somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্বীনের বাদশা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পবন সরকার

রাত তখন সাড়ে বারোটা। ইউটিউবে জ্বীনের বাদশার ভিডিও দেখে মাত্র শুয়ে পড়েছি। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠল। চমকে উঠলাম। এত রাতে কে আবার ফোন করল! ভয়ে ভয়ে ফোন ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে সালাম দিয়ে কোরান হাদীসের আয়াত পড়ে বয়ান করতে লাগল। কণ্ঠ মানুষের মত স্বাভাবিক নয় কিছুটা বিকৃত ধরনের ক্যানক্যানে গলা। আমি অন্ধকার ঘরে একা একা শুয়ে আছি। ভয়ে চুপসে গেলাম। মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না। চুপচাপ শুনছি আর তার কথার উত্তরে হুঁ হুঁ করছি।
অনেক ক্ষণ বলার পরে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল, বাবা তুই কি আমার কথা শুনতে পারছিস বাবা?
-- জী শুনতে পারতেছি।
-- আলাহামদু লিল্লাহ আলাহামদু লিল্লাহ। তা বাবা-- আমি তো সবার সাথে কথা বলি না যার উপরে আল্লাহর হুকুম হয় তার সাথেই একমাত্র কথা বলি। তা বাবা আমি তোকে কিছু উপদেশ দিব তুই উপদেশগুলা মেনে চলতে পারবি বাবা?
-- জী বলেন।
-- বাবা, কথা হলো ঈমান ঠিক রাখবি, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বি, রোজা রাখবি, হারাম হালাল বেছে চলবি, পারবিনা বাবা?
-- জী বলেন।
-- এসব পালন করার পর আরেকটা কাজ করবি বাবা?
-- কী কাজ?
-- সামনের শুক্রবারে দশ জন মিসকিনকে মসজিদে গিয়ে জুমার নাময পড়ে খাওয়াবি। পারবিনা বাবা?
-- জী বলেন।
-- তার পরের শুক্রবারে হক্কানী পীরের মাজারে গিয়ে এক শ' জন ফকিরকে সিন্নি দিবি। পারবিনা বাবা?
-- জী বলেন।
-- এই কাজগুলা করলে আল্লাহর তরফ থেকে তোর কিছু বরকত হবে। আল্লাহ তোকে ধনী করার মনস্থ করেছে। তুই কিছু গায়েবী ধন পাবি।
গায়েবি ধনের কথা শুনে কিছুটা আগ্রহ জন্ম নিল। ছোটকালে এমন গল্প অনেক শুনেছি। কিন্তু কেউ বাস্তবে পেয়েছে কি না তা চোখে দেখিনি। আজ সেই গায়েবি ধন পেতে যাচ্ছি। ভয় কেটে গিয়ে কিছুটা আগ্রহ দেখা দিল। বললাম, কিভাবে পাবো?
-- সেই কাজটা আমরা করে দিব বাবা।
-- আপনাকে চিনবো কি করে?
-- আমাকে তুই চিনতে পারবি না বাবা। আমরা মানুষ নই আমরা জ্বীন জাতি। আমরা আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়াই।
জ্বীনের নাম শুনেই চমকে উঠলাম। আমি তো একটি আগে জ্বীনদের ভিডিও দেখতেছিলাম। আমার ঘরে আমি ছাড়া তো আর কেউ নেই। আমার ভিডিও দেখার বিষয়টি তো আর কেউ জানার কথা নয়। জ্বীনেরা কি তাহলে গায়েবি ভাবে ভিডিও দেখার বিষয় জেনে গেল? ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। কাঁপতে কাঁপতে বললাম, তাহলে গায়েবী ধন কিভাবে পাবো?
-- গায়েবী ধন পেতে হলে তোকে উপরের কাজগুলা করতে হবে, পারবিনা বাবা?
-- আমার তো অত লোক খাওয়ানোর সামর্থ নাই।
-- তাহলে তোকে আরো সহজ করে দিচ্ছি বাবা।
-- সহজ কাজটা কি ভাবে করবো?
-- আগামী পুর্ণিমা রাতে একটা মসজিদে যেতে হবে, সেই মসজিদের বারান্দায় একজন সবুজ পাঞ্জাবী পরা লোক বসে থাকবে। তার হাতে পাঁচ হাজার এক টাকা দিতে হবে-- পারবিনা বাবা?
-- সেই মসজিদটা কোথায়?
-- সেই মসজিদটার ঠিকানা আমি দিব বাবা, তার আগে তোকে খোদার কসম কাটতে হবে এই কথা দুনিয়াতে কাউকে বলতে পারবি না। এমন কি তোর বাবা মা স্ত্রীর কাছেও না। যদি বলিস তুই গায়েবি ধন তো পাবিই না উল্টো আরো তোর জান মালের ক্ষতি হবে। তোর জান মালের নিরাপত্তার জন্য হলেও কসম কাটতে পারবি না বাবা?
-- আমি তো খোদার নামে কসম কাটতে পারবো না।
-- কেন বাবা?
-- আমি তো হিন্দু।
-- মিথ্যা কথা বলিস না বাবা। তোর ভাগ্য কিন্তু কোটিপতির খাতায় লেখা আছে। মিথ্যা বললে ভাগ্য বিপরীত হবে বাবা। মিথ্যা কথার জন্য দুনিয়াতে অছিরেই ধ্বংস হয়ে যাবি বাবা। তুই নাফরমানি না করে আল্লাহর হুকুম পালন কর। আল্লাহ তোকে অছিরেই সম্পদশালী করবে। তুই ধনে জনে সুখী হবি। আর তুই আল্লাহর সাথে নাফরমানি করবি তো অভাব অনটনে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবি।
-- মিথ্যা বলছি না আমি আসলেই হিন্দু।
-- আলাহামদু লিল্লাহ আলাহামদুলিল্লাহ। বলেই মোবাইল কেটে দিল।
আমি সত্যি সত্যি জ্বীন মনে করে ভয় পেয়েছিলাম। হিন্দু বলায় মোবাইল কেটে দেয়ার পরও অনেক ক্ষণ ধান্দা লেগে বসে ছিলাম।
সকাল বেলা মোবাইলটা ঘরে রেখে বাইরে হাঁটতে গিয়েছি, ফিরে এসে দেখি আমার ক্লাস ফোরে পড়া ভাতিজা মোবাইল খুলে ওর সিম লাগিয়ে বন্ধুদের সাথে হ্যালো হ্যালো করছে। আমার সিম লাগানোর পরে আর জ্বীনের নাম্বার খুঁজে পেলাম না।

(ছবি ইন্টারনেট)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:০৪
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×