somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোগ না করেই দামের ভোগান্তি

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সন্ধ্যার সময় নামকরা এক মিষ্টির দোকানে মিষ্টি খেতে গিয়েছিলাম। অনেক পদের মিষ্টির মাঝে গামলায় দুধে ভিজানো কিছু মিষ্টি ছিল। বয়কে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম গামলা থেকে একটা মিষ্টি দেয়ার জন্য। ব্য় ছোট একটা বাটিতে ঘন দুধের ভিতর একটি মিষ্টি দিয়ে গেল। চামচ দিয়ে কেটে খেতে খুব মজাই লাগল।
খাওয়া শেষে বয়কে খুঁজে পেলাম না। কোথায় যেন গেছে। বয়ের অনুপস্থিতে বিল দিতে গেলে ম্যানেজার জিজ্ঞেস করল, কী খেয়েছেন?
আমি বললাম, ভাই, মিষ্টির নাম তো জানিনা, তবে চ্যাপ্টা চ্যাপ্টা দুধে ভিজানো, চামচ দিয়ে কেটে খেতে বেশ মজা লাগল।
ম্যানেজার হাসি দিয়ে বলল, চ্যাপ্টা চ্যাপ্টা তো দুই ধরনের মিষ্টি আছে, একটা সরভোগ আরেকটা মালাইভোগ, আপনি কোনটা খেয়েছেন?
হাসি দিয়ে বললাম, বয় কোনটা দিয়েছে আর আমি কোনটা খেয়েছি তা তো বলতে পারছি না, তবে দু'টার মধ্যে দামের কি কোন পার্থক্য আছে?
ম্যানেজার বলল, হ্যাঁ আছে, একটা ৫৫ টাকা পিস আরেকটা ৫০ টাকা পিস।
দামের হেরফের শুনে বললাম, তাহলে বয়কে ডাকেন, সেই বলতে পারবে আমাকে কোনটা দিয়েছে।
ম্যানেজার বলল, বয় তো মালিকের বাসায় চলে গেছে, আসতে দেরি হবে।
বয় আসতে দেরি হবে শুনে বললাম, তাহলে আপনি আপনার বিবেক অনুযায়ী দাম নিন, তবুও বয় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবো না।
ম্যানেজারের বিবেকের উপরে মিষ্টির দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়ায় তিনি তার বিবিককে সর্বোচ্চ ধাপে রেখে ৫৫ টাকা বিল নিল। ম্যানেজারের চাহিদা মত বিল দিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম। মালিবাগ মোরে রিক্সা থেকে নেমেই দেখি সেই মিষ্টির দোকানের বয় দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা দূরে থেকেই জিজ্ঞেস করলাম, কিরে মিষ্টি খেতে দিয়ে কই পালিয়েছিলি?
বয় কাছে এসে বলল, স্যার পলাই নাই, মালিকের বাসায় গেছিলাম। বলেই বলল, আপনি মিষ্টির দাম কত দিছেন?
বললাম, ৫৫ টাকা।
আমার কথা শুনে আশ্চার্য হয়ে বলল, কন কি! এত দিছেন ক্যান?
আমি বললাম, আমাকে নাকি তুই সরভোগ না মালাই ভোগ দিয়েছিস এইজন্য এত টাকা নিয়েছে।
আমার কথা শুনে ছেলেটি হাত নাড়িয়ে মাথা দুলিয়ে বলল, আপনাকে তো কোন ভোগই দেই নাই। আপনারে হুদা রস মালাইয়ের বড় একটা পিস দিছি, যার দাম ২৫ ট্যাকা।

আমি ওর কথা শুনে আহাম্মকের মত চেয়ে রইলাম। আমার চেয়ে থাকা দেখে বলল, স্যার আমার সাথে আইসেন বাকি টাকা নিয়া যান।
মনে মনে ভাবলাম ত্রিশ টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে পুরানা পল্টনে যাওয়া আসায় ৬০ টাকা খরচ হবে, যত টাকা লাভ হবে তার চেয়ে দ্বিগুণ লোকসান, লোকসানের দিকে তাকিয়ে ফিরে যাওয়ার চিন্তা ছেড়ে দিলাম। তবে ছেলেটার সততা দেখে মুগ্ধ হলাম। খুশি হয়ে বললাম, আমি আর ফিরে যেতে পারবো না তার চেয়ে তুই ম্যানেজারের কাছ থেকে ত্রিশ টাকা নিয়ে নিস। আমি তোকেই বকশিশ হিসাবে ত্রিশ টাকা দিয়ে গেলাম।
ছেলেটি অসহায়ের মত মুখটা কালো করে বলল, স্যার-- ম্যানেজার তো আমাকে ঐ ট্যাকা দিব না, চাইলে উল্টা আরো ধমক দিব, তার চেয়ে আপনিই টাকাগুলা নিয়া যান।
অল্প বয়সি ছেলেটির সততা ও অসহায়ত্বের ভাব দেখে পকেট থেকে দশটাকা বের করে ছেলেটির হাতে দিয়ে বললাম, ম্যানেজার যদি ট্যাকা না দেয় না দিবে তোরে এই দশ টাকা খেতে দিলাম।
আমার টাকা দেওয়া দেখে ছেলেটি আশ্চার্য হলে বলল, স্যার করেন কি! এমনিতেই আপনি ত্রিশ ট্যাকা গর্চা খাইছেন তারোপরে আরো দশ ট্যাকা দিতেছেন। না স্যার আমি এই ট্যাকা নিমু না। বলেই টাকা দশটি আমার হাতে দিয়ে দৌড়ে বাসে উঠে চলে গেল। আমি একপলকে অনেকক্ষণ বাসটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, ম্যানেজারের মধ্যে সততা না থাকলেও খেটে খাওয়া হতদরিদ্র এই ছোট ছেলেটার মধ্যে সততা আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৩৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন যে এসব লাল বদর/বাঙ্গালী পাকিস্তানি (বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে বিকলাঙ্গ) আমাদের সাথে লাগতে আসে?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



১//@দেশ প্রেমিক বাঙালীঃ

তোমাদের মতো জামায়াতি লাল বদরদের/পাকিস্তানি শারমেয়দের/বরাহ শাবকদের.....

এক বছর রাখতে হবে বেলুচিস্তানে। তাহলে তাদের শৈশব থেকে ধোলাই হওয়া মগজ reset হলে হতেও পারে। reset হলে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×