somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার চোখে আমেরিকা- যাত্রা শুরু

২২ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট্টবেলা থেকে যে আমার হাত দেখেছে সেই বলেছে, "তোর জীবনে বিদেশ যাত্রা নেই"। ভীষণ খারাপ লাগতো। তখন থেকেই একটা জেদ ধরে গেছিল। ঠিক করে নিয়েছিলাম একবার অন্তত বিদেশ যাব - যে ভাবেই হোক। এরপর জীবনের নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে এক সময় মনে হ'ত এ জেদ, স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমার এই বর্তমান চাকরি টা পাবার পরই বুঝতে পারি যে আজ না হোক কাল বিদেশ যাবই। কারণ এদের বিশ্বের অনেক দেশেই কাজ চলে। এটুকু পড়ে যদি কেউ ভাবেন যে ছেলেটা নিজের দেশকে ভালবাসেনা -এ নিছকই এক অর্থলিপ্সু, ভোগবিলাসী ব্যক্তির আত্মম্ভরী জীবন আলেখ্য। তাহলে বাকিটা পড়ে সময় নষ্ট করবেন না।
এ চাকরিতে ঢোকার সাথে সাথেই আমায় জামশেদপুরে চলে যেতে হয়। সে কাহিনি আমার অন্য পোষ্টে আছে। সেখান থেকে ফেরার তিন মাসের মধ্যেই ভিসা তৈরি হয়ে যায়। আর আমাকেও বলা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে যেতে হবে -15ই জুলাই। এইবার হল আমার সমস্যা। অন্তত এক বছরের জন্য যেতে হবে, অথচ আমার একটা স্যুটকেস পর্য্যন্ত নেই! গোদের উপর বিষফোঁড়, এই সময়ই আমি আমাদের জন্য একটা বড় ফ্ল্যাট কেনার ব্যবস্থা করছি। উপরওয়ালার পায়ে ধরতে বাকি ছিল। কিছুতেই কিছু হল না। পাগলের মত ছুটতে শুরু করলাম - বাড়ি থেকে কর্মস্থল, সেখান থেকে বাজার, সেখান থেকে ব্যাঙ্ক। পাগল হয়ে যেতাম। 13ই জুলাই সকালে ডাক্তারি পরীক্ষা দিতে গেছি; এমন সময় আমার এক সহকর্মীর ফোন এল, "কি খাওয়াচ্ছিস বল?" আমি বললাম, "বেশি বাজে না বকে খবর কি তাই বল।" জানলাম আমার যাওয়া এক হপ্তা পেছিয়ে গেছে। আনন্দে , স্বস্তিতে এত জোরে চেঁচিয়ে উঠেছিলাম যে আসে-পাসের সব লোক চমকে উঠেছিল। ভিসা বানানোর সময় একটা ঘটনার উল্লেখ না করে পারছি না। US ভিসার জন্য petition-এ একটুঅন্য রকম ছবি লাগতো। 5সেমিX 5সেমি আকারের ছবি। স্টুডিওতে গিয়ে ছবির আকার বলতেই প্রশ্ন,US যাচ্ছেন? স্বীকার করতেই হল। সাথে সাথে ছবির দাম হল 100টাকায় 2টি। যেখানে পোস্টকার্ডআকারের ছবির দাম 2.50টাকা থেকে 3টাকা, সেখানে 50টাকা এই ছবি গুলোর দাম! রেগে গিয়ে দোকানদারটিকে বললাম, "এত দাম কি আমেরিকা যাবার মাশুল?" উত্তরের অপেক্ষা না করে বেরিয়ে এসেছিলাম।
নতুন যাওয়ার দিন স্থির হল 22শে জুলাই 2006 শণিবার রাত 11:55টায়। বিমান কলকাতা থেকে প্রথমে সিঙ্গাপুর যাবে। তারপর সেখান থেকে টোকিয়ো যাবে। টোকিয়ো থেকে বিমান সোজা প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে পৌঁছবে লস অ্যাঞ্জেলিস। মোটামুটি 24ঘন্টার যাত্রা।
শুক্রবার রাতে লালি ছিল আমাদের বাড়িতে। কারণ, ও আর বিমানবন্দর অত রাতে যাবে না। শণিবার দুপুর অবধি গোছগাছ চলল। একটা ঢাউস স্যুটকেস আর একটা কিট ব্যাগ। শেষ দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যেবেলা আমার বন্ধু অরিত্র আর গজু এল বিদায় জানাতে। ভীষণ খারাপ লাগছিল। আরও বাজে লাগছিল মায়ের মুখের দিকে তাকালে। কান্না ঢাকার জন্য অকারণে হাসছিল। দাদু আগে বলেছিল airport-এ যাবে। কিন্তু 8টা নাগাদ যখন বেরোচ্ছি তখন বলল আর যাবে না। 2ঘন্টা আগে reporting। আমরা পৌঁছুলাম সাড়ে 9টা নাগাদ। তাই মা, দাদা, বৌদি আর "পুচকী"-র কাছথেকে দ্রুত বিদায় নিয়ে ঠেলা গাড়ি ঠেলে নেতাজি সুভাষ আর্ন্তজাতীক বিমানবন্দরে ঢুকে পড়লাম। এখন থেকে আমি একা। সম্পূর্ণ একা।....
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×