somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অচেনা সময়, অচেনা একজন......। (প্রথম পর্ব)

২০ শে জুন, ২০১৩ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুকনগরের আব্বাসের গরুর মাংস দিয়ে দুপুরের খাওয়া শেষ করলাম মাত্র । ঢাকা থেকে যতবার আমি খুলনা যাই- চেষ্টা করি আব্বাসের দোকানের গরুর মাংস খেতে। আমি হলফ করে বলতে পারি বাংলাদেশে এর চেয়ে মজার গরুর মাংস কেউ রান্না করতে পারবে না । আব্বাসের দোকান থেকে বের হয়েই এক অদ্ভুত প্রশ্নের সামনে পরলাম।

“ভাই সামনের ওই কালো গাড়ীটা কি আপনার”?

আমি লোকটার দিকে ভালভাবে খেয়াল করলাম। নাহ দেখেতো খারাপ লোক বলে মনে হয় না। আমি সাহস করে বললাম-

“জি আমার, কোন সমস্যা?”
“একজন মহিলার অবস্থা খুব খারাপ, এখনি খুলনা হাসপাতালে নিতে হবে। নাহলে বাচানো যাবে না মনে হয়। আপনি কি একটু সাহায্য করবেন প্লিজ?”

আমি সম্মতি জানাতেই উনি আমাকে তার সাথে আসতে বললেন। কিন্তু উনার সাথে যেয়ে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। একটা স্কুলঘর এর একপাশে একটা পাগলী প্রসব যন্ত্রনায় মাঠে গড়াগড়ি দিচ্ছে আর তার চারদিকে অনেকগুলো মানুষ দাড়িয়ে মজা দেখছে।

কোনভাবে পাগলীটাকে গাড়ীতে উঠিয়েই আমি খুলনার দিকে গাড়ী হাকালাম। আমার পাশেই বসে আছেন সেই লোক । তার নাম তালেব আলী, পেশায় স্কুলমাষ্টার । আর আমার ব্যাকসিটে শুয়ে আছে সেই পাগলীটা । ছিঃ সেই কখন থেকে পাগলী পাগলী করছি, নিজের প্রতি নিজেরেই রাগ হচ্ছে ।

খুলনা সদর হাসপাতালে পৌছানোর পরের একঘন্টা খুব দ্রুত গেল । মহিলার অবস্থা খুব ভাল মনে হচ্ছে না, সিজার করতে হবে । ঝামেলা বাধলো এখানেই, সিজার করতে কারো না কারো বন্ড সাইন করতে হবে। সেই কেউ হয় আমি অথবা তালেব আলী, কিন্তু আমি হঠাৎ করেই আবিস্কার করলাম তালেব আলী আমার আশেপাশে তো নাই, ডানে বামেও নাই । সাহস করে আমিই সাইন করে দিলাম।

“রুগী আপনার কি হয়?” ডাক্তারের এই প্রশ্নে আমি খানিকক্ষন মাথা চুলকিয়ে জবাব দিলাম-
“জি, রুগী আমার চাচাতো বোন =p~ ”।

ডাক্তার আমার কথা যে বিশ্বাস করে নাই তা উনার মুখ দেখেই বুঝে গেছি । তবে উনি আর দেরি না করে মহিলাকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটার এ ঢুকে গেল- আর আমিও হাফ ছেড়ে বাচলাম ।

অপারেশন শুরু হওয়ার মিনিট দশেক পরে আমি তালেব আলীর দেখা পেলাম । তালেব আলীকে জিজ্ঞাস করে জানতে পারলাম, মহিলার পরিচয় কেউ জানে না । কোথায় তার বাড়ী, কোথায় জন্ম, মা বাবা কে তা কেউই জানে না । বছর খানেক আগে হঠাৎ করেই মহিলাটিকে এই চুকনগর এলাকায় দেখা যায়, তখন থেকে এখানেই আছে । চেহারা বেশ ভাল বিধায় মাঝে মঝেই কিছু মানুষরুপি জানোয়ার এর লালসার শিকার হত সে । আর এই জন্যেই আজ মহিলার এই অবস্থা । হঠাৎ করেই এই অভাগা মহিলার জন্য আমার কেমন যেন মায়া হচ্ছে । আমার মুখ দিয়ে অজান্তেই বের হয়ে গেল “আহারে” ।

অপারেশন শেষ হয়েছে মাত্র । আমি আর তালেব আলী একটি শিশুর চিৎকার শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি । কিন্তু আমাদের আশায় গুড়েবালি দিয়ে ডাক্তার জানালেন, মহিলা ভাল আছেন কিন্তু বাচ্চাকে বাচানো সম্ভব হয় নি । আরও সপ্তাহ খানেক হাসপাতালে থাকতে হবে মহিলার । আমি মহিলাকে এক কেবিনে দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা দিলাম । যাওয়ার আগে এক নার্সকে কিছু টাকা দিয়ে আসলাম মহিলাকে একটু দেখভাল করার জন্য ।

বাসা থেকে যখন আবার হাসপাতালে ফিরেছি ততক্ষণে রাত ১১ টা । মহিলার বেড এর সামনে দাড়িয়ে আমি একটু অবাকই হলাম। টাকায় কথা বলে কিন্তু এত দ্রুত বলে আজ বুঝতে পারলাম। মহিলার শরীর পরিস্কার করে সুন্দর একটা গাউন পরানো। মহিলার একটা নাম দেয়া দরকার। কি নাম দেই কি নাম দেই চিন্তা করতে করতে রাত্রি নামটা দিয়ে ফেললাম। হঠাৎ রাত্রি চোখ মেলে তাকায় আমার দিকে । আহা, নামকরণের সার্থকতা বুঝি একেই বলে, গভীর কাল রাত্রির মতই তার কাল দুই চোখ। গায়ের রং পূর্ণিমা রাতের জ্যোৎস্নার মত। এতক্ষন মহিলা মনে হলেও আসলে রাত্রির বয়স খুব বেশি বলে মন হলনা।

রাত্রি আমার দিকে তার বড় বড় চোখের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। সে চোখে কি আছে আমি জানিনা কিন্তু আমার সাধ্য নেই আমার চোখ ফিরিয়ে নেয়ার।

হয়ত চলবে...............।।
[ আবারও একটা অখাদ্য পোস্ট দিলাম। নিজ দায়িত্বে পড়বেন। পেট খারাপ হলে আমি দায়ী নই =p~ :-P =p~ ।]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৯:৩৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫



কথায় বলে না, একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না!
এটা একদম সত্যি কথা। মানুষ আসলে ভুল করবেই! ভুল থেকে মুক্তি নেই মানুষের। আমার জীবনটা কিভাবে ছাড়খার হয়ে গেলো সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদে যা ঘটেছে সেটা কি অপ্রত্যাশিত ছিল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৪৯


দুই দিন আগে কুমিল্লার পরিচিত এক মুদি দোকানে সদাই কিনতে গিয়েছিলাম; সেখান থেকে প্রায়ই বাজার করি। হিসাব মেলাচ্ছিলাম, হঠাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন—"আগামীকাল তো সংসদ! হাসনাত আবদুল্লাহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ 'চাঁদগাজী' (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২০



আমি কোনো রকম ভনিতা না করে স্পষ্ট জানতে চাই-
ব্লগার 'চাঁদগাজী' কবে থেকে প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ পাবেন? তাকে আর কতদিন শাস্তি দিবেন? সরকার পতনের পর কারাগার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কালপুরুষ ভাইয়া

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমার কালপুরুষ ভাইয়া। গত ৭ই মার্চ যিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। খবরটা আমি জানার পর থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। ভাইয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপিপন্থী ব্লগারদের বাকস্বাধীনতা হরনের নমুনা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৬

বিএনপির মির্জা আব্বাস অসুস্থ হবার পর কিছু বিএনপি সমর্থক এর দায় খুবই ন্যক্কারজনকভাবে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপড় চাপাতে চাইছে !! অসুস্থ মির্জা আব্বাসের ছবি দিয়ে এরকম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×