
অনেক আগে একটা বই পড়েছিলাম। বইটির নাম কারাগারে কারাবাসে। সেই বইতে লেখক পঁচাত্তরের শেখ মুজিব হত্যার পরের একটি ঘটনা উল্ল্যেখ করেছেন। তিনি তখন রাজনৈতিক বন্দী হয়ে রংপুর কারাগারে আটক আছেন। সেই সময় রাজশাহী বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কারাগার ভিজিটে আসেন। সকল কারা বন্দীদের লাইন করে দাঁড় করানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বন্দীদের এক এক করে তাদের ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করছেন। এমন সময় লাইনের মাঝখান থেকে একজন কারাবন্দী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে আগবাড়িয়ে বলে উঠলেন, স্যার আমি একজন রানিং আওয়ামীলীগের এমপি, আমাকে চোর ডাকাতের সাথে রাখা হয়েছে, আমাকে রাজবন্দী হিসাবে কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। ভদ্রলোকের কথা শুনে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেলারকে জিজ্ঞেস করলেন, উনাকে এভাবে রেখেছেন কেন? জবাবে জেলার সাহেব বললেন, স্যার এটা তো আমাদের দোষ নাই, এই আইনটাতো উনারাই করে গেছেন। জেলখানায় রাজনৈতিক নেতাদের কোন বাড়তি সুবিধা থাকবে না। সেই আইনেই তো উনাকে সাধারণ কয়েদীদের সাথে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনাটির উল্ল্যেখ করার উদ্দেশ্য হলো, শেখ হাসিনা নিজে ক্ষমতায় থাকার জন্য অনেক আইন করে রেখেছেন। এখন প্রধান মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সেই আইনগুলো যদি তার উপরেই প্রয়োগ করা হয় তখন শেখ হাসিনার খালেদা জিয়ার মত জেল খাটা ছাড়া উপায় থাকবে না অথবা তারেক জিয়ার মতো জেল থেকে বাঁচার জন্য বিদেশের মাটিতেই থাকতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০২৪ বিকাল ৪:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




