somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাঁদ সওদাগরের প্রতি সমবেদনা

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনসা কাজটি ভালো করেনি, চাঁদ সওদাগরের প্রতি সমবেদনা
নির্দোষ লখিন্দরের বাবা চাঁদ সওদাগর ছিলেন হিন্দু দেবতা শিবের একনিষ্ঠ পূজারী। তাই তিনি অন্য কোন দেবতার আরাধনা করতেন না। অপরদিকে শিবের কন্যা মনসা ছিলেন সর্পদেবী। তার বাবা শিব তাকে বলেন, যদি কোন শিবের উপাসক প্রথম মনসার পূজা করেন তাহলেই মর্ত্যে তার পূজার প্রচলন সম্ভব।
তখন মনসা চাঁদ সওদাগরকে নির্বাচন করে তাকেই মনসা পূজার আয়োজনের অনুরোধ করে। কিন্তু চাঁদ সওদাগর মনসার প্রস্তাবে রাজি হননি। তখন রাগান্মিত হয়ে মনসা তাকে শাপ দেন- চাঁদ সওদাগরের প্রত্যেক ছেলে সাপের কামড়ে মারা যাবে। মনসার অভিশাপে এইভাবে একে একে লখিন্দর ব্যতীত চাঁদ সওদাগরের সকল পুত্রই সর্পদংশনে মারা যান। তাই লখিন্দরের বিয়ের সময় তার বাবা এমন বাসর ঘর তৈরি করেন যা সাপের পক্ষে ছিদ্র করা সম্ভব নয়। কিন্তু সকল সাবধানতা অতিক্রম করে সাপ লখিন্দরকে হত্যা করে।
এখানে ফ্যাক্ট অব থিউরী হলো, প্রথমত চাঁদ সওদাগর হলেন একজন মানুষ। দ্বিতীয়ত সে মনসার বাবাকে মান্য করতেন। এখন মনসা তার নিজেকে পাবলিক এটেনশন পাওয়ার জন্য, চাঁদ সওদাগরকে কাকুতিমিনতি করে বলেন, তুমি আমার বাবাকে মান্য করো, আমাকেও মানতে হবে। এখন চাঁদ সওদাগর বেচারা পড়ে গেছে চিপায়। সে বলেছে, আমি কেন তোমাকে মানতে যাবো।
এদিকে বেচারি বারবার দিচ্ছে অব্যাহত হুমকি, মানে আমরা সচরাচর গ্রামবাংলায় দেখি, 'তুমি আমাকে ভালো না বাসলে, তোমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাবো, বা কে বিয়ে করে দেখবো।' এমন টাইপের হুমকি। এখানে ঘটনাটি দাঁড়ালো উল্টো। এখন নারীদের পুরুষরা হুমকি দেয়, তখন দেখছি নারীরা পুরুষদের হুমকি দিত।
যাইহোক এখানে চাঁদ সওদাগর বেচারা আমাদের ফয়সাল ভাইয়ের মতো ভিকটিম মানে নির্যাতনের স্বীকার।
এরপর এই প্রতিশোধ পরায়ণা নারী কাজটি কি করলো, চাঁদ সওদাগর তার প্রস্তাব মানেনি, তাই তাকে কিছু করলো না, করলো তার পুত্রদেরকে। তাদের হত্যা করলো। এমনকি তাদের বউদের বিধবা করলো, পুত্রদের পিতৃহারা করলো। কোন মানুষের চোখে অপরাধের কারনে তার পুত্র বা পরিবার নির্যাতনের স্বীকার হবে, এটি অমানবিক। আমি অপরাধ করলে আমার বিচার হবে, আমার কারনে কেন আমার পুত্র বা পরিবার সাজা ভোগ করবে?
বর্তমান আমি মনেকরি, এটি চাঁদ সওদাগরের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। শুধু অবিচার নয়, তাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে। তার ব্যবসায়ের ক্ষতি করে দেশের মানুষের খাদ্যে প্রভাব পেলেছে। এটি মানবাধিকার লঙ্গন করেছে
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×