somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোদখুলির ভেতর অজস্র রামদা কিংবা গোলাপ ক্রয়বিষয়ক

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রামদায় রেখে দিয়েছি নুনের ঘ্রাণ। ধবধবে হাতে কলমের ডগা ফেটে কালি লেপ্টে গেলে এক বিকেলের গল্প নোনতা লাগে আর পাখিভুলের পাপখাতায় লেখা হয়ে যায় অনবদ্য সন্ধ্যার ভেতর উড়তে থাকা এক ভাঙা আলোর খোলনলচে। এভাবেই কেউ কেউ রাতে ফেরে ঘরে আর গেলাসে তুলে রাখে রোদখুলি। উল্টো করে আঁকলেই সন্ধ্যাগুলো দুপুর হয়ে যায় আর করোটিতে হাতছাপ রেখে যায় বালিশছাপা ঘুম। অথচ ফসল ছিলো এবঙ কোথাও কোনো শস্যচাহিদা ছিলো না।
রোদখুলির বিবিধ পাঠের আগে আমরা উঠে পড়ি অভিলম্ব বরাবর ছুটে চলা ট্রেনে। দীর্ঘকাল আমরা কেউই ছিলাম না একা একঘরে। ভেতরে কেউ জেগে উঠে টেনে রাখে মাতালের প্রলাপ আর মধ্যবর্তী দূরত্ব পার হয়ে যেতে চায়। অথচ ভেবেছিলাম ভেতরে এখন আর কেউ নেই। আমরা এখনো কি সহসা ভুল হয়ে যাই!
কোনো কোনো ধারালো অস্ত্রে,যেমন রামদা কিংবা অন্যান্য, কোনো কোনো ধারালো রামদায় রোদ লেগে ঝিক করে উঠে আর স্থির প্রতিচ্ছবি হয়ে যায় কবিদেএ আলোকযন্ত্রে। আর অন্যদিকে পুরোনো নদীর ভেতর অজস্র মাছেরা মিছিল করে। মাছেদের সংসারে এখন ফেরারি হিসাব। পায়ে পায়ে লেখা হতে থাকে পুরোনো সব পাপখাতা। অথচ তোমার চিনিগুড়া চালের ভাতে বাষ্প জমে উঠেনি আর মাষকলাই ডালে পড়েনি রসুনের স্বাদ।

আমার ট্রেন এইসব বাষ্প কিংবা বিভ্রান্ত শব্দের ভেতর বাড়ি ফিরে গেছে সকালের সব রোদ ভেঙেচুরে , বাসের চাকায় দুমড়ে মুচড়ে গেছে বেওয়ারিশ কল্পনার নিষিদ্ধপুরাণ। নুনসমগ্র তাই তোমার আমার দীর্ঘ পরিচয়ের সমাপ্তি হয়ে যায়। দীর্ঘ উপন্যাসের সমাপ্তি, যার আর শেষ নেই। কোথাও কেউ আর লিখে রাখবে না বর্ষার হিসাব, চাদরের উত্তাপ আর কুয়াশা বৃত্তান্ত। বরঙ রঙের বাজারে আমাদের হাতের ভেতর বেড়ে উঠে নতজানু সংসারের ছবি অথবা অফসলের তীব্র যন্ত্রণা। রোদখুলির গায়ে ধারালো রামদা আঁচড় কেটে গেছে কবে কখন, জানি না।

জানি না কীভাবে হাতপাখাগুলো পাখি হয়ে গেলে ঘুমের সড়কে সমুদ্র নামে আর তোমার গহীনে স্রোত কেটে যায়। এভাবেই এখানে জমে উঠে নিস্তব্ধ দুপুরের ঘ্রাণ, করোটিতে। আর এভাবেই তুমি মিলিয়ে নিতে পারো রোদখুলিতে অজস্র রামদার হিসাব।

অথচ আমি কখনোই ভাবিনি, গোলাপও একদিন বিক্রি হবে সস্তায়, নামহীন কোনো গলি অথবা বিচ্ছিরি রাস্তায়।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×