



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৪
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দেন না কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্ণকান্তের উইল ও তৎকালীন নারী সমাজের প্রতিচ্ছবি

লিখেছেন মৌরি হক দোলা, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩




দেশ-কাল-জাতি নির্বিশেষে প্রায় সব সাহিত্যেই নর-নারীর সম্পর্কের জটিল রসায়ন একটি জনপ্রিয় বিষয়। বাংলা সাহিত্যের ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসেও এ চিরায়ত বিষয়টি উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০ বছর সামহোয়্যারইন ব্লগে: লেখক না হয়েও টিকে থাকা এক ব্লগারের কাহিনি B-)

লিখেছেন নতুন, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪২



২০২৬ সালে আরেকটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেগেছে একটু আগে।

ব্লগার হিসেবে ২০ বছর পূর্ন হয়ে গেছে। :-B

পোস্ট করেছি: ৩৫০টি
মন্তব্য করেছি: ২৭০৭২টি
মন্তব্য পেয়েছি: ৮৬৬৭টি
ব্লগ লিখেছি: ২০ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×