somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তগল্প: মধ্যরাতে বিভ্রান্ত পাঠক ও কবিতা পারস্পরিক

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যরাতের নৈঃশব্দ্যের ভেতর তোমার চোখের গল্পপাঠ করবো। মধ্যরাত অদ্ভুত সময়। খোলস ভেঙে সবকিছু নিজস্ব রুপে বিমূর্ত হয়ে উঠে। যে গাছগুলো পাখিগুলো মাছগুলো কিংবা মেঘগুলো সারাদিন বেয়াড়া বালকের হাতের ডানার মত দোলে কিংবা এলোমেলো ডাকে কিংবা ঘাঁই মারে কিংবা সদ্যযৌবনপ্রাপ্ত বালিকার মত সারাটা আকাশে ছোটাছুটি করে আর সেই বালিকার ঠোঁটের মত কাঁপে, তারা সবাই এই মধ্যরাতে স্থির হয় আর লুকিয়ে পড়ে কোটরে অথবা জলের গভীরে অথবা আকাশের শেষ সীমানায়, কেবল আমি জেগে উঠি, কেবল তুমি জেগে উঠো, দূরে হয়তো অন্য কেউ জেগে উঠে।
মধ্যরাতের সড়ক তোমার চোখে প্রবাহিত করে দেব ফসলের সমীকরণে, যদিও জানি এ বড় নিষ্ফলা সময়, কেউ কারো ডাকে সাড়া দেয় না।

আমি দেখবো তোমার বাম চোখ উপবৃত্তাকার, ডান চোখ অর্ধবৃত্তাকার। সজল গভীরে রোদ ও মেঘ খেলা করে। পুরু ভেজা ঠোঁটে পতাকার মত ভেসে থাকা হাসি আর সেই হাসির সমান্তরালে চোখের প্রসারণ তোমায় সুশ্রী করে তোলে। তুমি সাধারণ। তুমি সুন্দর।

আমি দেখবো তোমার সোনারঙ গায়ে অনেক সবুজ। ম্যানগ্রোভ বনের সব সবুজ। ঝকঝকে সবুজ সালোয়ারের পেটের ভেতর সুস্বাস্থ্যসম্পন্ন উরু, মসৃণ সন্ধি; আমি কল্পনায় এঁকে নেবো ঈষদার্দ্র সন্ধিমূল, সুস্ফীত প্রতিভার। দেখবো সবুজ কামিজের গায়ে সোনালি ফুলের কাজ, স্বচ্ছ কাপড়ের আড়ালে পেলব বাহুর বিন্যাস, ফুলে থাকা একজোড়া ফল দেখে নেব সবুজ ওড়না সরিয়ে, যেমন পাখিপ্রেমিকেরা আলতো হাতে উঁকি মারে কোমল পাখির ঘরে পাতা সরিয়ে।
গন্ধ নেব তোমার থোকা থোকা চুলে, কালো জারুল ফুলের মত এক বিদীর্ণ নেশার আহবানে। তোমার শরীরের ঘ্রাণে পার করে দেব কুয়াশার ভোর।
এই মধ্যরাতে আমি খুলে দেখব তোমার ঠোঁটের পৃষ্ঠা, মদের গেলাসে আহত যুবক যেমন ঠোঁট রাখে।

আমি দেখবো, দেখবো তুমি কী আরেক বিভ্রান্তি নাকি নির্ভুল আমন্ত্রণ! দেখবো তুমি কী নিখাদ তৃষ্ণার জল নাকি সময়ের কামনা!

*

মধ্যরাতে আপনি রাত মদ আর শরীরকে একাকার করে ফেলেন। অথচ আমি মধ্যরাতের সূত্র মেনে নারী হয়ে এসেছি পবিত্র মদের মায়া নিয়ে, শরীরের পাত্রে। মধ্যরাতে বিভ্রান্ত হতে নেই। অথচ আপনি বিভ্রান্ত হয়ে যান। মধ্যরাতে ঈশ্বর বিভ্রান্ত হয়েছেন। আদম বিভ্রান্ত হয়েছেন। জীবনানন্দ বিভ্রান্ত হয়েছেন।

" ... অন্ধকারে জীবিত ও মৃতের হৃদয়
বিস্মিতের মতো চেয়ে আছে;
এ কোন সিন্ধুর সুর:
মরণের - জীবনের?
এ কি ভোর?
অনন্ত রাত্রির মতো মনে হয় তবু।"

মধ্যরাত জীবনানন্দের দিকে বিস্মিতের মতো চেয়ে থাকে। মধ্যরাতও বিভ্রান্ত হয় বুঝি!
কিন্তু আপনি আজ বিভ্রান্ত হতে পারবেন না। আমার সবুজের ভেতর আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। আপনাকে দেখতে হবে, আমার সবুজ চকচকে সালোয়ার, খুঁজে নিতে হবে এর আড়ালে আগলে রাখা আমার সমস্ত গোপন ইতিহাস। এডমন্ড হিলারির মত আপনিই হবেন প্রথম পদচারী। আমার গোপনীয়তাকে খুলে দেব আপনার সামনে। আপনি মেপে মেপে নেবেন তাপমাত্রা, হিমমাত্রা, আর্দ্রতা। আপনি আমার গভীরে যাবেন, পিচ্ছিল পথ ধরে খুঁজে নেবেন ভবিষ্যতের নকশা, প্রতিভারে ভার বাড়িয়ে আপনি ভারসহনমাত্রা নির্ণয় করবেন।
আপনি সমাধান করে দেবেন কামিজের সোনালি ফুলগুলোর সমস্ত রহস্য, আমার কোমল বাহুতে এঁকে দেবেন তৃপ্ততার উল্কি। উল্কি এঁকে সত্যায়িত করে দেবেন আমার সাধারণ এই নারীসারল্য।
আপনি বিভ্রান্ত হতে পারবেন না। আপনাকে পাতার খোলস খুলে বের করে নিতে হবে গন্ধম ফল। মৌমাছির মত পরখ করে দিতে হবে সুধার গুণাগুণ!
আপনাকে আমার ঠোঁটের গেলাস থেকে পান করে নিতে হবে তৃষ্ণার জল, চোখের সব গল্প লিখে দিতে হবে আরেকবার।
সব শেষে ছিটিয়ে দেবেন চিকচিকে ঘর্মবিন্দু, আমার সারা শরীরে, ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার প্রতিটি বাক্যে, শব্দে, বর্ণে!

*
অথচ তুমি ছিলে না সেই কবিতা, যা আমি পড়তে চেয়েছিলাম আজন্ম, দীর্ঘ দশকের সংগ্রাম পেরিয়ে যে কবিতার সব পাঠ ভুল হয়েছিলো।
অথচ আজ তোমাকেই পাঠ করে ফেলেছি এই মধ্যরাতে, বিভ্রান্তির ভেতর!

তুমি মায়া, তুমি বিভ্রম, আমাকে বিভ্রান্ত করেছো আরেকবার!

*
অথচ আপনি ছিলেন না আরাধ্য পাঠক, আপনার জন্যে আমার গোপনীয়তার কিছু উৎসর্গ হবার কথা ছিলো না, আমার বাহুতে উল্কি এঁকে আমার নারীসারল্যের সত্যায়ন করার কথা ছিলো না আপনার।
অথচ আপনিই আমাকে প্রথম উন্মোচন করেছেন, রিক্ত ও তৃপ্ত করেছেন, এই মধ্যরাতে, বিভ্রান্তির ভেতর!

আপনি মাতাল, আপনি বিভ্রান্ত, আমাকে পেলবহীন করেছেন এই প্রথমবার!

৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×