তিন মাস গেলো না। আবার বাড়ি বদল। ঘুইরা ফিরা বনশ্রীতেই। আমার মা পারলে এখনই সব বাইন্ধা রাখে, 1 তারিখ ট্রাক আসলে উঠাইয়া দিব। তার তর সইতাছে না।
আমার রুমে তার ঢুকা নিষেধ। এই একটা কারণেই। কইছি সময় আসলেই সব গুছামু। কাল রাইতে নেট নাই। বইসা কোনো কামও পাইতাছি না। ভাবলাম টেবিলটা গুছাই। টেবিল বলতে ওইটার নিচের তাকে ডাই করা বইপত্র। গুতা দিতেই পড়ল বইটা। তাজমহলের ছবি দেওয়া।
যেই বইটা দিছিল, তার নিশ্চয়ই আমার শিল্পবোধের উপর অগাধ আস্থা ছিল। কিন্তু জার্মান ভাষায় আমারে তাজমহল সম্পর্কে কেনো জানতে হইব সেই ব্যাখ্যা তার কাছে আর চাওয়া হয় নাই। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে জিগাই, সময়ই পাই না।
মনে পড়ল একসময়কার এক খাইস্টা অভ্যাসের কথা। একসময় বান্ধবী পাতাইলেই এক সপ্তাহের মধ্যে জন্মদিন ফেলতাম। অবধারিত গিফট। সেই গিফট আবার অন্য বান্ধবীগো গিফট কইরা ক্রেডিট নিতাম। এই বইটা দেইখা গল্পটা কেন মনে পড়ল সেটার কোনো ব্যাখ্যা নাই। কিন্তু জার্মান ভাষায় তাজমহলের বই!
সেইদিন তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। একসঙ্গে সিনেমা দেখার কথা। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দিয়া মুগ্ধ করছিল আমারে। মুভ্যি আমাদেরই দোতলায়। যায়যায়দিন কমপ্লেঙ্।ে সে আসল। সিএনজিতে চড়ে। ভাংতি নাই। আমি বললাম আমি দিই। সে বলল না, টাকাটা ভাঙাইয়া দাও। কি ব্যক্তিত্ব আমি মুগ্ধ।
সিনেমা দেখতে গিয়া আরো তব্দা! একটু রোমান্টিক ছবি। আমার অতিথি একটু পরপর হাইস্যা গড়াগড়ি খায়। ইংরেজি আমি খুব ভালো না বুঝলেও বুঝি অল্পস্বল্প। আশে পাশের মানুষের মতো আমিও অবাক হই। নিজের সীমিত জ্ঞানের জন্য লজ্জা পাই। 'এই ডায়লগে সে ক্যানো হাসে, আমি কেনো নয়' জাতীয় লজ্জাবোধ আমারে অবনত করে। আরো রাগ হয় এই সিনেমাটা কমেডি কেনো লিখে নাই।
এরপর খাইতে যাই পিজা হাটে। পিজা হাট হেলভেশিয়ার মতো না, এইখানে খাইয়া পরে বিল দেওয়া যায়। থামার ঠিক আগে বাইক উল্টাইয়া গেছিল। আমার সঙ্গী পাছার ধুলা ঝাইরা সোজা কোনো দিকে না তাকাইয়া হাইটা গেছে। আমি বাইকের ধুলা মুইছা পার্ক করছি। কি লজ্জা কি লজ্জা! আমি কিছু খাইতে পারি না। উনি বিল দিতে চান। আমি কই না না আমি দিই। সে বলে আমি ফেমিলির জন্যও অর্ডার দিছি। আমি কই তাতে কি! একটু আগেই যে 50 টাকা নিতে চাইল না, সে দুই হাজার টাকা আমারে বিল চুকাইতে দিবে? অসম্ভব! না, সে দয়া কইরা দিল। আমার না খাওয়া পিজা আর আরো কিছু আইটেম পিজা হাটের প্যাকেট চইড়া তার বগল দাবায় বাসায় গেলো।
রাইতে আইল দুঃসংবাদ- এই কে জানি আমারে তোমার বাইকের পিছনে দেইখ্যা আমার বাবারে বিচার দিছে। সো তোমার সঙ্গে আর ঘুরা হবে না আমার। আমার দুঃখে গাছের পাতা কানছে সেইদিন।
যাউগ্গা। রিফাত ভাইজান কই? আপনার ক্লাস কি এখনও চলে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




