শুরুটা করব কিভাবে বুঝতে পারছি না । আসলে গত দুই দিন ধরে মনের উপর প্রচণ্ড চাপ যাচ্ছে কিন্তু হাসি মুখে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছি ভাল আছি, অনেক ভালো ।
যাই হোক বাদ দিন । সেদিন সিরিয়ার একটা ডকুমেন্টারি দেখলাম । সত্যি বলতে সবাই আমাকে পাষাণ বলে কারণ আমার বুকে লোম কম । একদম নেই এর পর্যায়ে আরকি । কিন্তু এই আমি কষ্ট দেখতে পারিনা । কোন ধরনের কষ্ট ই দেখতে পারি না । আবার আমার কথা বলা শুরু করলাম । ভিডিওতে দেখলাম এক বাচ্চা মোটরসাইকেল গ্যারেজ এ কাজ করছে তার ইন্টার্ভিউ নিচ্ছে । ছেলেটা শুধু কাদছে । ফাকে ফালে জানলাম তার কেউ ই বেচে নেই । তার ভাই আর দাদা কে তার সামনে ই মেরে ফেলেছে । কত ই বয়স ছিল বাচ্চার দশ কি বারো । তাদের স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে । সে এটাও বলেছে অন্য দেশের বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে কিন্তু তারা পারে না । মনে একটা প্রচণ্ড চাপ আসল ।
ঠিক তারপর ই রাস্তায় ছিলাম বাসায় ফিরছি অফিস থেকে । শ্যামলী থেকে লেগুনাতে উঠলাম । দেখলাম ওই শিশুর মত ঠিক একটা বাচ্চা লেগুনার হেল্পার এর কাজ করছে । একে তো ডকুমেন্টারি দেখে মন ভার তার উপর এই দৃশ্য আমাকে পুরো অসহায় করে দিল । হাত পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছিল । এক বার ভাবুন সিরিয়ার ছেলেটি স্কুলে যেতে পারছে না তাদের সব ধ্বংস । আর আমাদের স্কুল থাকা সত্ত্বেও আমরা এদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি না । ছেলেটাকে পাচ টাকা বেশি দিলাম । তারপর নেমে বাসায় আসলাম ।
এই দিকে আবার ধর্ষণ বেরেই যাচ্ছে । অপরাধীদের ধরা হয়েছে । কিন্তু শাস্তি হবে তো? প্রশ্নটা থেকেই যায় । কারণ বাংলাদেশ বলে কথা । সারা দেশ এ যেভাবে ধর্ষণ চলছে কত দিন সহ্য করতে পারব নিজেও জানি না । রাজধানীর ঘটনাটা না হয় সবাই মিলে একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছে । কিন্তু তেতুলিয়াতে যে মেয়েটা ধর্ষণ হচ্ছে সেটা মিডিয়াতে আসছে না । কারণ টিআরপি নেই তো । গাজীপুর এ যে বাবা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে সেটা তলিয়ে যাবে অচিরেই কারণ টিআরপি নেই তো । অখ্যাত মানুষের জন্য কোন দরজা খোলা নেই । আমার জলি এলএলবি এর একটা ডায়লগ খুব ভালো লাগে, যখন এদের ইনসাফ এর কথা আসে তখন সব রাস্তা বা দরজা বন্ধ হয়ে যায় ।
এবার মিডিয়াদের নিয়ে কিছু বলি । জানি অনেক ই ক্ষেপে যাবেন । আপনারা টিআরপি এর জন্য অনেক কিছু ই করেন । অনেক সময় যেটার প্রয়োজন নেই তাও করেন । টক মিষ্টি ঝালা অনেক শো করেন । কিন্তু আপনাদের কাজ খালি সত্য উম্মোচন করা নয় । তার থেকে আরো বেশি কিছু । শুধু সত্যকে তুলে ধরে ই আপনারা আপনাদের দায়িত্ব শেষ করে দিতে পারেন না । কিছু দায়িত্ব নিজ থেকে নিয়ে নিতে হয় ।
এসব কথার মানে কি আমি হতাশবাদী? না আমি আশায় বুক বাধি বার বার । হাল ছুটে গেলে বার বার হাল ধরি । পরিবর্তন আসবেই । আজ নয়ত কাল । এক দিন ভোরের সূর্য দেখব এক নতুন আশার আলো নিয়ে উদিত হয়েছে । সব কিছু যেন সুন্দর প্রকৃতির এক নতুন আবির্ভাব ঘটছে ।
আশায় আছি ।
সুস্থ থাকুন । ভালো থাকুন । আপনার চারপাশ পরিস্কার রাখুন ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



