somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারি কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধি সাধারণ জনগণ কি স্বস্তি পাবে?

২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ আড়াইগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। যে হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে সেই হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবে। বর্তমান জিনিষ পত্রের বাজার দর অনুযায়ী অবশ্যই কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধি হওয়া দরকার, তবে উচ্চ হারে বেতন বৃদ্ধি হলে সাধারণ জনগণ কি পরিমাণ ভোগান্তিতে পড়বে সেদিকে সুপারিশকারিরা মনে হয় নজর দেয় নাই। সুপারিশ অনুযায়ী যদি বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হয় তহলে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির বেতন বৃদ্ধি বাবদ অতিরিক্ত এক লক্ষ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এই ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে, নিশ্চয় জনগণের উপর ট্যাক্স ধরা হবে, আর এই ট্যাক্সের কারণে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রত্যেকটা জিনিষের দাম বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে জীবন ধারনের খরচও বেড়ে যাবে।

জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের গায়ে তেমন একটা আচ লাগবে না, যেহেতু তাদের বেতন দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ হবে তাতে তারা স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারবে কিন্তু সাধারণ জনগণ চরম বিপদে পড়ে যাবে। বাংলাদেশের জিনিস পত্রের বাজার দর তো সবার জন্য সমান। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি বা খেটে খাওয়া শ্রমিকদের জন্য আলাদা কোন বাজার নাই। যে বাজারে কর্মকর্তা কর্মচারিরা বাজার করে সেই বাজারে ৩শত টাকা মুজুরির খেটে খাওয়া শ্রমিকও বাজার করে। লক্ষ টাকা বেতন ভুক্ত সরকারি কর্মচারি যে মূল্যে জিনিষপত্র ক্রয় করে ঐ মূল্যে একজন খেটে খাওয়া শ্রমিকও ক্রয় করে। আয় রোজগারের কম বেশি হলেও বাজার মূল্যের কোন কম বেশি নাই। লক্ষ টাকা বেতনের কর্মচারি দ্বিগুণ তিনগুণ দামে খরচ করতে পারলেও তিন শত টাকা রোজগার করা শ্রমিকের পক্ষে কি সেই দামে খরচ করা সম্ভব?

এমন এক সময় বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে যখন রাজনৈতিক নেতারা জনগণ নয় নির্বাচন নিয়ে নিজের গদি দখল করার জন্য দিকবিদিক ছুটাছুটি করছে। সরকার কি করল আর জনগণ কোন বিপদে পড়তে যাচ্ছে সেদিকে তাদের খেয়াল নাই। অতীতেও রাজনৈতিক নির্বাচিত সরকাররা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ইলেকশনের আগে আগে কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন বাড়িয়ে খুশি করার চেষ্টা করতো, এই সরকার নির্বাচিত না হয়েও ঠিক একই কাজ করছে। যদি অন্তবর্তী সরকারের সুপারিশকৃত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হয় তাহলে এই সরকারের ঘাড়ে কোন চাপ পড়বে না কিন্তু বিশাল বাজেটের এই দায় দায়িত্ব গিয়ে পড়বে নব নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের ঘাড়ে। নতুন সরকার কি ক্ষমতায় গিয়েই এই ঝামেলা সামাল দিতে পারবে?

বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের বিশাল বাজাটের সব টাকা রাজস্ব থেকে আসে না, ৪ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে আয় করতে পারলেও আরো দুই আড়াই লাখ কোটি টাকা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বর্তমান বেতন বাবদ ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকার দরকার হয়, সুপারিশকৃত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে লাগবে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার, বেকাররা স্বাভাবিক জীবন তো দূরের কথা দৈনন্দিন খাবারের চাহিদাও পুরণ করতে পারে না, বেকারদের আত্মহত্যা করার অবস্থা। অথচ সেই বেকারদের কর্মসংস্থান না করে, তাদের অনাহারে রেখে, যারা কর্মকরে ডাল ভাত খায় তাদেরকেই উচ্চহারে বেতন বৃদ্ধি করে খুশি করার কারণ কি আমি ভেবে পাচ্ছি না। এটা তো সেই প্রবাদ বাক্যের মতো, ”যারা ভাত পায় তাদের জন্য বিরানী রান্না করো আর যারা ভাত পায় না তাদেরকে না খাইয়ে রাখো।”

লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার কর্ম পায় না অথচ সরকারি অফিসগুলোতে ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার ২২০টি শুন্য পদ পড়ে আছে। সরকার যদি শুন্য পদগুলি পুরণ করে বেকারদের কর্ম সংস্থান করতো তাহলেও দেশের অনেক বেকার সমস্যার সমাধান হতো, মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারতো, কিন্তু বিশাল বাজেটের বেতন বৃদ্ধির ফলে বেকাররা বেকরই থেকে যাবে উল্টো তারা জিনিষপত্রের মূল্য বৃদ্ধির যাতাকলে পড়ে আরো মরার দশা হবে।

অতীতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই কথাগুলো বলতে হচ্ছে। দেশ স্বাধীনের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন কাঠামো অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে, যতবার পরিবর্তন হয়েছে ততবারই বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে আর এই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে কুলি, মুজুর, কৃষক, শ্রমিক, ভিক্ষুকসহ সাধারণ জনগণকে। বর্তমানে দেশে ৫০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক কাজ করে। তাদের বেতন খুবই নগন্য। বেশিরভাগ শ্রমিক ১৩/১৪ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে, এই টাকার মধ্যেই তাদের পুরো পরিবার চালাতে হয়। এইসব শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি না করা অবস্থায় যদি বাজার মূল্য বৃদ্ধি পায় তারা কি ১৩/১৪ হাজার টাকায় পুরো পরিবারের ভরণ পোষণ করতে পারবে?

আমি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধির বিপক্ষে নই, তবে সেটা যদি হতো ঘুষ দুর্নীতিমুক্ত অফিস আদালত গঠনের লক্ষ্যে। কিন্তু সেটা তো হবে না। যারা ঘুষ দুর্নীতি করে তারা তো বেতন বাড়লেও দুর্নীতি করবে। বেতন যতই বাড়ুক তারা চরিত্র পরিবর্তন করবে না।

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন দ্বিগুণ তিনগুণ বৃদ্ধি করলেও আপত্তি নাই, তবে কুলি, মুজুর, কৃষক, শ্রমিক, ভিক্ষুক, বেসরকারি চাকরিজীবিসহ স্বল্প আয়ের লোক যারা আছে তাদের আয়ের কথাও তো চিন্তা করা দরকার। সাধারণ জনগণের আয় রোজগারের স্বল্পতা রেখে একটা শ্রেণীর হঠাৎ করেই রোজগার দ্বিগুণ করে দেয়াটা কি যুক্তিসম্মম হবে? যদি লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত বাজেট অন্য কোথাও থেকে সংগ্রহ করা হয় তাহলে সমস্যা নাই কিন্তু এই অতিরিক্ত বাজেটের বোঝা যদি জনগণকেই বহন করতে হয় সেটা তো জনগণের পক্ষে বহন করা কষ্ট হবে। সরকারের উচিৎ হবে কৃষক, শ্রমিক, কুলি, মুজুর, ভিক্ষুকসহ সাধারণ জনগণের আয়রোজগারের সাথে সমন্বয় রেখেই সরকারি কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধি করা। বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত বাজেট যাতে জনগণ বহন করতে পারে সেই ব্যাবস্থা রেখেই দ্বিগুন তিনগুণ বেতন বৃদ্ধি করা দরকার। তা না হলে স্বল্প আয়ের লোকজন বেতন বৃদ্ধির যাতাকলে পড়ে চোখে সর্ষের ফুল দেখার অবস্থা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২০
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারতের লেজ গুটিয়ে পালানো কেবল শুরু

লিখেছেন অপলক , ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪



বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে (বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বিআইএফপিসিএল) শনিবার সকালে খাবারের টেবিলে ৯ কর্মকর্তাদের না পেয়ে কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানা যায়, তারা কাউকে না জানিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এটা দুর্ঘটনা নয়—এটা প্রকাশ্য অবহেলায় সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ড

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

গুলশান–১, ১৪০ নম্বর রোড।
একটি গাছের পাশেই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশফাক চৌধুরী পিপলু। সাধারণ মানুষের মতোই তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ উপর থেকে ছিটকে পড়া একটি লোহার রড সোজা ঢুকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৭



হ্যালো ফারাজা,
তুমি কথার পিঠে কথা বলতে শিখে গেছো! পাঁচ বছরের এক বাচ্চা মেয়ে কি সুন্দর কথা বলছে। মাঝে মাঝে বাবার সাথে রাগ দেখাচ্ছে। বাবার কাছে গল্প শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারি কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধি সাধারণ জনগণ কি স্বস্তি পাবে?

লিখেছেন পবন সরকার, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭


সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ আড়াইগুণ বৃদ্ধির সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। যে হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে সেই হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবে। বর্তমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোষ্টে ব্লগার কলিমুদ্দি দফাদারকে ধন্যবাদ........এবং কিছু প্রশ্ন!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৪




"নিজেকে জানো" বা "Know Thyself" অ্যাপোলো মন্দিরে খোদাই করা একটি প্রাচীন গ্রীক উক্তি। অনেকে অবশ্য এটাকে সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হিসাবে জানে।

সে যাই হোক, নিজেকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×