somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসুস্থ সমাজে তথাকথিত সুস্থ নামধারী প্রতিযোগীতার অপর এক নাম হচ্ছ সুন্দরী প্রতিযোগিতা.....

৩১ শে মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনদিন আমাদের অনুভূতিগুলো কেমন যেন ভোতা হয়ে যাচ্ছে। সবকিছু কেমন যেন গা সহা হয়ে যাচ্ছে। এক সময় টেলিভিশনে যেসব দৃশ্য একাকী দেখতে মানুষ লজ্জা পেত, এখন তা সপরিবারে দেখতেও কিছু মনে করে না। যে কমেন্ট শুনে একটি তরুণী বাসায় ফিরে সুইসাইড করত কিংবা ঘরের দরজা বন্ধ করে কান্নাকাটি করত, সেরকম কমেন্ট শুনলে নিজেকে এখন গর্বিত মনে করে।
কোনো কোনো তরুণীকে বলতে শোনা যায়, স্বপ্ন ছিল সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিব, কিন্তু যখন জানলাম বিষয়গুলো অনেক খারাপ তখন আর যাওয়া হয়নি। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় অল্প কয়েকজন। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গোটা জাতির জীবনাচারে। নাটক-সিনেমার বিকৃত পোশাক আশাক সমাজের সাধারন রূপ লাভ করে।
তথাকথিত দেহ ও ভোগপূজারী নারীবাদীরা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা সমাজটাকে ওরকমই দেখতে চায়। কিন্তু সত্যপন্থী নারীরা কি এসবের বিরুদ্ধে সরব? উত্তর না। এক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে সত্যপন্থী তথা আলোকিত নারীদেরকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। অন্তত প্রেসক্লাবে একটা মানববন্ধন তো তারা করতে পারেন।
বলা হয়ে থাকে রুচিশীল তথা শালীন পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বেরর বিকাশ ঘটায়। কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে নতুন প্রজন্মের একটা অংশ তার অন্ধ অনুকরণের শিকার।
তরুণীরা নিজেদের দেহ এমনভাবে দৃশ্যমান করে তুলছে। যা চিরায়ত বাঙালি সাংস্কৃতিক এবং সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে এক ধরনের মানসিক রোগ বা বিকৃতি। এমন প্রদর্শনপ্রিয়তা থেকে সমাজ শুধু রোগাক্রান্ত হবে এমন নয়, সমাজের অপরাধ প্রবণতাকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
সেক্স অরগান প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতা পাশ্চাত্যের বর্বর সমাজের বিষয়।
কিছুদিন আগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক এক ছাত্র তার একজন দুষ্টু বান্ধবীর সহযোগিতায় অপর এক বান্ধবীর গোসলের দৃশ্য ওয়েব সাইটে ছেড়ে দেয়ার পর বেশ হই চই পড়ে গিয়েছিল। অথচ একটি বহুজাতিক কোম্পানি তাদের সাবানের বিজ্ঞাপনে এর চেয়েও স্বল্পবসনে একজন তরুণীর গোসলের দৃশ্যকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে সুকৌশলে তাকে সমাজে স্বাভাবিক করে তুলে ধরে। এভাবে আকাশ সংস্কৃতি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে যা কি না যেকোনো সুস্থ সমাজে মানসিক রোগ বা বিকৃতি হিসেবে বিবেচিত, তাকে আকর্ষণীয় তথা ফ্যাশন হিসেবে তুলে ধরছে।
আমার বুঝ আসেনা, সকল ধরনের পণ্যের এ্যডে(কাপড়, সাবান, বিস্কুট, বডি-স্প্রে, মোবাইল, চেয়ার, বালতি.....) পন্যের তুলনায় কেন নারীকে বেশী ফোকাস করা হয়!
এই চলমান পক্রিয়া কি নারীর স্বাধীনতার পথ বানাচ্ছে নাকি পথটাকেই জঙ্গলে রুপান্তর করছে।
পোশাকের ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে এই বিপর্যয় খুবই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। তবে এর বিস্তৃতি প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যেখানে সব পাগলেও বস্ত্রহীন থাকে না, সেখানে কিছু কিছু তরুণীর বস্ত্র পরিধান করেও বস্ত্রহীনতার চেয়ে বেশি দৃষ্টিকটু পোশাক পরিধান করাটা খুবই অসুস্থ তথা অশালীন আচরণ।
দিনে দিনে নারী নিজকে পুরুষ-তান্ত্রিক পরাধীনতার হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যাইয়া অজান্তেই নিজেই কারাগারে রুপান্তরিত হয়ে নিজের নিজস্ব মুল্যবোধকেই ঔ কারাগারে নিমজ্জিত করছে।
হায়দার আলির একটা গানের কিছু লাইন আজ খু্‌ব মনে পরছে.....
.
.

[link]‘অনকেটা সময় পেরিয়ে, ভাবছি অবাক করে...
বিবেকটাকে দেখিনি, কখোনো প্রশ্ন করে...
আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি, হারিয়েছি মানুষত্ব...
মিথ্যে অহমিকায়, নিজেকে রেখেছি লিপ্ত...
আমি কি আর মানুষ বল, মানুষ-রুপি পন্য..
জীবন খাতার হিসেবে দেখি, পরে আছে শুন্য..
আমি নিস্ব, আমি নিস্ব, আমায় ভিক্ষা দাও আদর্শ....’

.
.
.
মানুষ আর অন্যান্য প্রানীদের মধ্যেকার প্রধানত পার্থক্য ছিল...নিজস্ব চিন্তা শক্তি, মুল্যবোধ আর সুস্থ বস্ত্র শালীনতা। সঠিক চিন্তা শক্তি আর মুল্যবোধ আমরা অনকে হারাইয়া বসেছি...আর সুস্থ বস্ত্র শালীনতা দিন দিন আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের সভ্য মানুষের এই কি বাস্তব চিত্র?
জানি না আমরা সভ্য হচ্ছি কি না...তবে মনুষ্যত্ব হারাচ্ছি এটা সত্য।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×