somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হারানো সুর

১১ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[শেষ কবে গল্প উপন্যাস লিখেছিলাম ভুলে গেছি।সম্ভবত কলেজ জীবনে।তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়।ছাপা হবার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একসময় বিরক্ত হয়েই বোধহয় হারিয়ে গেল লেখা সব খাতার পাতাগুলো।সংসারের ঝামেলায় আমিও আর খুঁজে দেখিনি কখনো। কলমের বদলে নিজের অজান্তেই হাতে তুলে নিয়েছি খুন্তি কড়াই।চোখ থেকে হারিয়ে গেছে স্বপ্ন।এখন আকাশের দিকে তাকালে আকাশই দেখি,অন্য কারো মুখ দেখি না।মেঘের মেলায় আঁকি না কোন ছবি। বৃষ্টির সুরে সুর মেলানোর আগে ভাবি বারান্দায় মেলা কাপড়গুলো ভিজে গেল না তো!কল্পনা আজ বহুদুর।সেই ছেলেবেলার মত আর সামান্য ঘটনা থেকে অসামান্য গল্প বেরোয় না,ঘটনাকে আজকাল ঘটনাই দেখি!

কিন্তু আজ ব্লগে লেখার সুবিধাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল হারিয়ে যাওয়া দিনগুলির কথা।খুন্তি রেখে ধুলোপড়া কলম তুলে নেয়ার দুঃসাহস জোগাল এই ব্লগ।নিজেকে ধাক্কা টাক্কা দিয়ে কোনমতে বের করে আনলাম একটি গল্প।সবই কাল্পনিক।যেখানে চোখ বুজলেই চোখে ভেসে ওঠে দুপুরের লাঞ্চ,রাতের ডিনারের মেন্যু,সেখানে কাল্পনিক কোন গল্প লেখা যে বড়ই কঠিন তা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম লিখতে গিয়ে।তবু লিখলাম।প্রচুর ভুল ভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও বিনয়ের সাথে শেয়ার করলাম ব্লগে।খুন্তি আর কলম একসাথে চালিয়ে নেয়ার সামান্য প্রয়াস!]


(এক)

"আপনার চুড়ির মিষ্টি আওয়াজটা বেশ লাগছে।"

আমি চমকে পাশে মুখ তুলে তাকালাম।শেভ না করা দিন দুয়েকের খোচা খোঁচা দাড়িসমেত উজ্জ্বল একটি মুখ,দীপ্তিময় দুটো চোখ,চোখের কোনে দুষ্টু এক ঝলক হাসি।

"আমাকে বলছেন?'অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

"জ্বী,আপনাকেই।আপনি যখনি হাত নাড়ছেন তখনি টুং টাং শব্দ হচ্ছে।বেশ লাগছে।"

আমি মৃদু হাসলাম।"তাই নাকি?"তারপর একটু চুপ থেকে যোগ করলাম,"সব চুড়ির আওয়াজই তো একরকম জানি।এর মধ্যে বিশেষত্ব কি আছে?তাছাড়া যাদের হাতে চুড়ি থাকে না তাদের সাথে আলাপ শুরু করেন কি বলে বলুন তো?"

মুহূর্তেই দরাজ গলায় হেসে উঠল ছেলেটি। চমৎকার প্রানখোলা হাসি।কোন রকম ভনিতা নেই।

"ধরা পড়ে গেছি ,তাই না?'

এইবার আমার পালা। মৃদু হেসে বললাম।"বয়স তো কম হল না,এখন কি আর এসব কাজে লাগে?"

"আমি কিন্তু কাজে দেয়ার জন্য কিছু বলিনি।পাশে বসে মিষ্টি শব্দটা ভাল লাগছিল,তাই বলে ফেললাম।আপনি পুরুষ হলেও বলতাম। কিন্তু পুরুষরা তো আর চুড়ি পরে না,তাই বলা হত না হয়ত।"একটু চুপ থেকে বলল,"আসলে পাশাপাশি এতদুর যাব, কথাবার্তা না হলে ভাল লাগে নাকি বলুন তো?"

কিছু বললাম না। আসলে ছেলেটি যদিও গায়ে পড়ে আলাপ জমাতে চাচ্ছে,কিন্তু বিরক্ত লাগছে না মোটেই।হয়ত লম্বা দুরত্ব একা পাড়ি দিতে হবে তাই,কিংবা হয়ত ছেলেটির ব্যক্ত্বিত্ব!চোয়াড়ে টাইপ মনে হয় না কথা শুনে।বরং বেশ সোজা সাপ্টাই মনে হচ্ছে।কে জানে কি?কিন্তু এই মুহূর্তে একাকিত্বের বোঝা একটু হলেও কম হওয়াতে যেন স্বস্তি পেলাম।

"কি ভাবছেন বলুন তো?"

"নাহ,তেমন কিছু না।"

"কিছু তো ভাবছেন,কিন্তু বলতে চাইছেন না।....আচ্ছা থাক,বলা লাগবে না।বরং অন্য কথা বলি।-"মোবাইলের রিং টোনে কথা আটকে গেল ছেলেটির।পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে একটু হেসে বলল,"স্যরি,অফিস থেকে।কলটা ধরতেই হচ্ছে।"

"ওহ,শিওর!'আমি হাসি ফিরিয়ে দিলাম।

ছেলেটি কথা বলেই চলেছে।কথা শুনে ওইপাশের জন অফিসের বস বলেই মনে হচ্ছে।একটু পর পর 'জ্বী স্যার' শুনতে পাচ্ছি।আমি ওড়নাটা টেনে নিয়ে ফিরে তাকালাম জানালার বাইরে।মনটা হু হু করে উঠল।ভেসে উঠল নাফিসের মুখ।কি এক ব্যাথায় মুচড়ে উঠল বুকটা।গতকালই শেষ দেখা হল তার সাথে।সব ছেড়ে চলে গেল নিউ ইয়র্ক ,নতুন জীবনের সন্ধানে।যাওয়ার আগে কর্তব্য করতে ভুলেনি। সম্পর্কটুকু শেষ করে দিয়ে গেছে।আর ফিরিয়ে দিয়ে গেছে সব চিঠি পত্র।বুদ্ধিমান ছেলে।যাওয়ার আগে কোন পিছু্টান রেখে যেতে চায়নি।আমিও বাধা দেইনি।যে চলে যেতে চায়,তাকে কি শিকলে বাধা যায়?

আমার জীবন আজ শুন্য।একা!বড় একা!এই একাকিত্ব বয়ে চলতে হবে কতদিন?কত বছর?মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কি করে?মানুষের জীবনে ক্যারিয়ারটাই কি সব?ভালোবাসাটা কিছুই নয়? তাহলে কি মন,ভালবাসা, সম্পর্ক বলে আসলে কিছু নেই?সব মিথ্যে?সব কল্পনা?.............

(ক্রমশ)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:৪৭
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×