somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পথে-ঘাটে
ভালবাসার শেষ চিঠি কবে এসেছিল এই নগরে- ঠিক কয়টায়, নাগরিক জানালায় জাহাজের সাইরেন ঠিকই বেজে উঠে ভোর পাঁচটায়।

সাম্রাজ্যবাদীদের খেলার উপকরণ এবং স্যামুয়েল হান্টিংটনের ফর্মুলা

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পশ্চিমা দেশগুলো যখন শরণার্থীদেরকে ভাগ করে নেওয়ার ঘোষনা দিল।(যদিও এখন অনেকেই তাদের কথা থেকে সরে এসেছে) আমরা তখন অনেকেই হয়ত চোখ কপালে তুলে বলেছি, আহা কি মানবতাবাদী দেখছ!! কানাডা একাই নিবে ২৫০০০ হাজার শরণার্থী! খুবই ভাল খবর তাতে কোন সন্দেহ নাই। সিরিয়াতে IS(আমার মতে পশ্চিমা production) দানবীয় আকার ধারন করেছে! তাকে নির্মূলের জন্য এবং সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য (নাকি সাধারন মানুষ মারার জন্য) সিরিয়াতে আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু যত না IS মারা যাচ্ছে তারচেয়ে অনেক গুণ বেশি মারা যাচ্ছে সাধারন মানুষ। এসব মুসলিম দেশগুলোকে জনশূন্য করার পায়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ভাওতা বাজি আর কাকে বলে দেখুন, সামরিক পরাশক্তি গুলো সবাই মিলে একটা জঙ্গী গোষ্ঠী মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না! আজব! অথচ ইরাক-আফগানিস্তানেরক মত দেশকে তারা ধ্বংস করে করেছে।
সত্যিই সেকুলাস!

আসলে এসব হল সাম্রাজ্যবাদীদের পুরনো একটা খেলা মাত্র। এই খেলার ফর্মুলা সর্বপ্রথম দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্যামুয়েল হান্টিংটনের Clash of Civilizations and Remaking of world order নামক বইতে। বইতে তিনি বলেছেন, এক সময় সমাজতন্ত্র বা সোভিয়েত ইউনিয়ন কে পাশ্চাত্যর জন্য হুমকি বা প্রতিদদ্বী হিসেবে ধরা হত। বলাই বহুল্য সমাজতন্ত্র যে দেশে উত্থান হয়েছিল সে দেশেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, যে সকল উপাদান সভ্যতা গঠনে ভূমিকা রাখে , তার মধ্যে ধর্ম হলো সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিশ্বের প্রধান সভ্যতাগুলোর সাথে কোন না কোন বৃহৎ ধর্মের সংযোগ রয়েছে।
প্রফেসর হান্টিংটন ইসলাম ও চৈনিক সভ্যতাকে পাশ্চাত্যের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সভ্যতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে এ দুই সভ্যতা ছাড়া অন্যগুলো পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে বিলীন/একীভূত হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইসলাম সেই সাড়ে ১৪ শত বছর ধরে পাশ্চত্যের জন্য হুমকি হয়ে আছে।
১৯৯৬ সালে এই ফর্মুলা প্রকাশ হওয়ার পর আমেরিকার সামরিক থিংক টেংক পরিকল্পনা করছিল কিভাবে পাশ্চাত্যের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলাম কে ধ্বংস করা যায়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসে প্রেসিডেন্ট বুশ। সময় ২০০১ সাল। Twin Towers ধ্বংস করে দোষ চাপানো হয় মুসলমানদের উপর। সেই অজুহাতে ধ্বংস করে দেওয়া হয় আফগানিস্তান। যেখানে নিহত হয় এক হিসাব মতে প্রায় ১৪৯,০০০ জন। একই ভাবে ইরাকে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১২০০০০ জন, সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩৫০,৭৫৮জন। শরনার্থীর সংখ্যা শুধু সিরিয়াতেই ২৫ লক্ষের উপরে বাকিটা বাদই দিলাম।

আসলে সিরিয়া, আফগানিস্তান বা ইরাক হল তাদের খেলার মাঠ। তালেবান, আলকায়দা, IS হল তাদের খেলার উপকরণ। একই উপকরণ কিন্তু নাম ভিন্ন। একটা দেশ ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়ার পর সেখানে প্রথমে উপকরণ হিসেবে জঙ্গিগুষ্ঠি পাঠায়। তখন তারা ঐদেশের জনগনের কছে আবির্ভূত হয় মৃত্যুর বিভীষিকা হিসেবে। আর তখনই খেলোয়াররা শুরু করে আসল খেলা। তাদের পকেট মিডিয়া গুলোতে একযোগে প্রচার হবে ধ্বংসলীলার কথা। আর তখনই শুরু হবে সাম্রাজ্যবাদীদের মায়া কান্না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, শান্তি........।

আমি শান্তি দেখেছি ইরাকে(?) শান্তি দেখেছি আফগানিস্তানে, সিরিয়ায়, ফিলিস্তিনে, শান্তি দেখেছি রুহিঙ্গাদের মাঝে(?) আমি আতঙ্কের প্রহর গুনছি নতুন কোন দেশে শান্তি দেখার অপেক্ষায়।
নিচের ছবিতে লাইনের ঘনত্বের মাধ্যমে সভ্যতাসমূহের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লাইন যত বেশী ঘন বা মোটা তত বেশী সংঘাতপ্রবণ। কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঘনত্বও কম।



তথ্যসূত্র:
1.Syrian Observatory for Human Rights
2.Wikipedia, the free encyclopedia
3.Google
4.NHCER
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪১
১৮টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×