কোনো কোনো তরুণীকে বলতে শোনা যায়, স্বপ্ন ছিল সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিব, কিন্তু যখন জানলাম বিষয়গুলো অনেক খারাপ তখন আর যাওয়া হয়নি। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় অল্প কয়েকজন। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গোটা জাতির জীবনাচারে। নাটক-সিনেমার বিকৃত পোশাক আশাক সমাজের সাধারন রূপ লাভ করে।
তথাকথিত দেহ ও ভোগপূজারী নারীবাদীরা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা সমাজটাকে ওরকমই দেখতে চায়। কিন্তু সত্যপন্থী নারীরা কি এসবের বিরুদ্ধে সরব? উত্তর না। এক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে সত্যপন্থী তথা আলোকিত নারীদেরকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। অন্তত প্রেসক্লাবে একটা মানববন্ধন তো তারা করতে পারেন।
বলা হয়ে থাকে রুচিশীল তথা শালীন পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বেরর বিকাশ ঘটায়। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে নতুন প্রজন্মের একটা অংশ তার অন্ধ অনুকরণের শিকার।
তরুণীরা নিজেদের দেহ এমনভাবে দৃশ্যমান করে তুলছে। যা চিরায়ত বাঙালি সাংস্কৃতিক এবং সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে এক ধরনের মানসিক রোগ বা বিকৃতি। এমন প্রদর্শনপ্রিয়তা থেকে সমাজ শুধু রোগাক্রান্ত হবে এমন নয়, সমাজের অপরাধ প্রবণতাকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
সেক্স অরগান প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতা পাশ্চাত্যের বর্বর সমাজের বিষয়।
কিছুদিন আগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক এক ছাত্র তার একজন দুষ্টু বান্ধবীর সহযোগিতায় অপর এক বান্ধবীর গোসলের দৃশ্য ওয়েব সাইটে ছেড়ে দেয়ার পর বেশ হই চই পড়ে গিয়েছিল। অথচ একটি বহুজাতিক কোম্পানি তাদের সাবানের বিজ্ঞাপনে এর চেয়েও স্বল্পবসনে একজন তরুণীর গোসলের দৃশ্যকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে সুকৌশলে তাকে সমাজে স্বাভাবিক করে তুলে ধরে। এভাবে আকাশ সংস্কৃতি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে যা কি না যেকোনো সুস্থ সমাজে মানসিক রোগ বা বিকৃতি হিসেবে বিবেচিত, তাকে আকর্ষণীয় তথা ফ্যাশন হিসেবে তুলে ধরছে।
আমার বুঝ আসেনা, সকল ধরনের পণ্যের এ্যডে(কাপড়, সাবান, বিস্কুট, বডি-স্প্রে, মোবাইল, চেয়ার, বালতি.....) পন্যের তুলনায় কেন নারীকে বেশী ফোকাস করা হয়!
এই চলমান পক্রিয়া কি নারীর স্বাধীনতার পথ বানাচ্ছে নাকি পথটাকেই জঙ্গলে রুপান্তর করছে।
পোশাকের ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে এই বিপর্যয় খুবই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। তবে এর বিস্তৃতি প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যেখানে সব পাগলেও বস্ত্রহীন থাকে না, সেখানে কিছু কিছু তরুণীর বস্ত্র পরিধান করেও বস্ত্রহীনতার চেয়ে বেশি দৃষ্টিকটু পোশাক পরিধান করাটা খুবই অসুস্থ তথা অশালীন আচরণ।
দিনে দিনে নারী নিজকে পুরুষ-তান্ত্রিক পরাধীনতার হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যাইয়া অজান্তেই নিজেই কারাগারে রুপান্তরিত হয়ে নিজের নিজস্ব মুল্যবোধকেই ঔ কারাগারে নিমজ্জিত করছে।
হায়দার আলির একটা গানের কিছু লাইন আজ খু্ব মনে পরছে.....
.
.
[link]‘অনকেটা সময় পেরিয়ে, ভাবছি অবাক করে...
বিবেকটাকে দেখিনি, কখোনো প্রশ্ন করে...
আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি, হারিয়েছি মানুষত্ব...
মিথ্যে অহমিকায়, নিজেকে রেখেছি লিপ্ত...
আমি কি আর মানুষ বল, মানুষ-রুপি পন্য..
জীবন খাতার হিসেবে দেখি, পরে আছে শুন্য..
আমি নিস্ব, আমি নিস্ব, আমায় ভিক্ষা দাও আদর্শ....’
.
.
.
মানুষ আর অন্যান্য প্রানীদের মধ্যেকার প্রধানত পার্থক্য ছিল...নিজস্ব চিন্তা শক্তি, মুল্যবোধ আর সুস্থ বস্ত্র শালীনতা। সঠিক চিন্তা শক্তি আর মুল্যবোধ আমরা অনকে হারাইয়া বসেছি...আর সুস্থ বস্ত্র শালীনতা দিন দিন আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের সভ্য মানুষের এই কি বাস্তব চিত্র?
জানি না আমরা সভ্য হচ্ছি কি না...তবে মনুষ্যত্ব হারাচ্ছি এটা সত্য।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



