somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমণ ছবি ব্লগঃ কাজান, রাশিয়া

০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক্রিমলিন থেকে। বামের আলকিত বিল্ডিং টা কাজান বিশ্ববিদ্যালয় ।

কাজান। রিপাবলিক অফ তাতারস্তান এর রাজধানী। অথবা বলতে পারেন রাশিয়ার মুসলিম রাজধানী। প্রায় ৬০% মানুষ এখানে মুসলমান। ১০১৩ বছর বয়স শহরটার। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন। সাথে মুসলিম ধাঁচ। রাশিয়ার অনা শহরগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।


কাজান রেল স্টেশন। যেখানে এসে প্রথম পৌছালাম। একটা রেল স্টেশন যে এত সুন্দর হতে পারে, আমার ধারনা ছিল না। যেমন বাহির, তেমনি ভেতর। মস্কো থেকে যেতে ১১ ঘণ্টার মত লাগে ট্রেনে। আমরা নাইট ট্রেনে গেছিলাম। হাই স্পীড ট্রেনও আছে। অর্ধেক সময় লাগবে। নাইট ট্রেনও আমাদের ইলেকট্রিক ছিল। দোতালা।



প্রথমেই কাজান ক্রিমলিন। এখানে প্রধান আকর্ষণ হল একটি প্রাচীন চার্চ আর একটি মসজিদ। সাথে আছে আরও কিছু জাদুঘর আর অফিস।



কুল শরিফ মসজিদ। খুব সুন্দর একটা মসজিদ। কাজান ক্রিমলিনের ভিতরে। ১৯৯৫ সালের তৈরি । এর অঙ্গনেই প্রতি বছর কাজানের সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এটি তুলনামূলক অনেক পরে তৈরি আর ক্রিমলিন এরিয়ার মাঝে শেষ স্থাপনা। এটি এমন ভাবে তৈরি করা যে এর ভ্রমণের উদ্দেশে যাওয়া মানুষের জন্য আলাদা গেট। সেখান দিয়ে ঢুকলে পুরো মসজিদ পেঁচানো সিঁড়ি দিয়ে পুরো মসজিদ দেখা যাবে নামাজি দের কোন বিঘ্ন ছাড়াই! একই সাথে সুন্দর আর আধুনিক।



ভেতরে একটি কাঁচের ঘর দেখতে পাবেন, যেখানে একজন সবসময়, ২৪*৭ কোরআন শরীফ পড়ে, নামাজের সময় বাদে যা সারা মসজিদ জুড়ে শোনা যায়। কাঁচের এই ঘরটি সাউন্ড প্রুফ, যাতে নির্ভিগ্নে পড়তে পারে। অসাধারণ!




অতঃপর, দুই ভাইয়ের তৈরি করা এক ইউনিক জাদুঘরে গেছিলাম, সকল ধর্মের জাদুঘর, যেটিকে তারা সকল ধর্মের উপাসনালয় বলছে। প্রাচীন মিসরীয় দের ধর্ম থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় সকল ধর্মের নিদর্শন পাবেন। আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনা।



শহর থেকে কিছু দুরে এক ছোট্ট দ্বিপে। এখানে সব ধনীদের সামার হোম পাবেন আর ঘোরার জায়গা। অসাধারণ। পাহাড়ি দ্বিপ। শহর থেকে দুরে, নদীর ধারে, পাহাড়ের পাদদেশে এরকম একটা বাসায় থাকতে মন্দ লাগার কথা না। আরও রয়েছে শত বছরের পুরনো চার্চ, জাদুঘর আর বিভিন্ন খাবার জায়গা। আমরা লাঞ্চ করেছিলাম শত বছরের পুরনো এক রেস্টুরেন্টে। নিচু ছাদ আর পুরু দেয়াল, অসাধারণ অভিজ্ঞতা।



আচ্ছা, এবার বলেন তো, এটা কি? জাদুঘর? থিয়েটার? না। সরকারি হাসপাতাল। এক মুসলিম ধনী ব্যবসায়ীর দান করা এ ভবনে সরকার এক হাসপাতাল গড়ে তোলে।


এখানে লেখা আছে - 'আল কল আহ', মানে Friendship. তখন কম্যুনিস্ট এর সময় ধর্মীয় কিছু প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল। তাই এটা এমন ভাবে লিখেছিলেন যাতে দূর থেকে 'আল্লাহ' লেখা মনে হয়।



পেছনে ওটা নদী। জমাট বাঁধা নদী। সামনে আমি জ্যাকেটের মদ্ধে লুকিয়ে! নাইলে গতি নাই। -২০°C তাপমাত্রা...



মানুষ জনের বাড়িঘর গুলা খুব সুন্দর।


রঙ্গিন বাড়িঘর। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঠের তৈরি, তাছাড়া কংক্রিট আর কাঠের মিক্স বাড়িও আছে। নিচতলা কংক্রিট বা পাথরের, অপরতলা কাঠের।



মেচেত আল - মারদখাআনি । অন্যতম পুরাতন একটা মসজিদ। ১৭৬৭ সালের তৈরি। এই অংশ মহিলা দের জন্য। ডানে পুরুষদের। ভেতরে ঢুকেছিলাম।
পুরুষদের অংশে, দোতালায় যখন যাই, সেখানে এক নতুন দম্পতি মাত্র বিবাহ সম্পন্ন করে যেখানে নামাজ পড়ে, সেখানে বিভিন্ন ভাবে ছবি তুলছিল! আমি তো অবাক! ক্যামনে কি! কিছুক্ষণ পরে, এক পর্যায়ে তারা ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে চুম্বনরত অবস্থায় ছবি তুলতে লাগল, মসজিদের ভেতরেই!!! আমি তো হাঁ হয়ে চেয়ে রইলাম। পরে এক বন্ধু দেখে আমার চেতনা ফিরিয়ে আনল। এ দুনিয়াতে যে আর কত কিছুই যে দেখব, আল্লাহই জানে। পরে জানলাম, ইহা ইনাদের কালচার। ব্যাপার না!



আচ্ছা, এবার এটা কি, বলেন তো? জাদুঘর? থিয়েটার? না। ব্যাংক। সরকারী লোকাল ব্যাংকের একটা শাখা। পুরা ফ্লোরেন্স শহরের ব্যাংকের মতন।। (এসাসিন্স ক্রিড ২ এর)।



টাওয়ার। ৪০০ বছর বয়স প্রায়। কাজান শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।




সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯
১৩টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×