somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পদাতিক চৌধুরি
আমি আমার নিরক্ষর কিন্তু বুদ্ধিমতী মায়ের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়েছিলাম,যথাযথ কর্তব্য পালন করেই উপযুক্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব। - মহাত্মা গান্ধী

তটিনী

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সেদিন ধর্মতলায় একটি কাজ ছিল । ফেরার পথে এসপ্ল্যানেড থেকে মেট্রো ধরে দমদমে নেমে সিঁড়িবেয়ে উপরে উঠছিলাম, ডানদিকে টার্ন নিতেই একজনের সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল । মনে হল কোথায় যেন দেখেছি ওনাকে । এমন সময় হঠাৎ ফোনটি বেঁজে ওঠায় চোখ নামিয়ে ফোনটি ঘাটতে ঘাটতে এগিয়ে চললাম । পিছন থেকে নারী কন্ঠে ,
- Excuse me.! আপনি কী পিটার চৌধুরী?
- মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে, পাল্টা জিজ্ঞাসা করলাম ,
- আপনি তটিনী মুখার্জি?
সঙ্গে সঙ্গে একঝলক হাসি । চিরাচরিত শিশুসুলভ বিহ্বলতা ।
-কত্তদিন পরে দেখা ।
- হ্যাঁ , তা প্রায় পঁচিশ বছরেরও বেশি হবে ।
সঙ্গে সঙ্গে আপনি থেকে তুমিতে চলে এসে,
- তুমি এখন কী কর?
- বলার মত তেমন কিছু করিনা । তবে একেবারে বসে না থেকে একটি সফ্ট ড্রিঙ্ক কোম্পানীর আঞ্চলিক ম্যানেজার । তুমি কী কর ?
-আমি ঐ সাইকোলজিস্ট । নিজস্ব চেম্বার আছে গল্ফগ্রীনে । তুমি এখন কোথায় থাকো ?
-সল্টলেক , ১৪ নম্বর ট্যাঙ্ক ।
- সল্টলেক!
- হ্যাৃ, সল্টলেক ঠিকই, তবে সেটা ধ্যারধেরে গোবিন্দপুর । তা তটিনী তুমি কোথায় থাকো ? আমার নিউটাউনে ফ্লাট আছে ।
আমাদের কথা শেষ হবার আগেই তটিনী ব্যাগ থেকে একটি কার্ড বার করে এগিয়ে দিয়ে বললো ,
- ফোন করবে । বড্ড তাড়া আছে । আবার দেখা হবে ।
আমিও হাত দেখিয়ে বিদায় জানিয়ে এগোতে লাগলাম ।

আমরা তখন কলেজে পড়ি , তটিনী কলেজে বেশ জনপ্রিয় ছিলো । একেতো রূপ ছিল দেখার মত । চোখদুটি ছিল অত্যন্ত মায়াবী । সেই সঙ্গে ছিল সকলকে অসম্ভব আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা । হাসতো একেবারে প্রাণ খুলে । আমরা ওর হাসি প্রসঙ্গে বলতাম , হাসিতে ও একশোতে একশো পাবে । একবিকালে ক্লাস শেষে আমরা বেশ কয়েকজন একবার ওর এই ভুবনমোহিনী হাসি ও সবাইকে আপন করার রহস্য জানতে চেয়েছিলাম । উত্তরে তটিনী জানিয়েছিল ,

- আমি তখন ক্লাস নাইনে উঠেছি, গার্লস স্কুলে পড়ি । বাবা প্রত্যেকদিন সকালে অফিসে বেড়িয়ে যায়, ফেরে অনেক রাতে । মা সারাদিন বাড়ির কাজ সামলিয়ে আর আমাকে সময় দিতে পারছিল না। তাছাড়া মা আর্টস গ্রাজুয়েট হওয়ায় ক্লাস নাইন থেকে ইংরেজি ও বিজ্ঞানের জন্য আলাদা মাস্টার রাখার প্লান বাড়িতে আগে থেকেই ঠিক ছিল । যে কারনে নুতন ক্লাসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমার জন্য দুজন গৃহশিক্ষক নিযুক্ত হল । অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর সরকার আমাকে ইংরেজি পড়াতেন । আর দুই বিজ্ঞান ও অঙ্ক করাতেন বিজন সাঁতরা । বিজনদা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্সে M.Sc পড়ে । বিজনদার পড়ানো আমার যতটা ভালো লাগতো ঠিক ততটাই বোরিং ছিল সমরবাবুস্যরের পড়ানো ।

সমরবাবুস্যর প্রচন্ড গল্প করতেন । প্রত্যেকদিন পড়ানো শুরু করবেন Tense দিয়ে। কথায় কথায় বলতেন, Now we discuss. আবার পানও খেতেন পড়াতে পড়াতে । বেশ কয়েকবার পানের পিক মুখের এক পাশ থেকে ফিনকি দিয়ে ওনার পাঞ্জাবীতে পড়েছে। একবারতো আমার ইংরেজি বইতেও পড়েছিল । বাবাকে সে কথা বলতে ,
-ওনার বয়স হয়েছে । এই বয়সে একটুআধটু এরকম হয় । তবে উনি খুব ভালো ইংরেজি পড়ান ।
বাবা যাই বলুক সমরবাবুর এই বোরিং ইংরেজি পড়ানোর ফলে বিষয়ের প্রতি আমার একটি বিতৃষ্ণা চলে আসে । মাধ্যমিকের রেজাল্টেও তার প্রভাব পড়েছিল । ইংরেজিতে আমি সর্বনিম্ন নাম্বার পেয়েছিলাম ।

এদিকে বিজনদার কাছে বিজ্ঞান পড়ে আমি সেবার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় স্কুলে তিনটি বিষয়েই প্রথম হয়েছিলাম । খাতাবার হবার কয়েকদিন পরে আচমকা বিজনদা আমাদের বাড়িতে পড়াতে আসা বন্ধ করে । প্রথমে মনে হয়েছিল হয়তো দাদার ব্যক্তিগত অসুবিধার জন্য আসছে না । আরও কয়েকদিন যেতেই মাকে জিজ্ঞাসা করতেই শুনি বিজনদাকে পড়াতে আসতে বারন করে দিয়েছে। কারন জানতে চাইলে মা অবশ্য সব বিষয়ে মাথা ঘামাতে নেই বলাতে আমি নিশ্চুপ হয়ে যাই । এই ঘটনাতে মনে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছিলাম । কয়েকদিন রাগ করে স্কুলেও যাইনি । মায়ের সঙ্গে কথাও তেমন বলতাম না ।

দিনপনেরো পরে একদিন সন্ধ্যে বেলা আবার একজন গৃহশিক্ষক এলেন, অশোক সেনাপতি । মাঝবয়সি এবং বিবাহিত মাস্টারমশাইকে আমি অশোকদা বলতাম । আশ্চর্য! আমার মাও ওনাকে অশোকদা বলে ডাকা শুরু করলো । অশোকদা কোনও চাকরি পায়নি । প্লেন সাইন্স গ্রাজুয়েট । টিউশনিই পেশা, পড়াতেনও খুব খারাপ নয় । তবে অস্বীকার করবোনা যে বিজ্ঞান বা অঙ্ক কষে যে মজা বা আনন্দ পাওয়া যায় তা শিখেছি বিজনদার কাছ থেকে । অশোকদার আবার extra জ্যামিতিতে বেশ সমস্যা ছিল । আমি হঠাৎ কিছু সল্ভ করতে দিলে উনি রেগে যেতেন । তবে উঁকি মেরে দেখে নিতেন । দুদিন পরে অন্য একটি সমস্যা সমাধানে হঠাৎ করে আগের অঙ্কটা করে দিতেন । অশোকদার অঙ্কের সমস্যাটা বুঝতে পারলেও আমি ধরা দিতাম না । ক্লাস নাইনে বার্ষিক পরীক্ষায় আশানুরূপ নম্বর আমি পাইনি । অথচ আমি বেশ বুঝতে পারছিলাম অশোকদা আমাকে আমার প্রয়োজন মত পড়াতে পারছে না । বাবামাকে বললেও কোন কাজ হবেনা ভেবে কিছু বলতাম না ।

যথারীতি অশোকদা ক্লাস টেনেও পড়াতে আসতেন । সবে দুমাসও তখন স্কুল হয়নি , হঠাৎ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাবা অফিসে যায়নি । মায়ের মুখ থমথমে । দুজনের কারো মুখে কোনও কথা নেই। আমি বাবাকে অফিস না যাওয়ার কারন জিজ্ঞেস করলাম । বাবা কোন উত্তর দিল না । মাও যন্ত্রের মত কাজ করে যাচ্ছে । এক অসহ্য গুমোট অবস্থায় আমার মাথা গরম হয়ে গেল । চিৎকার করে উঠলাম ,
- তোমরা আমার সঙ্গে কেন এমন আচরণ করছো ? তবুও দুজন নির্বিকার । আমি রাগে ছুটে খাটে গিয়ে শুয়েশুয়ে কাঁদতে লাগলাম । সারাদিন প্রায় নিজের ঘরে স্নান খাওয়া দাওয়া না করে কাটিয়ে দিলাম । সন্ধ্যের দিকে প্রচন্ড ক্ষিদে পেল । সামান্য দুমুঠো ভাত খেয়ে নিলাম । ছোটো থেকেই বাবামা ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু । আমি কোনোদিন আমার বাবামাকে ঝগড়া করতে দেখিনি । কোনদিন কোনও কথাও লুকাই নি । অথচ কেন যে আমাদের সংসারে এমন প্রলয় ঘটে গেল আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না ।

এদিকে সেদিনের এই রহস্যের বেশ কিছুদিন পরে আবার আমি স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম । বাবা যদিও পরেরদিন থেকে অফিসে যাওয়া শুরু করেছিল । পরিবর্তন যেটা হল অশোকদার আমাদের বাড়িতে পড়াতে আসা বন্ধ হয়ে গেল । ক্লাস টেন, একেতো পড়ার চাপ তার উপর সামনে টেস্ট পরীক্ষা । মনে মনে প্রচন্ড টেনশনে পড়লাম । একদিনতো বাড়িতে ভীষণ কান্নাকাটি শুরু করলাম । মা আমার পাশে এসে দাঁড়ালো । শাড়ির আঁচল তুলে আমার চোখের জল মুছতে মুছতে প্রশ্ন করলো ,
- আচ্ছা তনি ( আমাকে বাবামা আদর করে সংক্ষেপে এই নামে ডাকতো ) একটা কথা জিজ্ঞেস করবো , সত্যি কথা বলবি ?
- তুমি এভাবে কেন জিজ্ঞাসা করছো ? আচ্ছা মা আমি তোমাদের কী লুকাচ্ছি বলে তোমাদের মনে হয় ? ছোটো থেকে আজ পর্যন্ত এমন কোনও কথা আমার নেই যা তোমাদেরকে বলিনি ।
- না মানে, প্রথমেতো তোর সঙ্গে বিজনের সম্পর্ক ছিল ।
- আমার সঙ্গে? বিজনের সম্পর্ক ! তোমরা কীভাবে বুঝলে ? কে তোমাদের বলেছে যে তোমাদের মেয়ের এরকম সম্পর্ক তৈরী হয়েছে ?
- না, কাউকে বলতে হয়নি । আমরা তোর ঘুমের মধ্যে শুনেছি সে কথা ।
- ঘুমের মধ্যে! বিজনের সঙ্গে আমি কথা বলছিলাম । মা আমি হাসবো না কাঁদবো ভাবতে পারছি না । তা কী কথা বলেছিলাম আমি ?
- না, তেমন কোনও কথা নয় । সব পড়াশোনার কথা বলছিলি ।
- আর তাতেই তোমরা তোমাদের মত বুঝে নিয়ে তাকে পড়াতে আসা বন্ধ করে দিলে ?
- আসলে তোর বাবা বললে , হাজার হোক আমরা ব্রাহ্মণ ।
- মা , তোমরা তোমাদের মেয়েকে এখনও চিনলে না । আচ্ছা বিজনদা যাক । অশোকদা তো বিবাহিত । বাবার চেয়ে হয়তো সামান্য বয়সে ছোটো । তা ওনাকে কেন বারন করলে ?
- ঐযে! সেদিন রাতে ঘুমের মধ্যে আবার অশোকদার সঙ্গে কথা বললি । বিশ্বাস কর মা , আমি তোর বাবা প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেছি । তুই আমাদের একমাত্র মেয়ে । এভাবে তোর কিছু হয়ে গেলে আমরা পাগোল হয়ে যাবো, তনি ।
- মা, একসময় তোমাদের জন্য আমার গর্ব হত । কিন্তু আজ আমি বুঝতে পারছি আমি এ কোথায় এসে পড়েছি । আমার আর বেঁচে থাকার কোনও ইচ্ছে নেই ।
- না না! তনি , আমার মা। এমন অলক্ষুনে কথা বলিস না ।

পৃথিবীতে সবচেয়ে আপনজন যে বাবামা তাদের বিশ্বাস হারিয়ে আমি তখন রীতিমতো মানসিক রুগী । স্কুলে যেতাম খেয়ালখুশি মতন । বাড়িতে আর কোনও মাস্টারের কাছে পড়বোনা জানিয়েছিলাম । নিজে যেটুকু পেরেছি পড়াশোনা করে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিই । তার মধ্যে ইংরেজিতে পেয়েছিলাম সর্বনিম্ন নাম্বার । এদিকে বাবামায়ের সঙ্গে আমার কথাবার্তা একেবারে কমে গেল । কোনও কোনও সপ্তাহে একবারও ওদের সঙ্গে কথা হতনা । মাও পারতপক্ষে আমার ঘরের দিকে আসতো না । ইতিমধ্যে এগারোক্লাসে পড়াকালীন মাসতুতো দাদার বিয়ের নেমন্তন্ন পড়লো । আমি তখন এমনিতেই সারাদিন প্রায় ঘরে কাটাতাম । সুতরাং বিয়ে বাড়ি যাওয়ার কোনও ইচ্ছা ছিল না । অথচ বাবামা আমাকে ছেড়ে যেতে অস্বীকার করলো । মাসিকে মা জানিয়েও দিল যে আমাদের যাওয়া হচ্ছেনা । মায়ের এই অসহায় মুখটি আমাকে ভীষন ব্যাথিত করে । আমার জন্য বাবামায়ের যাওয়া আটকে যাচ্ছে দেখে, অবশেষে মত দিই । মা খুব খুশি হয়েছিল।

আমার মাসতুতো বোন শিবানী আমার চেয়ে দুবছরের ছোটো । তবে ছোটো থেকেই ও ছিল আমার ভীষণ নেওটা । সেদিন রাতে শিবানীর সঙ্গে প্রচুর কথা হয়েছিল । শিবানীকে বলতে পেরে নিজেকে অনেকটা চাপমুক্ত মনে হয়েছিল । রাতে একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলাম । পরেরদিন সকালে বাবামা যেন সম্পূর্ণ বদলে গেল। আমিও অবাক হয়ে গেলাম । ওদের এই হঠাৎ পরিবর্তনের কারন খুঁজে পেলামনা । একেবারে সবকিছু আগের মত লাগছিল ।

বিয়েবাড়িতে এমনি ব্যস্ততা তার উপরে আমার সঙ্গে বাকিদের আচরণের সদ্য পরিবর্তনে মনের মধ্যে একটা কিউরেসিটি তৈরী হল । শিবানী কে কথা আছে বলে একটা ফাঁকা স্থানে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই ও হেসে একেবারে মাটিতে পড়ার উপক্রম করলো। আমিই ওকে ধরে শান্ত হতে চাপ দিলাম । শিবানীর কথায়,
- বাড়িশুদ্ধ লোকজন তোমাকে খুব খারাপ ভাবছিল। সবার ধারনা, বাড়িতে যে কোনও টিউটর পেলেই তুমি নাকি তার সঙ্গে প্রেমে জড়াতে । যেটা রাতে ঘুমের মধ্যে সব বলে ফেলতে । কিন্তু গতরাতে নাকি তুমি আমার সঙ্গে প্রচুর কথা বলেছো । বাড়িশুদ্ধু সবাই সেকথা শুনেছে । আর এর ফলেই সবারই ধারনা হয়েছে যে তোমার এরকম কিছু আগে ছিল না । ঘুমের মধ্যে কথাবলার পরিনাম যে কী মারাত্মক হতে পারে তা আমার চেয়ে আর কে ভালো জানে ।

দাদার বিয়ের পর বাবামা আমাকে নিয়ে এক সাইকোলজিস্টটের কাছে নিয়ে যায় । টানা তিনমাস আমাদের ওনার কাছে যেতে হয়েছিল । আমার সঙ্গে ঐদিদির খুব বন্ধুত্ব হয়েগেছিল । উনি বাবামাকে আমাকে ফ্রিভাবে সবার সঙ্গে মিশতে দিতে বলেছিলেন । ঘুমের মধ্যে কারও সঙ্গে কথা বলা মানে কোনও প্রেমঘটিত ব্যাপার নয় । আমরা সারাদিন যাদের সঙ্গে আপনমনে কথা বলি বা ভাবি সেগুলি মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে আমাদের মুখে চলে আসে । যে কারনে এটা কখনই ভয়ের কারন নয় । উল্লেখ্য তার পর থেকে বাবামা আমার কোনও বিষয়ে কখনও সন্দেহের চোখে দেখতো না । আমি সারাদিন যেটাই করি সন্ধ্যেতে মায়ের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিতাম । আমারা আবার আগেরমত একে অপরকে ফিরে পেলাম ।

তটিনীর কথা ভাবতে ভাবতে ওর দেওয়া কার্ড থেকে নম্বরটা নিয়ে কল দিতেই রিং হতে লাগলো । হ্যালো বলে পরিচয় দিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল ,
- তটিনী তুমি বিয়ে করেছো কাকে ?
ওপ্রান্ত থেকে হাসতে হাসতে উত্তর এল ,
- প্রথমে যার কাছে বিজ্ঞানকে ভালোবেসে ছিলাম, সবার কাছে ধাক্কা খেতে খেতে কখন যে মানুষটার প্রতি টান চলে এসেছিল তা আমি নিজেই বুঝতে পারিনি । সে অনেক কথা । বিয়ে করেছি বিজনদাকেই । আর সাইকোলজি নিয়ে পড়ার কারন যে অভিজ্ঞতা আমার জীবনে হয়েছিল, সেখান থেকে বার হতে গেলে এটাই ছিল আমার কাছে সর্বোৎকৃষ্ট পথ। আমার দ্বিতীয় প্রেম সাইকোলজি । বলে আবার হাসির লহরী তুললো ...

বিঃদ্র- পোষ্টটি উৎসর্গ করা হয়েছে অন্যতম জনপ্রিয় কবি শ্রদ্ধেয় বিদ্রোহী ভৃগুভাইকে।

( ছবিটি আমার প্রিয় ছাত্র শ্রীমান সুজিত কুমার দাসের আঁকা )
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:০৮
৪৮টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
-মোঃ মুসা (গাঙচিল)

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
ঘর কাপলের জোড়া শালিক!
শেষ শিশিরের নরম আলো
তোমার মনে মুখটা একটু ধুইতে দেবে?

তুমি আমার নৌকা বিহীন নদী হবে?
বৈঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×