somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ মসজিদ

০৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মসজিদ-উল-হারাম : পৃথিবীর সবথেকে বড় মসজিদ হল মসজিদ-উল-হারাম। ইসলাম ধর্মের সবথেকে পবিত্র স্থান ‘কাবা’কে ঘিরে সৌদি আরবের মক্কা নগরীরতে এর অবস্থান। ৮৮.২ একর বা ৩,৫৬,৮০০ বর্গমিটার জমির ওপরে মসজিদটির অবস্থান।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই মসজিদটির সাধারণ প্রায় ৯ লাখ মুসলিম একসঙ্গে নামাজ পড়ে। তবে হজের সময় এর পরিমাণ বেড়ে কখনো কখনো ৪০ লাখে পৌঁছায়। বর্তমানে মসজিদটির সংষ্কারের কাজ করে যাচ্ছে সৌদি সরকার।



মসজিদে নববী : হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর হাতে ৬২২ খ্রিস্তাব্দে নির্মিত হয় মসজিদে নববী কিংবা আল-মাসজিদুন-নাবী। অর্থাৎ নবীর মসজিদ। সৌদি আরবের মদিনা শহরে এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটিতে ৬ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে।

তবে মসজিদটি হযরত মুহাম্মাদ (স.)- এর রওজা সংলগ্ন হওয়ায় হজের সময় প্রায় ১০ লাখ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করার রেকর্ড রয়েছে। মসজিদের ১০টি মিনারের মধ্যে সবথেকে উঁচু মিনারটির উচ্চতা ১০৫ মিটার।



হারামে ইমাম রেজা : শিয়া সম্প্রদায়ের ১২ ইমামের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজার এই মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে ‘হারামে ইমাম রেজা’ মসজিদটি ‘ইমাম রেজা মসজিদ’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

ইরানের খোরসান প্রদেশের রাজধানী মসনদে অবস্থিত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম এই মসজিদটি। প্রায় ৩,৩১,৫৭৮ বর্গমিটার জমির ওপরে অবস্থিত এই মসজিদটিতে প্রায় ৫ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। ৮১৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মসজিদটির আটটি মিনার রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মিনারের উচ্চতা ৪১ মিটার।





ইস্তিকলাল মসজিদ : জনসংখ্যার দিক থেকে অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত ইস্তিকলাল মসজিদটি। এটিই ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মসজিদ। ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার স্মৃতিস্বরুপ মসজিদটি নির্মিত করা হয়েছিল বলে এর নাম ‘ইস্তিকলাল মসজিদ’।

ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় শব্দটির অর্থ স্বাধীনতা। মসজিদটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৭৮ সালে । ৯৫,০০০ বর্গমিটার জায়গা নিয়ে অবস্থিত পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ এই মসজিদটিতে প্রায় ১,২০,০০০ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে।



মসজিদুল হাসান-আল শানী : মসজিদুল হাসান-আল শানী স্থানীয়দের কাছে ক্যাসাবালাঙ্কা হাজ কিংবা হাসান মসজিদ নামে বহুল পরিচিত। মরক্কোর সবথেকে বড় শহর ক্যাসাবালাঙ্কায় আটলান্টিক মহাসাগরের তিরে অবস্থিত মসজিদটি।


১৯৯৩ সালে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় মসজিদটি। প্রায় ২২ একর জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদটিতে একত্রে ১,০৫,০০০ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটিতে একটি মাত্র মিনার রয়েছে, যার উচ্চতা প্রায় ২১০ মিটার।



ফয়সাল মসজিদ : পাকিস্তানের সবথেকে বড় মসজিদ ‘ফয়সাল মসজিদ’ পাকিস্থানের ইসলামাবাদে অবস্থিত। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহৎ মসজিদ। মসজিদটির নকশা করেন বিখ্যাত তুর্কি স্থপতি ভেদাত দালোকে।


প্রায় ৪৩,০০০ বর্গমিটার জায়গার উপরে নির্মিত এই মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮৬ সালে। এতে প্রায় ৭৪,০০০ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটির চারটি গম্বুজের প্রত্যেকটির উচ্চতা ৯০ মিটার।




জামিয়া মসজিদ : পাকিস্থানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহরের বাহরিয়ায় অবস্থিত পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ মসজিদ, মসজিদে জামিয়া কিংবা জামিয়া মসজিদ।


২০১৪ সাল থেকে এই মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয়। ২১টি গম্বুজ এবং ৪টি মিনার বিশিষ্ট এই মসজিদটি গ্রান্ড জামিয়া নামে বিশ্বব্যাপী বেশ পরিচিত। এতে একত্রে প্রায় ৭০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে।




শেখ জায়েদ মসজিদ : আরব আমিরাতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শেখ জায়েদের নামে প্রায় ২২ হাজার বর্গমিটার জায়গা নিয়ে আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে অবস্থান শেখ জায়েদ মসজিদের। পৃথিবীর অষ্টম বৃহৎ মসজিদ এটি।

১৯৯৬ সালের শেষ দিকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৪১ হাজার মুসল্লি একত্রে এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে ঈদ এবং জুম্মার নামাজের সময় এর পরিমাণ বেড়ে পঞ্চাশ পেরিয়ে যায়। মসজিদটিতে ৮২টি গম্বুজ এবং ৪টি মিনার রয়েছে ।



জামে মসজিদ : ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পৃথিবীর নবম বৃহৎ মসজিদ। ১৬৪৪ সাল থেকে ১৬৫৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মুঘল সম্রাট শাহ জাহান এটি নির্মাণ করেন বলে মসজিদটির নাম রাখা হয় মসজিদ-ই-জাহান নুমা।

তবে জামে মসজিদ নামেই এটি বহুল পরিচিত। প্রায় ২২ হাজার বর্গমিটার জায়গায় অবস্থিত ২৫ হাজার ধারণক্ষমতা বিশিষ্ট এই মসজিদটির ৩টি গম্বুজ এবং দুইটি মিনার রয়েছে। মিনার দুইটির উচ্চতা ৪১ মিটার।





বায়তুল মোকাররম : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম বিশ্বের দশম বৃহৎ মসজিদ। ১৯৫৯ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৬৮ সালে শেষ হয় মসজিদটির নির্মাণ কাজ।

অনেকটা মুঘল স্থাপত্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই মসজিদটির অবস্থান প্রায় ২১,০০০ বর্গমিটার জমির ওপরে। প্রায় ৪০,০০০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে এই মসজিদটিতে।


FROM NEWS24.COM
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৭ রাত ৮:৩৬
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×