somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘The Most Illegal Things in the World is…….Being A Middle Class Schmuck’

২৫ শে মে, ২০১২ দুপুর ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘The Most Illegal Things in the World is…….Being A Middle Class (Even Financial or Even Mentally) Schmuck’
আমরা উন্নতশীল একটা দেশে বাস করি,যেখানে মানুষ নিজের চোখ থেকে নয় শুধু অন্যের চোখের মাঝে দেখা উন্নত জীবন-যাপন নামক এক অপ্রয়োজনীয় মরিচিকার আশায় সারা জীবন কষ্ট করে যায়। যেখান-কার বেশির-ভাগ মানুষ মধ্য-বিত্ত নামের একটা বৃত্তের জালের দ্বারা চারপাশ থেকে আবদ্ধ।
মধ্য-বিত্তের বৃত্তটা কখনো 'উচ্চ-মধ্য-বিত্ত' , কখনো 'শুধু-মধ্য-বিত্ত', আবার কখনো 'নিম্ম-মধ্য-বিত্ত' নাম করে আমাদের মানসিক স্বাধীনতার সক্রিয়তা আমাদের থেকে কখন যে নিরবে-নৃবিত্তে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা আমরা মনে হয় নিজেরাই জানিনা।
মাঝে মাঝে যখন কোনো মানুষের মুখেই শুনি অথবা বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে 'মানুষ সার্থ্বপর' ......তখন আসলেই খারাপ লাগে।
'মানুষ সার্থ্বপর', আসলেই কি তাই!!!
আমার আসলে দেশের বহিরের মানুষের জীবন-যাপন পক্রিয়া পুরোপুরি ভাবে কখোনো দেখা হয়নি, কিন্ত দেখেছি, আমি এবং আমার চারপাশের মানুষ, আর চলমান মধ্য-বিত্ত(উচ্চ-মধ্য-বিত্ত কিংবা নিম্ম-মধ্য-বিত্ত) গন্ডিতে আবদ্ধ কিছু মানুষের জীবন-যাপন পক্রিয়া।
এখান-কার মানুষ জন্মের পর বুঝ ক্ষমতা আসার পর থেকই নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্যে নয়, শুধু অন্যের চাওয়া-পাওয়াকে পুরন করার জন্যে জীবন নামক ঘোড়া-দৌড় প্রতিযোগিতায় নিজেকে সামিল করে নেয়।
ছোট-বেলায় আকাশে প্লেন চলা দেখলে ছোট বাচ্চার বড় হয়ে পাইলট হওয়ার ইচ্ছা জাগে, আপাত দৃষ্টিতে বাচ্চাটার মনের ইচ্ছা মনে হলেও আসলে তা নয়, মুলত অন্য বড়রা সবাই আকাশে প্লেন চলাকলে প্লেনের দিকে অবাক হয়ে হা করে তাকিয়ে থাকে বলে ছোট বাচ্চার বড় হয়ে পাইলট হওয়ার ইচ্ছা জাগে, আমার মতে এটা তার একান্ত মনের ইচ্ছা নয়।
তারপর ধিরে ধিরে বাচ্চাটা পর্যাপ্ত বড় হওয়ার আগেই বাবা-মায়ের চাওয়া-পাওয়া, সন্তানকে বড় নামকরা স্কুলে ভর্তি করার সপ্নকে বাস্তবায়ন করতে বাচ্চাটা মানুষ হয়েও ঘোড়ার মতো দৌড়াতে থাকে, এক সময় তা হয়ত পুরন হয়, তারপর....!
তারপর, অনেক সময় ইচ্ছা না করলেও বাবা-মা আর স্কুলের ভাল রেজাল্টের সপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আবার যুদ্ধ, কখোনো সফল, কখোনো বিফল। যদিও তার কি ইচ্ছা তা জানা আর হয়না।
তারপর....এভাবে কলেজ ভর্তি আর রেজাল্ট যুদ্ধ সমান তালে চলে.....মাঝে science নাকি commerce নাকি Arts নিবে, তা বাবা-মা আর প্রতিষ্ঠান দারা নির্ধারিত হয়, তার ইচ্ছা এখানে কোন অর্থ রাখে না। ভাল করলে স্যারের সাথে সাথে সমাজের সবাই বলবে, 'জানতাম এই ছেলে ভাল করবে' আর খারাপ হলে বলবে আমি আগেই বলেছি, এর দ্বারা কিছুই হবেনা' ।
এরপর ভার্সিটি আর সাবজেক্ট সিলেকশনের পালা। এখানে প্রাধান্ন পায় পরিবার আর সমাজের অন্যান্যদের চাওয়া-পাওয়া। কি পড়লে বা কোথায় পড়লে লোকে বাহ বাহ দিবে,আর কি পড়লে বা কোথায় পড়লে লোকে ছিঃ ছিঃ বলবে তা অজান্তেই মুল উদ্দেশ্য হয়ে পরে, সেটা পাবলিক ভার্সিটি হোক বা প্রাইভেটভার্সিটি হোক। জীবনটা যার, তার মতামত এখানে নগন্য, কখোনো তার মতামতটা প্রাধান্ন দিলেও, ভালভাবে লক্ষ করলে দেখা যায় তার মতামত অন্যদের সাথে মিলে বলেই তার মতামতটা প্রাধান্ন পাচ্ছে। ছাত্র-জীবন আনন্দের, এই ভাবনার আশা তার কাছে হতাশা-রুপে আবির্ভুত হয়।
তারপর.....বাবা-মা কেন্দ্রিক পরিবার, বন্ধু-বান্দবের গন্ডি, আস-পাশের বসোবাস-কৃত মানুষ আর সমাজের চেনা-অচেনা হাজারো মানুষের লক্ষাদিক সপ্ন পুরন করতে করতে ঐ বাচ্চা তার অধিকারের কৈশরকে বলি দিয়ে কর্তব্যের যৌবনে পদার্পন করে।
মানুষ সংসারিক জীব বলে সংসার করা শুরু করে, অজানা বা সাময়িক চেনা-জানা কারও সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসারের কর্তা-কর্তী রুপ ধারন করে। এখানে তার অধিকার অম্লান হয়ে কর্তব্যের বেড়াজাল উজ্জল হয়ে উঠে।
সমাজ স্বীকৃত সংসার যুদ্ধে আজ এই দরকার কাল ঐ দরকার করে করে তার ইচ্ছা তার নিজের দরকারের খাতা থেকেই মুছে যায়।
সে কারও ক্ষতি করলেও, তা করে সংসারের প্রয়োজনে বা সমাজের প্রয়োজনে বা বন্ধু-বান্ধবের প্রয়োজনে, একান্ত নিজর প্রয়োজনে কখোনো তা করার সুযোগ-ই পায় না।
সংসার আর সমাজের সবার মুখ রক্ষা করার জন্যে এত কষ্ট আর ত্যাগ স্বীকার করার পরেও শেষ বয়সে সন্তানের ভবিষ্যত আর লোকে সুনাম করার আশায় সন্তানকে নিজর কাছ থেকে দুরে বা দেশের বাহিরে সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যতের আশায় পাঠিয়ে, শেষ বয়সও একা থাকতে হয়।
কখন যে নিজের ভবিষ্যতেকে অতীতে রুপান্তরিত করে দেয় তা আর টের পায়না, টের পেলেও তখন আর কিছুই করার থাকেনা।
আমার এক বন্ধুর বাবা দেখেছি, যার সব-কিছু থাকা সত্বেও শেষ বয়সেও সকল(৪ জন) সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যতের আশায় বাহিরে পাঠিয়ে নিজে রান্না করে খেয়ে বেচে থাকতে হচ্ছে।
যখন বিশ্রাম নেওয়ার সময় তখনো খেটে যাচ্ছে নিজ ইচ্ছা থেকে নয়, শুধু সমাজের মানুষ কি বলবে তার প্রতিরোধ করতে।
আমার এক বন্ধুকে দেখেছি, রেজাল্ট যথেষ্ট ভাল তরা স্বত্তেও খালি হা-হুতাশ। এটা আমায় ভাবায়, এটা কি! আগে যাওয়ার প্রেরনা, নাকি হতাশা, নাকি অতুষ্টি মনোভাব।
সমাজের কাছে মুখ উজাজল করার চেষ্টার হতাশা নামক আগে যাওয়ার প্রেরনার অতুষ্টি মনোভাব কখোনো কি তাকে আত্ত্ব-তুষ্টির শান্তির সুযোগ দেয়?
অন্যে আমার থেকে একটু ভাল খাওয়া খায় বা একটু আরামে চলে বলে কি আমি আমার সধারন ভাবে ডাল-ভাতের জীবন নিয়া হা-হুতাশ করব! এই অতুষ্টি মনোভাবের মানে কি, এর দ্বারা মনের অশান্তি ছাড়া আর কিই বা পাওয়া যাবে।একটু ভাল খাওয়া আর একটু আরামে চলার চেষ্টা মোটেও খারাপ কিছুনা, কিন্ত সমস্যাটা হচ্ছে তা কেন অন্যের দেখাদেখি করতে হবে? অন্যের প্রভাবে না করে নিজের ইচ্ছায় কেন নয়! অামি একজনকে একবার দেখলাম ধানমন্ডিতে বড় একটা চাইনিজ-এ একটা নামকরা স্পেশাল মেনু খাচ্ছে, তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল মেনুটা তার মোটেও পছন্দের না, তারপরেও সাথের সবাইকে দেখানোর জন্যে অকারনে নামে দামী মেনুটা খাচ্ছে, আর খুব ভাল-লাগছে-এটা বুজানোর জন্যে বৃথা ভান করছে।
আজ-কাল ফ্যাশনের নামে নেরো জিন্স খুব চলছে, যেটা পরে ঠিকমতো উঠা-বসা করাই দুস্কর, মোটেও আরাম-দায়ক নয়, শুধু অন্যের কাছে নিজিকে সুন্দর পন্যরুপে উপস্থাপন করার জন্যে নেরো জিন্স সহ বেশির-ভাগ ফ্যাশনাবল বস্তু ব্যাবহার করার জন্যে আমরা সবাই উঠে-পড়ে লেগেছি।
কম-বেশি আমরা সবাই খাওয়া কম খাওয়ার মাধ্যমে ডায়েট কন্ট্রোল করতেছি, এতে নিজের শরীর ভাল থাকবে, তা মোটেও এই চিন্তা থেকে করি না, যে যাই বলুক না কেন! আমরা করতেছি লোকে আমাকে দেখলে আমার ফিগার নিয়ে বাহঃ বাহঃ দিবে বলে, এই শরীল আমার, তারপরেও এখানেও নিজের চাহিদা বলতে কিছুই নাই।
প্রতিটা আগামী কালকে অন্যের চোখেতে দেখা ইচ্ছা-পুরন করতে করতে আমরা অজান্তেই আমাদের প্রতিটা আজকের দিনটাকে কুরবানী দিচ্ছি।
আগামী আগামী করে করে বর্তমান সময়টা যে অতীত হয়ে যাচ্ছে, তা মনে হয় আমরা কেউ-ই খেয়াল করি না। এই আগামী টা কোন আগামী , তা সঠিক ভাবে না জেনেই সবাই আগামীর পিছনে ছুটতেছি । কেউ কি সত্যিকার অর্থে আগামীকে ধরতে পেরেছে!
অতীত সরাসরি দেখা যায়না শুধু ফিরে দেখা ছাড়া আর আগামীকে কেইবা দেখছে! অথচ বর্তমান আমাদের সরাসরি হাতে থাকা সত্ত্বেও আমরা এর কদর-ই করতেছিনা।
বেশি আরামে সমাজে চলতে 'টাকা', একজনকে খুশি করতে অন্যের উপর কোনো কিছু প্রয়োগ করতে 'ক্ষমতা', আর লোকে ভাল-খারাপ বলার জন্য পর্যাপ্ত 'সম্মান' অর্জন করার পাগলা-দৌড়ে অংশ গ্রহন করতে করতে নিজের জন্যে আর কিছুই করা হয়না।
ভাল বা খারাপ কোনোটাই নিজের জন্যে আর করা হয়না, অন্যের জন্যে ছাড়া।
আমার চোখে এখানে কোনো নিজ-স্বার্থ নাই। তাই বলে নিঃস্বার্থ না, এটা নিছক পাগলামী ছাড়া আর কিছুই নয়। যে নিজের চাওয়া-পাওয়া বা স্বার্থ সম্পর্কে নিজেই অজ্ঞাত, তার দ্বারা নিঃস্বার্থ কাজ তো দুরের কথা স্বার্থ-বহুল কাজ করাও সম্ভব না। আশা করাও বড় ধরনের বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমরা ভাল করলে অন্য কোনো বড় ব্যক্তিত্তের সাথে মিলতে চেষ্টা করি, আর খারাপ করলে বিল-গেটসের ছাত্র-জীবনের সাথে মিলাতে চেষ্টা করি। কখোনো নিজেকে নিজের সাথে মিলাই না। নিজের চোখে নিজে কি পেলাম তা না দেখে অন্যের চোখে নিজে কি পেলাম তা নিয়ে-ই সদা ব্যাস্ত থাকি।
আদৌও মিলাতে পারব কিনা তা মনে হয় আমরা নিজেরাই জানিনা।
কতো Tensionless মানুষকে নিজের মতামত থেকে নয় শুধু সমাজের অন্যান্যদের মতামতের ভয়ে মাথা ভর্তি Tension নিয়া নিজেকে অন্যদের মতামতের ভিরে ডুবে যাইতে তো দেখলাম। সবাই তাই করতেছে, আর যেহেতু আমিও সবার মাঝে একজন, তাই আমাকেও যেতে হবে অনেক অহেতুক চেষ্টার পরে। কিছুই করার নাই শুধু এভাবে বলতে চাওয়া ছাড়া, কারন আমি ভিতুদের মাঝের-ই একজন, আমি পারবনা নিজের চাওয়া-পাওয়াকে প্রতিষ্ঠা করতে যাইয়া সমাজের অন্য সবার সাথে মনস-তাত্তিক যুদ্ধ ঘোষনা করতে, আশা করি মধ্যবিত্তের বেড়াজালে আবদ্ধ কেউ পারবেনা, সেটা অর্থনৈতিক বা মানসিক যেই কারনেই হোক না কেন। সবাই মনে হয় একই, সে বুয়েট বা ঢাবি বা যে কোনো পাবলিক ভার্সিটি বা প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্র হোক অথবা যে কোনো পর্যায়ের যে কোনো মানুষ-ই হোক না কেন!
আমরা সামরিক, অর্থনৈতিক, পলিটিকাল ভাবে অন্তত নামে স্বাধীন হলেও মানসিক ভাবে কেউ-ই স্বাধীন না। জানি তা এই সমাজে সম্ভব না, ভবিষ্যতে হলেও হতে পারে, তারপরেও তাতে বড় ধরনের কিছু হয়ে যাবে, ভাল কিছু অথবা খারাপ কিছু, কিন্তু সমাজের বেড়া-জাল নামক দত্যটার তা পুরোদমে হজম করতে অনেক কষ্ট হবে, সময়ও লাগবে।
আমাদের মানসিক স্বাধীনতা পরিপার্ষিক বিষয় বস্তু আর মানুষের দাড়া আবদ্ধিত। এই সম্পর্কে একটা ঘটনা মনে পরে গেল।
বোদ্ধ ধর্মের বার্তা-বাহক গৌতম বুদ্ধের কাছে একবার এক লোক এসে পুরোপুরি ব্যাক্তিক মানসিক স্বাধীনতা কি তা জানতে চাইলো, গৌতম বুদ্ধ বললেন সামনের রাস্তায় যাকে যাকে দেখবে সবার মুখে খাপ্পর দিয়ে তাদের পরবর্তী কার্য-কলাপ দেখে এসে আমার কাছে বলো। লোকটি সবার মুখে থাপ্পর মেরে আসার পর গৌতম বুদ্ধের কাছে ফিরে আসলো। গৌতম বুদ্ধ বলল, কি দেখলা? লোকটি বলল সবার মুখে আপনার কথা মতো খাপ্পর মারার পর একজন ছাড়া সবাই আমাকে সাথে সাথে উল্টো খাপ্পর মেরে বসল, শুধু একজন কিছু না বলে সে খাপ্পর খাওয়ার পর উল্টো খাপ্পর না দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে তার পথে হেটে চলে গেল।
গৌতম বুদ্ধ বললেন ঔ লোকটিই পুরোপুরি ব্যাক্তিক মানসিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারতেছে, কারন পরিবেশের প্বার্শক্রিয়া তার উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে নাই। যদিও এখানে আত্ব-সম্মান বোধের ধারাটাকে উজ্য রাখা হয়েছে, তারপরেও তখনকার দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে এখানে হয়তো লোকটার আত্ব-সম্মান বোধের অভাব নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে। কিন্তু আমরা একবারও কি চিন্তা তরে দেখেছি এই আত্ব-সম্মান বোধও আমাদের নিজদের সৃষ্টি না, অন্যের দ্বারা পরিচালিত। পাছে লোক কি বলবে বা ভাববে তাই আমাদের আত্ব-সম্মান বোধের কারিগর হয়ে দাড়িয়েছে । অন্যের বোধ-কে নিজের মনে করে নিজের বোধ-কে অকালে অকারনে বিলিয়ে দিচ্ছি।
আমরা যদি শুধু সমাজে ভাল ভাবে চলার জন্য আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো কিছু করে বড় কিছু বা বড় কেউ হয়েও যাই, তাতে শুধু আমার আশ-পাশের মানুষের লাভ, তারা বলতে পারবে উমুক নামকরা লোকটা আমার বন্ধু অথবা ঔ কাজ যে করেছে সে আমার পরিবারের একজন। কিন্তু এখানে আমার কি স্বার্থ বা কিইবা লাভ আছে?
আমরা মধ্যিবত্ত নামক মানসীক কারাগারের সকল কয়েদীরা পরিবর্তনকে ভয় পাই, তাই নতুন কোনো কিছু না নিয়ে পুরোনোকে বার বার পুনরার্বিতী করে করে অজান্তেই নিজেদেরকে নিজেরাই ঠকাচ্ছি। পুরোনো চালে ভাত বাড়ে, এই আশায় ছোট হলেও নতুন নৌকা না নিয়ে পুরোনো বড় কিন্তু মাঝে ফুটা ওয়ালা নৌকা নিয়া জীবন-যাপন নামক নদীতে নেমে পরি, আর মাঝ পথে যাইয়া খালি ফুটো দিয়ে উদগিত পানি সরাতে সরাতে বাকী জীবন পার করে দেই, শান্তিতে নদী পার হওয়া আর হয়না।
এই ধরনের কার্য-কলাপ কখনোই স্বার্থহীন বা নিঃস্বার্থের পরিচয় বহন করতে পারেনা । এটা নিছক অবুজ মানুষের স্বভাব-কেন্দ্রিক পাগলামী ছাড়া আর কিছুই হতে পারেনা।
অনকে শুনছি, মানুষের জন্য অন্যান্য প্রাণী-কুলের সৃষ্টি, আসলে পুরোটাই উলাটো। আমার মতে, অন্যান্য প্রাণী-কুলের জন্য মানুষর সৃষ্টি। মানুষ নিজদেরে জন্যেও সৃষ্টি না।
আমি কেন সঠিক ভাবে কেউ হয়ত বলতে পারবেনা যে, আমাদের মানসীক মধ্যবিত্ত নামক বৃত্তের মাঝে লোকে কি বলবে বা ভাববে, শুধু এই ধারনার থেকে বাচতে যাইয়া এই পাগলা ঘোড়ার দৌড় কবে থামবে! আরে ঘোড়াও তো বিশ্রামের জন্যে মাঝে মাঝে থামে, কিন্তু নামকা-ওয়াস্তে শ্রেষ্ট জীব বলে কি আমরা থামবই না, কতো-কাল এভাবে চলবে!
আসলে আমি এত কিছু বলতে গিয়ে মোটেও এই কথা বুঝাতে চাচ্ছি না যে, আমি স্রোতের বিপরীতে একজন, আমি সমাজে মুখ-রক্ষা স্রোতের মধ্যেকার একজন, ‘জীবন যেখানে যেমন’ এই তত্ত নিয়ে হয়ত শুধু মাঝ পথে যাইয়া হয়ত অহেতুক পিছনে ফিরে দেখা চেষ্টা করা-দের দলের একজন, এর বেশি মনে হয় আর কিছুই না।
অন্জন দত্তের একটা গানের কিছু লাইন আজ খু্‌ব মনে পরছে, যা আমার মনে গেথেঁ আছে.......
.
.
.
[link]‘‘আমার আকাশ আমি যতই হাজার অন্য রঙ্গে আকিঁ, আকাশ সে তো নীল-ই থেকে যায়..
আমার সাদা-কালো শহর, সে তো সাদা-কালোই থাকে, আমি যতই নানান নিয়ম চালাই..
আমি অন্য কারো হাতর ভেতর এক মুঠো ছাই..
আমি অন্য কিছু নই, আমি সবাই..’’

.
.
.
.
.
[[ মধ্যবিত্তের গন্ডির ভেতরের মানুষ বলে, কিছুটা না চাইলেও আর কিছুটা অজান্তেই নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্ন না দিয়ে সারা জীবন সবাই কেন্দ্রীক আমিও অন্যের ইচ্ছাকে প্রাধান্ন দিয়ে বোকার মতো অজান্তেই তা পালন করে আসছি।
কেন জানি মনে হচ্ছে এই লেখাটা শুধু একান্তই নিজের মনের খোরাকের তাগিদেই লিখেছি, এতে কে কি বলবে বা কে কি ভাবে বিষয়টা দেখবে বা ভাববে, তা আমার দেখার বিষয় না। অনেকে হয়তো বলবে, কিরে ওসামা ভাবুক ফিলোসোফার( কোনো কিছু দেখে বুজে আসলে তা হয় ফিলোসোফার, আর বুজে না আসলে তা হয় সাইন্স) হয়ে গেলি নাকি! অথবা তোর মন খারাপ নাকি! অথবা তোর মাথা ঠিক আছে নাকি!... ইত্যাদী..ইত্যাদী। কিন্তু আমি এই মুহুতে তার পরওয়াও করতেছিনা...মানুষের বলার স্বাধীনতা আছে, সে বলবে। আমারও তো কিছু স্বাধীনতা আছে বা থাকা উচিত, তাই সবার সব-কথা সময় মাথায় নিতে হবে, তা তো কোনো কথা হতে পারেনা, মাথায় না নিলেই তো হয়!!!]]]]
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৪:৫২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×