1971 সালের 7 মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স (বর্তমান সোহরাওয়াদর্ী উদ্যান) ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণটি দিয়েছিলেন বিগত 36 বছর সেই ভাষণটি বিভিন্নভাবে মূল্যায়িত ও অবমূল্যায়িত হয়েছে। এই ভাষণটি ছিল 18/19 মিনিটের। এই সভায় একমাত্র বক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তাঁকে অত্যনত্দ কৌশলী প্রক্রিয়ায় অপ্রচলিত রাসত্দায় মঞ্চে আনা হয়েছিল। ভাষণের সময় রেসকোর্সের আকাশে একটি হেলিকপ্টার উড়তে থাকায় এবং ভাষণটি রেডিওতে প্রচার শুর" করেও আবার বন্ধ করে দেওয়ায় জনসভায় এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়ার্ত পরিবেশের জন্ম হয়েছিল। ভাষণ ছিল এককভাবে বঙ্গবন্ধু প্রণীত, তার সবটা লিখিতও ছিল না। মঞ্চে আসার আগে তিনি সহকমর্ীদের সঙ্গে দুএকটি বিষয়ে আলোচনা করলেও পুরো ভাষণটির ব্যাপারে একমাত্র বঙ্গবন্ধু পত্নী বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছাড়া অন্য কেউ জ্ঞাত ছিলেন না।
ঐতিহাসিক এই ভাষণের শুর"তেই তিনি বললেন, 'ভায়েরা আমার। আজ দুঃখ ভারাক্রানত্দ মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন।' অথর্াৎ শ্রোতৃবৃন্দের বোধগম্যতার সত্দর সম্পর্কে তাঁর একটা সুস্পষ্ট ধারণা ছিল। তাদের সামনে প্রথমে তিনি সারা বাংলার পথঘাট রক্তে রঞ্জিত হওয়ার কথা বললেন। রক্তদানের পশ্চাতে মানুষের কি অদম্য আকাঙ্ক্ষা ক্রিয়াশীল তাও স্পষ্ট করলেন 'আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।' বাংলার মানুষ কার থেকে কি ধরনের মুক্তি ও অধিকার চায় তা তাঁর বক্তৃতায় প্রচ্ছন্ন থাকলেও অস্বচ্ছ মনে হয়নি। তিনি যখন বক্তব্যে 23 বছরের ইতিহাস বলছিলেন তখন মানসপটে সেলুলয়েডের ফিতার ন্যায় ভেসে উঠেছে বাঙালিরা কেমন করে তাদের জীবন দিয়ে অন্যায়কে প্রতিহত, ন্যায়কে সমুন্নত, বঞ্চনাকে প্রতিহত, জাতিগত অসাম্য ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীভূত করতে চেয়েছিল। জীবন দিয়ে চেষ্টা করার পরও সেগুলো একে একে ব্যর্থ হওয়ায় গত্যনত্দর হিসেবে মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রাম মুখ্য হয়েছে।
তবুও বাঙালিকে আশ্বসত্দ করে বললেন 'মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।' এই অঙ্গীকারের পরই যৌক্তিক উচ্চারণ হচ্ছে 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম_ এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।'
এই ভাষণ সম্পর্কে বিদেশী সাংবাদিকদের অভিমত ভাষণটি একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার প্রায় কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। একেই বলে পরিমিতি জ্ঞান। বঙ্গবন্ধু হয়তো এরচেয়ে কিছু কম বললে সারা জাতিকে হতাশা ও বিভ্রানত্দি গ্রাস করতো আর এরচেয়ে বেশিকিছু বললে তা হতো হঠকারিতা যার পরিণতি হতো নাইজেরিয়ার বায়াফ্রার মতো। বজ্রকণ্ঠে তিনি বললেন, 'আর যদি একটা গুলি চলে_ তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্র"র মোকাবিলা করতে হবে।' রাসত্দাঘাটসহ সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে শক্রকে ভাতে ও পানিতে মারার নির্দেশও তিনি দিলেন। এই শত্র"র পরিচিতিটা সবার জানা ছিল বলে উপস্থিত 10 লাখ শ্রোতার কাছে তা তুলে ধরার প্রয়োজন সেদিন আর ছিল না। সেই শত্র"র শক্তি সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকায় কনভেনশনাল যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে শত্র"কে নাসত্দানাবুদ করে পরাসত্দ করার ইঙ্গিত ছিল।
পাকিসত্দানের 23 বছরের ইতিহাস রক্তদানের ইতিহাস। আমরা অজস্র মৃতু্যতে সশস্ত্র হয়েছিলাম ঠিকই কিন' তার পরেও সারা জাতির অভ্রভেদী ঐক্য ও হিমালয় সদৃশ অটলতা ও সুদৃঢ় মানসিক প্রস'তি আবশ্যক ছিল। মানসিক প্রস'তির জন্য এবং দু'দেল বান্দা, স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাভোগীদের মুক্তিযুদ্ধে সংযুক্ত ও সম্পৃক্ত করার জন্য আরো কিছু পন্থা ও সময়ের প্রয়োজন ছিল। তাই বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণে অসহযোগের ডাক দিলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, 'আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাছারি, আদালত, ফৌজদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।' আর কি চলবে ও চলবে না তারও তালিকা দিলেন। শত উস্কানির মাঝেও সহমর্মিতার কথাও এলো, উচ্চারিত হলো মানবিক বাঙালি কণ্ঠস্বর 'ওরা আমাদের ভাই'। জাতিকে যে আরো সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং আঘাত আসলেই প্রতিঘাত হানতে হবে তাও ভাষণে অনুচ্চারিত রইলো না। হুঁশিয়ার করে দিলেন, 'আমাদের যেন বদনাম না হয় অথর্াৎ আমাদের যেন কেউ আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত না করতে পারে। '
28 ফেব্রচ্ছারিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু জেনেছিলেন যে, বিশ্ব মোড়লরা আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দেবে না। এই কারণে বিশ্ব জনমতকে সপক্ষে রাখতে তিনি আক্রমণকারী না হয়ে আক্রানত্দ হয়েই সহানুভূতির ক্ষেত্রটি প্রস'তে তৈরি ছিলেন। তাই ভাষণটিতে তিনি কতিপয় অপবাদ খণ্ডনে ব্রতী ছিলেন। পাকিসত্দানের অপপ্রচারের জবাবে বঙ্গবন্ধু বললেন, 'তিনি (ইয়াহিয়া খান) আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।' সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হয়েও তিনি যে ধৈর্য ও সহনশীল আছেন এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিঃশেষে উদগ্রীব তাও তদানীনত্দন পশ্চিম পাকিসত্দান ও বিশ্ববাসীকে জানালেন। ষড়যন্ত্রের অাঁচ করতে পেরেই তিনি শ্রোতৃবৃন্দকে বললেন, 'বাঙালিরা বুঝেশুনে কাজ করবেন।' অসহযোগ আন্দোলটাকে যৌক্তিক পরিণতিতে পেঁৗছাতে তিনি হিসাব করেই আত্মরক্ষামূলক অবস্থানটা নিলেন। পাকিসত্দানিদেরকে নৈতিক ও বৈষয়িকভাবে স্থবির করতে তিনি বললেন, 'তোমরা আমাদের ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। আর আমার বুকের ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা কর না। সাত কোটি মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।' সঙ্গে বিবেকবান বিশ্ববাসীকে খবর পাঠালেন যে, পাকিসত্দানিরা বাঙালির অর্থে কেনা অস্ত্র দিয়েই নিরীহ বাঙালিদের হত্যা করছে। বিশ্ববাসীকে এই ম্যাসেজ দেওয়ার পরও আশ্বসত্দ করলেন যে, তিনি শুধু আঘাতের বদলে প্রতিঘাত হানবেন। তিনি প্রথম প্রতিঘাত হানলেন অসহযোগ দিয়ে। সেদিনের অসহযোগ আন্দোলনের সুফল যে কি ছিল তা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। অসহযোগের কারণেই লাখো লাখো মানুষ বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মনে হলো এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। সকল পেশাজীবী, শ্রমজীবী এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার প্রসত্দাব নিয়েছিল। যারা একদিন দ্বিধান্বিত ছিলেন, ইয়াহিয়া খান যখন মুজিবকে পাকিসত্দানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী বলে আখ্যায়িত করলেন, তখন লেইট লতিফরাও অসহযোগে মাঠ গরম করে তুললো। যারা জীবনে বিরোধী রাজনীতির নাম শুনলেও ভড়কে যেতো, সেসব আমলারাও অসহযোগে সমপৃক্ত হয়ে গেলেন। যেসব রাজনৈতিক নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বিরোধিতা করে হত্যা, গুম, ধর্ষণ ও অগি্নসংযোগে স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা নিয়েছিল, তারাও কিন' সেই মার্চ মাসে জনগণের প্রাণের দাবি, মুক্তি ও স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে পারেনি। বিচারপতি মোর্শেদ 25 মার্চের পরই টিক্কা খানকে শপথ গ্রহণ করিয়েছিলেন। অসহযোগের ডাকে একইভাবে স্বেচ্ছায় কিংবা চাপে পড়ে এমন সব মানুষ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল যারা স্বাভাবিক অবস্থায় ক্রেনের টানেও নিজের সুখের সদন ছেড়ে যুদ্ধ তো দূরের কথা রাজপথে নামতেও অনিচ্ছুক ছিলেন।
ভাষণের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বললেন যে, সামরিক আইন তুলে নিলে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরত নিলে, হত্যার তদনত্দ করলে এবং জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হসত্দানত্দর করলেই তিনি সংসদে বসতে পারবেন কি পারবেন না, তা বিবেচনা করে দেখবেন। এটাকেই সমঝোতার আলামত বলে প্রতিপক্ষরা বিবেচনা করছে। প্রতিপক্ষ থেকে অপবাদ আসবে জেনেই বঙ্গবন্ধু বললেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই।' তিনি শ্রোতৃবৃন্দকে বললেন, 'শহীদের রক্তের ওপর পা দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর বসতে পারে না।' তাহলে তো সে ব্যক্তিটি রক্তের ওপর পা দিয়ে সংসদে যে বসতে পারেন না তা বিজ্ঞ লোকেরা না বুঝলেও গ্রামের চাষা-ভুষারা তা বুঝেছিল। সাধারণ মানুষ এমনটা বুঝেছিল বলেই তারা নিঃশেষ হয়েও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে বাসত্দবায়ন করেছিল।
আগেই বলেছি বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ভাষণটি ছিল পরিমিত। অসংলগ্ন উচ্চারণের পরিণতির ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সজাগ ছিলেন । রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান মামলায় (যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত) বঙ্গবন্ধু জেনেছিলেন যে হটকারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা কি পরিণাম ডেকে আনতে পারে। সেই মামলায় তিনি ও তাঁর 34 সহকমর্ী অল্পের জন্য ফাঁসির রশি থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন বলেই পরবতর্ী সময়ে সতর্কতা নিয়েই তিলে তিলে তিনি তিলোত্তমা গড়ছিলেন। সত্তরের নির্বাচন-পরবতর্ী শপথ পাঠ, 7 মার্চের ভাষণ, অসহযোগ আন্দোলন ও সমানত্দরাল সরকারের জন্ম দিয়ে দালাল সৃষ্টির পথ বন্ধ করেছিলেন। অসহযোগ কেবল চেতনার বহ্নিশিখাকেই প্রজ্বলিত করেনি আমাদেরকে খানিকটা হলেও সশস্ত্র হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। দেশের ভিতরে ও বাইরে ট্রেনিং ও অস্ত্রের জন্য বঙ্গবন্ধু তার সুযোগ্য প্রতিনিধিদের প্রেরণের সময় পেয়েছিলেন। অনেকে জানেন যে, মুজিব বাহিনী বা বিএলএফ গঠনের প্রস'তি অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং '71 সালের প্রথমার্ধেই ভারতে তাদের ট্রেনিঙের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাকিসত্দান বাহিনী এ জাতীয় প্রস'তি সম্পর্কে অবগত থেকেই 25 মার্চের রাতে এমন প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিল।
কেউ কেউ বলেছেন শেখ মুজিব হেঁয়ালি পরিহার করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় যদি সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন, তাহলে পাকিসত্দানের অপ্রস'তির সুযোগ নিয়ে আমরা আরো কম জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত আব্র"র বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়ে যেতাম। কি হতো জানি না, তবে বিতর্ক না বাড়িয়ে অনুমান করা যায় যে, এটা হতো হঠকারী আচরণের নব সংযোজন এবং তার পরিণাম হতো ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। সেদিনেও পাকিসত্দানের যে সেনাদল ও অস্ত্রবল ছিল তা দিয়ে রেসকোর্সের 10 লাখ মানুষকে হত্যাও কঠিন ছিল না। এই 10 লাখ লোকের সবাই না হলেও 99 ভাগ ছিল নিবেদিত ও স্বাধীনতার জন্য স্থিরচিত্ত। এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড যে পাকিসত্দান ঘটাতে পারতো তা আজকে আর অস্বীকারের জো নেই। এ অবস্থাটা যাদের কাম্য ছিল তারাই 7 মার্চের বক্তব্যে বিভিন্ন ভাব ও বাণী খুঁজে বেড়াচ্ছে।
7 মার্চে বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে বিশ্ব জনমত কি আমাদের সপক্ষে থাকতো? অনুমান করছি যে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের জবাবে অসহযোগ আন্দোলনই ছিল সঠিক জবাব। স্বাধীনতার আকস্মিক ঘোষণা বিশ্ব জনমতে কোনো অনুকূল সাড়া সৃষ্টি করতো না। এ কারণে বিশ্ব জনমতের অনুকূল সাড়ার অভাবে বায়াফ্রার পরিণাম আমাদের অদৃষ্টে লেখা হয়ে যেতো। কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ভাষণটিকে গ্যাটিসবার্গ ভাষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। গ্যাটিসবার্গ ভাষণের মতোই বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি অনন্য। আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের ফলাফল জেনেই গ্যাটিসবার্গে সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শুর"র আগেই শেষটা দেখেছিলেন, তাই তিনি যুদ্ধ ও যুদ্ধ কৌশলের কথা এতো নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন। দূরদর্শিতার আরো প্রমাণ আছে তার কথায়- 'আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা জীবনের তরে রাসত্দাঘাট যা যা আছে তা বন্ধ করে দেবে।'
আমাদের সৌভাগ্য যে তিনি চূড়ানত্দ হুকুমটি দিতে পেরেছিলেন। সেনাবাহিনীর বহু অফিসার এমনকি মরহুম জিয়াউর রহমান 7 মার্চের ভাষণকে গ্রিন সিগনাল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই ভাষণের রেশ ধরেই গেরিলা যোদ্ধারা পুল, ব্রিজ, কালভার্ট বা অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে দিয়ে পাকিসত্দান বাহিনীকে অনত্দরীণ করে ফেলেছিল। গেরিলাদের প্রচণ্ড আঘাতই পাকিসত্দানিদের আত্নসমর্পণে বাধ্য করেছিল। তাঁর এই ভাষণ ও 1966 সালে নারায়ণগঞ্জে প্রদত্ত একটি ভাষণের ভাব ও বাণী বলতে গেলে ছিল অনুরূপ। তাই 7 মার্চের ভাষণ ছাত্র যুবকের চোখ রাঙানি বা চাপাচাপির ফল বলা মূর্খতা। বাসত্দবতার নিরীখে ও যুক্তির ধোপে তাও টিকে না। সব মিলিয়ে 7 মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সময়োপযোগী ঘোষণা।
অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



