
শহরের প্রধান সড়ক। (হিস্টরিকাল এরিয়ার)। ঐ দেখা যায় গোল্ডেন গেট।
ভ্লাদিমির। মস্কো থেকে প্রায় ২০০ কিলমিটার দুরে অবস্থিত। ট্রেনে যেতে মাত্র পৌনে দুই ঘণ্টা লাগে। ইহা এককালে রাশিয়ার রাজধানী ছিল। ১২৪৩ থেকে ১৩৮৯ সাল পর্যন্ত। অনেক পুরাতন শহর। প্রথম বসতি গড়ে ওঠে ৯৯০ সালে। পরে ১১০৮ সালে যখন এখানে একটি দুর্গ তৈরি হয়, তখন এটি একটি শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বর্তমানে এটি একটি ট্যুরিস্ট হাব। শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত। আধুনিক ও প্রাচীন অংশ। শহরটিতে অনেক কয়টা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট রয়েছে। ছবির ডেসক্রিপশনে ডিটেল থাকছে।
ভ্লাদিমির থেকে ৪০ মিনিটের দূরত্বে আরেকটি গ্রাম সুজডাল অবস্থিত। গড়ে ওঠে ৯৯৯, মতান্তরে ১০২৪ সালে। এ গ্রামের প্রধান আকর্ষণ এর ক্রিমলিন ও একটি কাঠের বাড়ির জাদুঘর। এছাড়া রয়েছে প্রচুর চার্চ ও বেল টাওয়ার। কান্ট্রিসাইড যাকে বলে। অন্যরকম। এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা ট্যুরিজ্ম। তাই আমার দেখা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে এক্সপেন্সিভ জায়গা।

শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি চার্চ।

শহরের কেন্দ্রীয় জাদুঘর। এখানে প্রচুর জাদুঘর পাবেন। রাশিয়ান রা এ জাদুঘর গুলোর পেছনে ভালই টাকা খরচ করে থাকে। এবং খুব সুন্দর ভাবে সংরক্ষণ করে। এখানকার স্কুলের বাচ্চারা তাদের ইতিহাসের ক্লাস এ সকল জাদুঘর সফরে এসে করে। আমাদের মতো জাহাঙ্গীরের ফোন নম্বর মুখস্ত করে না।

শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। পুরনো ধাঁচে গড়ে তোলা। ভালই লাগে।

পেছনে আরও ভবন ও মেন ক্যাম্পাস। ভালই পরিবেশ।

St. Demetrius Cathedral. সাদা পাথরের তৈরি একটি ইউনিক মনুমেন্ট। ১১৯৩ থেকে ১১৯৭ সালে তৈরি। এটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। ভেতরটা ছোট্ট। এর নকশা কাছে থেকে দেখলে বুঝতে পারবেন যে কতটা সূক্ষ্ম কারুকাজ।

অতান্ত সুন্দর কারুকাজ। একটা ইসলামিক কারুকাজের প্রভাব আছে বলে মনে হচ্ছিল। ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ।

চার্চ, জাদুঘর। ৯০০ বছরের পুরনো কমপ্লেক্স।

পাহাড়ের পাদদেশে এটি রেল স্টেশন। এখানেই এসে পৌঁছেছিলাম প্রথম। প্রথম এসে নেমেই আলাদা এক অনুভূতি। মস্কোর কোলাহল থেকে দুরে, শান্তি।।

জঙ্গলের মাঝে এক পরিতাক্ত বাড়ি। সোভিয়েত আমলের অনেক অনেক এরকম পরিতাক্ত স্থাপনা হরহামেশাই চোখে পড়ে।

Assumption Cathedral. এটিও একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। ১১৫৭ থেকে ১১৬০ সালে তৈরি। কিন্তু ১১৮৫ সালে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১১৮৫ থেকে ১১৮৯ সালে এটিকে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। এর আংশিক অংশ জাদুঘর। ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ।

সুন্দর দেখতে।

বাইরে থেকে দেখতে বেশি সুন্দর। টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকেছিলাম। ছাত্রদের জন্য খুব সস্তা, সব ক্ষেত্রেই। আপনি পুরনো টাকে অনুভব করতে পারবেন। মনে হচ্ছিল শত বছর পেছনে চলে এসেছি। এরকম সব জায়গায় হয় না, এখানে হয়েছে। মেঝে, দেয়াল, সব আমাকে অন্যরকম একভাবে আকর্ষণ করে।

চার্চ এর পেছনে, আমি ।

শহরের প্রাচীন অংশটা একটু উঁচুতে অবস্থিত। অনেক কয়টা ভিউ পয়েন্ট রয়েছে। অসাধারণ লাগল এখান থেকে দেখতে। সবুজ মাঠ, আর ব্রিজটা, ছবির মতন দেখতে।

উঁচু-নিচু ভূমিতে এরকম সব ঘরবাড়ি। মস্কোর ধনীদের সামার হোম। আপনি চাইলে ভাড়া নিয়ে কদিন থাকতেও পারবেন। ডুপ্লেক্স বাসা ৮-১০ জনের জন্য দিনপ্রতি মাত্র ১০,০০০ বাংলাদেশী টাকায় পাবেন।

একটি মার্কেট। এখানে এরকম আধুনিক দোকানপত্র পুরনো বিল্ডিং এ দেখতে পাবেন। ২ ফুট বাই ২ ফুট পাথরের টুকরার তৈরি দেয়ালের খোপে মেকডনালস খাবার আলাদা স্বাদ আছে।

১৯৫৮ সালে শহরের ৮৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্থাপিত একটি ব্রিজ। বেছানো ইট নতুন হলেও সেই পুরনো কাঠামোতেই আছে।

পাথর ও ইটের বাঁধানো রাস্তা। পাথর বাঁধানো এ রাস্তাগুলতে চলতে ভালই লাগে, তবে শুধুমাত্র হেঁটে।

আরেকটি ভিউ পয়েন্ট। ওপর পাশে। একই দৃশের আলাদা সৌন্দর্য।

শহরের কেন্দ্র। (প্রাচীন অংশ)। এরা এই প্রাচীন অংশ টা পুরোটা খুব ভাল ভাবে সংরক্ষণ করেছে। নতুন স্থাপনা নেই বললেই চলে। সব নতুন অংশে, যা আধুনিক এবং বড়।

শহরের প্রধান স্থাপনা। গোল্ডেন গেট। এটিও একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।
১১৫৮ থেকে ১১৬৪ সালে তৈরি একটি ইউনিক রাশিয়ান মিলিটারি আর্কিটেকচার। রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত। এর ওপরে একটি ছোট্ট জাদুঘরও আছে! তৎকালীন সকল আগমনকারীকে এই গেট দিয়ে শুল্ক প্রদান করে প্রবেশ করতে হত।

সেই পুরনো দেয়াল। অনেক সময় নিয়ে ছিলাম। জাদুঘর যেটা ছিল ওপরে, তা তৎকালীন সময়ের শুল্ক আদায়ের অফিস। এরকম কিছু আমি দেখেছিলাম না কোনদিন। নিচে থেকে দেখতে ছোট মনে হলেও, ওপরে বেশ ভালই বড়।

অতঃপর সুজডাল। এখানের এক জাদুঘরের এক কাঠের বাড়ি। প্রথম যখন এখানে মানুষ বসতি স্তাপিত হয়, একটি চার্চ কে কেন্দ্র করে, প্রায় ১৫ টা বাড়ি নিয়ে ১.৫ কিলোমিটার স্কোয়ার জায়গা নিয়ে, তা পুরোটা সংরক্ষণ করা। পুরোটা ঘিরে একটা জাদুঘর, খোলা আকাশের নিচে ! এরকম ইউনিক জাদুঘর কোনদিন দেখেছিলাম না।

গ্রামের সকল প্রয়োজন মেটানোর বেবস্থা ছিল এখানে। এটা পানি তোলার মেশিন। জানিনা কিভাবে কাজ করে। সব রাশিয়ানে লেখা।

অতঃপর, বিদায়। সুজডালের সৌন্দর্য আলাদা রকম। রাশিয়ান গ্রামের অনুভূতি পাবেন। বেশি ছবি তোলা হয়নি। গ্রামের রাস্তায় হারিয়ে গেছিলাম প্রকৃতির মাঝে।
অনেক বড় পোস্টের জন্য দুঃখিত, এবং ধন্যবাদ পড়ার জন্য। ভাল লাগলে জানাবেন। আমি প্রায় মাস পর পর এরকম ঘুরতে বেরই। আপনাদের সাড়া পেলে এরকম কয়েকটি ট্যুর জমে হয়ে আছে, লিখে ফেলব।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




