somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দি ভয়েস
দেয়ালের অপর পীঠ

ব্লাড কালেকশান ও বিড়ম্বনা ( এটা একটি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বই আর কিছুই না )

০৭ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর আগে বড় আপুর একটা অপারেশন হয়েছিল । তো মগ বাজারের কোন হসপিটালে এডমিট করলাম । ডাক্তার জানালেন সব কিছু ঠিক আছে তবে ব্লাড লাগবে । আমি নিচে ল্যাবে গিয়ে ক্রস টেস্ট করানোর কথা বললাম । তো প্রথমেই যথারীতি ব্লাড গ্রুপ চেক করা হল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার সাথে গ্রুপ মিলল না । পরে গেলাম এক টেনশনে । আপার ফার্ম সাইজ একমাত্র পুত্র, বয়সও কম । আর আপা মরে গেলেও তার ব্লাড নিবে না । সব প্রস্তুতি নিয়ে বললাম, '' আপনারা অপারেশনের জন্য তৈরি হোন, ব্লাড নিয়ে ফিরছি কিছুক্ষন পর । ''

গেলাম সন্ধানীতে । ওনারা বললেন ব্লাড নেই । একটি ফর্ম ফিলাপ করে সাবমিট করতে বলল । করে দিলাম । বলল, '' দশ মিনিট বসেন, ব্লাড পাওয়াও যেতে পারে । কিন্তু পনের মিনিটেও কোন ফোন আসলো না । বুঝলাম, এখানে বসে থাকলে কোন কাজ হবে না ।

গেলাম রেড ক্রিসেন্টে । একই ঘটনার প্রতিচ্ছবির প্রতিফলন ঘটলো । এভাবে একে একে আশেপাশের সকল ব্লাড বাংক গুলিতে ঢুঁ মারলাম । কিন্তু কিছুতে কিছু কাজ হল না । শেষে ফিরে এলাম হসপিটালে । জানালাম, '' ব্লাড বাংক গুলো থেকে ফোন আসবে । ''

আমার সাথে পুরান ঢাকার এক ছেলে ছিল । সে জানাল যে, তার বন্ধুদেরকে সে ব্যাপারটি জানিয়েছে । যদি ভাগ্য সদয় হয় তবে সেখান থেকেও খবর আসতে পারে । অনেকটা সময় পার হয়ে গেল কিন্তু ব্লাড ব্যাংক থেকে কোণ ফোন এলো না । হতাশ হয়ে গ্রাউন্ড ফ্লোরে পাইচারি করছি । এমন সময় ল্যাব থেকে এক ডাক্তার ডেকে বললেন, '' এই নাম্বারে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন । এরা প্রফেশনাল ব্লাড ডোনার ।'' ভেবে দেখলাম, '' যদিও এদের থেকে ব্লাড নেওয়া ঠিক না, কারন এরা নাকি কিছু মেডিসিন সেবনের মাধ্যমে ব্লাড গ্রোউথ বাড়ায় । '' যাই হোক নিত্তান্ত নিরুপায় হয়েই দিলাম ফোন । ওপাশ থেকে বলল,
- কে ?
- জী, আমি অমুক হসপিটাল থেকে বলছিলাম ।
- হ্যাঁ । বলুন ।
- এখানে আমার এক পেসেন্ট আছেন । ওনার জন্য অমুক গ্রুপের ব্লাড লাগবে ।
- আচ্ছা ঠিক আছে । আপনি নাম্বার পেলেন কোথায় থেকে ?
- জী, এখানকার ল্যাবের এক ভাই দিলেন ।
- ব্লাড দেয়া যাবে । কিন্তু প্রতি প্যাক এক হাজার টাকা করে লাগবে ।
- আমি দেখলাম অনিশ্চয়তায় না ভোগে, আনিয়ে নিলেই হয় । আর এখানে তো ক্রস টেস্ট করেই নিবে ।বললাম, '' নিয়ে এতো ব্যাগ নিয়ে আসেন । ''
- আচ্ছা , আমরা বাইক নিয়ে আসছি । আপনি গেটে দাঁড়ান ।
- আচ্ছা ।

ফোন রাখার প্রায় তিন-চার মিনিট পরেই ঐ ছেলে বলল, তার এক ফ্রেন্ড নাকি ব্লাড দিতে পারবে । আমি বললাম, তবে তাই হোক । ঐ ছেলেকে আসতে বলে দাও । প্রফেশনালের চাইতে এটাই উত্তম হবে । আর আমি ও ঐ লোকটাকে আসতে মানা করে দিচ্ছি । ঐ ছেলেকে নিয়ে ল্যাবে গেলাম, দেখলাম ল্যাবের সেই ভাইয়ের মুখ ভাড় । ক্রস টেস্ট করানোর পর বললাম, ব্লাড কালেকশানে রাখেন , আমি ডাক্তারকে ফোন দিচ্ছি ।

সবকিছু ঠিকঠাক । নিচের ফার্মেসিতে গিয়ে বললাম, যাযা লাগবে একটা বিল করেন তো । মেডিসিনের তালিকাটি হাতে ধরিয়ে দিলাম । তার কিছুক্ষন পর সেও আমার হাতে বিশাল বিলের চুতা ধরিয়ে দিলেন । খেয়াল করলাম, আম্র জানা কয়েকটা মেডিসিনের দাম বেশি ধরা হয়েছে । বললাম, ঠিক আছে ভাই কষ্ট দিলাম । '' আমি একটু আসছি । বলে উপরে গেলাম । ওয়েটিং রুমে বসে থেকে নীচে নেমে গেট দিয়ে বেড়িয়ে গেলাম । বাইরের এক ফার্মেসিতে হিসেব করতে বললাম, সে জানালো এতো টাকা হয় । বললাম, '' সব প্যাক করুন । '' কিছুক্ষন পর দেখলাম একটা ঔষধ কম ।

অমুক নামের সেন্সলেস করার ঔষধ নাকি বাইরের ফার্মেসিতে রাখা নিষেধ । তাই তারা দেয়নি । নীচের ফার্মেসিতে গেলাম । তারা জানালো নেই । একজন তো সরাসরি বলেই ফেললেন, '' কেন ? বাইরে থেকে সব আনতে পারলেন, এটাও নিয়ে আসুন । '' গেলাম বাইরে । খুঁজ নিলাম অনেক ফার্মেসিতে । কিন্তু কিছুতে কোন কাজ হল না । মাথায় বুদ্ধি এলো, পাশেই তো মগ বাজার কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র । গেলাম সেখানে, কিন্তু তারাও বলল নেই । লাগেটা কেমন ?

কিছুক্ষন পর এক লোক বলল আছে । আমি এনে দিতে পারব কিন্তু টাকা লাগবে অনেক বেশি । বললাম, লাগবে নারে ভাই । শেষে আবার কোন ঝামেলায় ফেসে যাবো । '' দেশের আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভাল '' কেউ যদি চক্ষে আঙ্গুল দিয়েও বলে, আমিও তাও বিশ্বাস করি না ।

ফিরে এলাম হসপিটালে । এসে দেখলাম সেই ডাক্তার আন্টি হাজির এবং সে মা ও বোনের সাথে গল্প জুরে দিয়েছেন । সে আমায় বলল, '' সব রেডি কিনা ? '' আমি উত্তর করলাম, '' সব রেডি তবে ! '' সে বলল, '' তবে কি ? '' আমি বললাম, '' ঐ সেন্সলেস করার মেডিসিনটি পাওয়া যায়নি । '' সে বলল, '' নীচেই তো আছে । '' আমি বললাম, '' তারা বলছে নেই । '' সে একটি চিরকুটে মেডিসিনের নাম ও তার সই দিয়ে দিলেন । ব্যাস কাজ হয়ে গেল । যদিও আমি তাদের আর কিছু বলিনি । আসোলে ঐ আন্টিই ছিলেন হসপিটালের মালিক এবং সে আমাদের পূর্বপরিচিতা । বেশ মজা লেগেছিল ব্যাপারটা । তবে খুব কষ্টও হচ্ছিল এই রকম একটা বাজে অভিজ্ঞতার জন্য ।

পুনশ্চঃ ১
ব্লাড ব্যাংক গুলোতে ব্লাড পাওয়া যাবে, এমনটা ভবা মোটেই উচিৎ নয় । অপারেশনের আগেই সব প্রস্তুতি নেয়া উচিৎ । অনেক সময় ইমার্জেন্সি হতে পারে । তখন প্রফেশনালদের খুঁজ না করে আগে আত্মীয়স্বজনদের খুঁজ নেয়া ভাল । কেননা , এদের ব্লাড প্রফেশনালদের চাইতে স্বাস্থ্যবান ও বিশুদ্ধ হয় ।

পুনশ্চঃ ২
আগেই থেকেই হসপিটাল কর্তিপক্ষের সাথে কন্টাক্ট করে নিন যে মেডিসিন আপনি দিবেন এবং তা বাইরে থেকে ক্রয় করবেন । এতে করে পরে কোন মনমালিন্যের সৃষ্টি হবে না । আর মধ্যবিত্ত ঘরের কেউ হলে সার্জঙ্কে বুঝিয়ে বলে রাখুন যেন মেডিসিনের কোন অপচয় না হয় ।

পুশ্চঃ ৩
ব্লাড দেওয়া খারাপ কিছু না । বরঞ্চ আপনার সাস্থের জন্নই উপকারি । তাই ব্লাড দিন জীবন বাঁচান । আপনার এক ব্যাগ ব্লাডে বেঁচে যেতে পারে একটি জীবন । দেখতে পারে এই দুনিয়ার আলো ।

বিঃদ্রঃ ঐ ছেলে কোন টাকা নেয়নি ব্লাড দেবার জন্য । সে সেচ্ছাসেবক ব্লাড ডোনার ছিল । আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব সবসময় যে, একজন অপরিচিত ছেলে হয়েও এমন একটি মহতকাজ ফেরেশতার মতো করেছেন ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×