somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

লুকা পৃথিবীর এক অজানা সত্যঃ দ্যা কিল সুইচ (বুক রিভিউ)

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :







এই পৃথিবীতে প্রানের সঞ্চার হবার আগে কেমন ছিল?

.

পৃথিবীতে মানুষের আসার আগে কি ছিল? ক্যামেন ই বা ছিল সেই সময়ের জীবন । মানুষ ছাড়া এই পৃথিবীর দৃশ্যপট দেখতে কেমন ছিল একবার কল্পনা করুন তো । চোখের সামনে সবুজের অভয়ারন্য এবং পৃথিবীর এক প্রকৃত রূপ । কিন্তু হঠাৎ করেই জন্ম নেয় “লুক” যার কারনে পৃথিবীতে এক ধ্বংস ।

.

ডাঃ ডি ক্লার্ক, সৈন্যদের চিকিৎসক । তিনি শুধু একজন ডাক্তার ই নন ইতিহাসবিদও বটে । বোয়ের যুদ্ধে গুহায় আটক অবস্থায় সৈন্যদের চিকিৎসা দেয়াই ছিল তার একমাত্র কাজ । কিন্তু এক অজানা কারনে সৈন্যদের দেহের ভেতরে পচন ধরে । ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পরে প্লাটুন জুড়ে । আস্তে আস্তে তিনি আবিস্কার করে ফেলেন পৃথিবীর এক অজানা তথ্য । যা হয়ত মানব কল্যানের উপকারে আসবে, নয়ত ধ্বংস করে দেবে পুরো পৃথিবীকে । তাহলে কে বাচাবে এই পৃথিবীকে?

.

টাকার ওয়েন ও কেইন দুজনেই হরিহর আত্মা । একজন আর একজন কে ছাড়া চলে না । তবে তাদের বন্ধুত্বটা হয়েছে আর্মি রেঞ্জে থাকার সময় । তবে কেইন কোন মানুষ নয় । কেইন হচ্ছে বেলজিয়ান শেফার্ড কুকুর । আর্মি রেঞ্জে থাকার সময় থেকেই টাকারের সাথে রয়েছে কেইন । যদিও এক যুদ্ধে এব্যেল কেইন কে হারাতে হয় ওদের । সেই স্মৃতি টাকারের মনে সব সময় নাড়া দেয় । তাই কেইন কে চোখের সামনেই রাখে টাকার । আর্মি রেঞ্জ ছেড়ে আসার পরও তারা একই সাথে রয়েছে ।

.

টাকার ও কেইন এখন কাজ করে স্বাধীন ভাবে । নিকৃষ্টকে নিকৃষ্টতমের হাত থেকে রক্ষা করাই ওদের কাজ । অনেকটা খুশি মনেই এই কাজ করে । যদিও জানে এতে বিপদ আছে । জীবনের ঝুকি আছে তবুও করে । রাশিয়ান বিলিয়োনিয়ার বোগদান ফেদোসিভকে গুপ্ত ঘাতকের কাছ থেকে বাচায় ওরা । তবে ঠিক সেই সময় সিগমা কমান্ডারের একটা ফোনে নতুন মিশনে জড়িয়ে পরে ওরা ।

.

রাশিয়া থেকে বের করে নিয়ে যেতে হবে বিলিয়োনিয়ার এবং সেই সাথে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আব্রাম বুকোলভ কে । তবে এখানে সমস্যাটা শুরু হয় । বিজ্ঞানী একা যেতে চান না । তার সহকারীদের ও নিয়ে যেতে হবে । কারণ অনেক গুরুত্বপূর্ন একটা আবিস্কার করে ফেলেছেন তিনি । সেই আবিস্কারের পেছনে লেগেছে এক রাশিয়ান জেনারেল খাযরিন । যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই আবিস্কার নিজের করে নেয়া । যাতে অন্য কেউ সেটা হাতিয়ে নিতে না পারে । অন্য দিকে আব্রাম চান সেটা মানব কল্যানে কাজে লাগানো হোক ।

.

তার আবিস্কার হচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক “লুকা” । হ্যা লুকা আবিস্কার করে ফেলেছেন আব্রাম । এখন সেই রাশিয়ান জেনারেল তার কাছ থেকে সেই তথ্য নিতে চান । দরকার হলে তাকে মেরে ফেলেও সেই তথ্য তার নিতেই হবে ।

.

শুরু হয় মিশন “লুকা” । তবে প্রতি পদে পদে যে বিপদের হাতছানি সেটা টাকার জানত । তবে তার বিস্ময় হচ্ছে শত্রু পক্ষ সব সময় তাদের অবস্থান জেনে যাচ্ছে । তার মানে তাদের মধ্যেই কেউ একজন বিশ্বাসঘাতক, তবে বের করার উপায় নেই । শেষ পর্যন্ত টাকার কে অপেক্ষা করতে হবে । লুকা খুজে বের করতে হবে ।

.

লুকার রহস্যের মাঝেই রয়েছে সব কিছুর সমাধান । লুকা খুজতে যেতে হবে অনেক দূর তাও সেটা সঠিক জায়গা কিনা সেটাও দেখার বিষয় । অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে দেয়ার মত । তবে লুকা কি সত্যি রয়েছে । নাকি মরিচীকার পেছনে দৌড়োচ্ছে ওরা । আর লুকা পেয়ে গেলেই বা কি হবে । কি ভাবে রক্ষা করবে লুকাকে ।

.

রাশিয়া থেকে নামিবিয়া, সেখান থেকে আমেরিকা । কার জয় হলো? কে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে? লুকার ই বা কি হয়েছে । মানুষ কি লুকার কথা জানতে পেরেছে । নাকি লুকা মানুষে মাঝে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছে ।

.

সব রহস্য ও ধাধার উত্তর পাওয়া যাবে “দ্য কিল সুইচ” এই বইতে । জেমস রলিন্স ও গ্র্যান্ট ব্ল্যাকউড এর টাকার ওয়েইন সিরিজের প্রথম বই এটি ।

.

বইটি শুরু করার সময়টা আমার কাছে মনে হয় ঠেলাগাড়ি ঠেলার মত । আসলে থ্রিলারের শুরু এভাবেই হয় । তাও শুরু দিক শেষ করতে আমার একটু কষ্ট হয়েছে । তারপর তো যখন রহস্যে গভীর হওয়া শুরু করল, তখন বই ছেড়ে আর উঠতে ইচ্ছে হচ্ছিল না । রহস্যের গভীরতা শুধু টেনেছে ।

.

মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি শুরুতে এক রকম ধারনা করবেন যখন পড়বেন । শেষে যেয়ে চমকে যেতে হবে । এটা হবেই । প্রতি পৃষ্ঠাতেই আপনার জন্য চমক থাকছে । তবে বইটি রহস্যের চেয়ে এডভেঞ্চার বেশি । মনে হবে চোখের সামনে হচ্ছে । একবার আমার মনে হয়েছে আমি কোন মুভি দেখছি । একশন থ্রিলার মুভি ।

.

আপনি একবার পড়া শুরু করে যদি বইয়ের ভেতর ঢুবে যান মনে হবে আপনিও ঠিক সেই জায়গাতে রয়েছে । এক একটা জায়গার বর্ননা অনেক নিক্ষুত ভাবে দেয়া হয়েছে । তাছাড়া বইয়ের শেষে সব কিছুর একটা ছোট বর্ননা দেয়া হয়েছে । যেখানে বইয়ের ঘটনা ক্রম গুলোর বর্ন্না উঠে এসেছে ।

.

পরিশেষে বলব, “দ্য কিল সুইচ” বইটি আপনাকে একটা পুরোপুরি একশন এডভেঞ্চারের স্বাদ এনে দিতে পারে । বই পড়ুন । ভাল থাকুন । ধন্যবাদ ।

বইঃ দ্য কিল সুইচ
লেখকঃ জেমস রলিন্স ও গ্রান্ট ব্ল্যাকউড
অনুবাদঃ মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:১৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×