somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পাপের বোঝা
আল্লাহর নামে শুরু করছি। পাপ আমাদের চারপাশ ঘিরে আছে অক্টোপাসের মতো, জালের মতো। প্রবাদ আছে, ভাল হইতে পয়সা লাগে না। উল্টোদিকে পাপ করতে পয়সা লাগে, কিন্তু এর জন্য খরচ করতে আমাদের গায়ে লাগেনা। এ পাপের অক্টোপাসের নাগপাশ থেকে বাচার জন্য যে সংগ্রাম করতে হবে, তার ব

টোকন কাহিনী----

০৫ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকেই টোকন এককেন্দ্রীক। তার ভাল লাগতো একা থাকতে। আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে থাকতে, বাতাসের ঝাপটায় দুহাত ভরে উপভোগ করতে। সমবয়সীদের সাথে গল্প করা, আড্ডা দেয়া ভিতর থেকে আসতো না । একেবারে যে অসামাজিক ছিলো তা না । ক্রিকেট ভালো পারতো, প্রতি বিকেলবেলা গলি-পার্কে খেলতো। আড্ডা যা দেয়ার তা হতো সব খেলা-ধুলা কেন্দ্রীক। কিন্তু তার সবচেয়ে বেশী ভালো লাগতো গল্পের বই পড়তে, ফ্যান্টাসির ভিতর ঢুকে যেতে। প্রত্যেকটা চরিত্র সে তার কল্পনায় দেখতে পেতো। কোন বই ভাল লাগলে শেষ না করে উঠতো না। রাত শেষ হয়ে যাক, তার ঘুম আসবে না শেষ না করা পযন্ত।

ফ্যান্টাসির জগতে বিচরণ তার কাল হয়ে দাড়ালো। পর্নগ্রাফির জগতে তার প্রবেশ, টোকনের নিজেকে হারিয়ে ফেলার শুরু। তার খেলা-ধুলা, পড়া-লেখা, সামাজিক দেখা-সাক্ষাত, কথা-বার্তা, সবকিছুতেই তার অধ:পতনের শুরু আস্তে আস্তে। ক্লাস এইটের টোকন হঠাত করেই এ খারাপ দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গেলো। এর আগে ধর্ষন কি, সে বুঝতই না। সিনেমায় দেখতো ভিলেন মেয়েদের শরীরের কাপড় ছিড়ে ফেলতো এবং তার সাথে গড়াগড়ি করতো ।

তাদের বন্ধুদের একটা গ্রুপ ছিলো। যারা তিন গোয়েন্দা সিরিজের বই পড়তো, মাঝে মাঝে মাসুদ রানা, কুয়াশা, ক্রুসেড সহ আরো সিরিজ পড়া হতো। ক্লাসের মধ্যেই পড়া হতো গল্পের বই। পাঠ্যপুস্তকের উপর রেখে পড়া হতো। স্যাররা জানতো এসব। তাই মাঝে মধ্যেই রেড ‍দিতো ক্লাসের মধ্যে। গল্পের বই পেলে কেল্লা ফতে। বইতো যাবেই সাথে মাইর ফ্রি। ক্লাস এইটের তেমনই কোন একদিন একটা বই পেল টোকন পড়ার জন্য বন্ধুদের মাধ্যমে, যেটা ক্লাস চলা অবস্থায়ই শেষ করতে হবে বাসায় নেয়া যাবেনা। গল্প গুলো যেন কেমন অন্যরকম, গল্পের বইয়ের মত না, না্রী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে সব কিছু। কেমন জানি অস্বস্তি লাগছিলো তার ক্লাসের মধ্যে এসব পড়তে, এরি মধ্যে দুইটা ঘটনা ঘটলো পরপর।
টোকন যে বেন্চে বসা ছিলো, তার পিছনেই রাজু ছিলো। ও খুব চালু ছিলো তখনই, প্রেম করতো ক্লাস এইটেই। রাজু টোকনের সাথেই বইটা পড়তে ছিলো পিছনে বসে, টোকনের জানার বাইরে। এমনিতেই ওর অস্বস্তি হচ্ছিলো, লজ্জা লাগছিলো। কয়েকটা গল্পের পরই রাজু মজা পেয়ে কয়েকটা শব্দ জোরে পড়লো। টোকন খারাপ বই পড়াটা আর আগালো না এরপর। তারকিছুক্ষণ পর ইংলিশ স্যার ক্লাসে রেইড দিবেন জানা গেলো। যে যার মতো গল্পের বই লুকানোর চেষ্টা করলো। টোকনের কাছে যেটা ছিলো, ওর বন্ধুর কাছে ‍দিয়ে দিলো যার কাছ থেকে নিয়েছিলো। রেইড শেষ হওয়ার পর টোকন খোজ করলো বইটা কই। রিপ্লাই আসলো জানালা দিয়ে ফেলে দিছে সে। জানালার কার্নিসে আছে। ছুটির সময় ওর ঔই বন্ধু বললো, টোকন তুই যদি এসব বই পড়তে চাস, তাইলে ফ্লাইওভারের নিচে ওসব বই বিক্রি করে, কিনে নিস। টোকনের মাথায় গেথে গেলো তথ্যটা।

টোকনের অভ্যাস ছিলো ক্লাসের হোমওয়ার্ক, প্রাইভেট এগুলা শেষ করে গল্পের বই পড়া। বেশকিছুুদিন পর টোকন বাসায় একা ছুটির ‍দিন। কোন গল্পের বইও নাই পড়ার মতো। খেলার সময়ও হইনি। কি করবে কোন কাজ পাচ্ছে না । মনে পড়লো ওসব বইতো কিনতে পারে, পড়তে পারে, ওই বইটা শেষ হয়নাই যে। একটা তাড়না ছিলো বইটা শেষ করতে হবে, যদিও অস্বস্তি হচ্ছিলো। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো কিনবে, চেক করলো টাকা আছে কিনা। আছে, কিনতে পারবে। ....................

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:৫৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×