somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বাস্তব ঘটনা (রক্ত চোষা)

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার আগের লেখা পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এই জন্য যে আমার লেখা আপনাদের ভাল লেগেছে। আসলে আগের দিনে এই রকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে। আমার কাছে যেটা মনে হয় যে, তখন লোক বসতি ছিলো অনেক কম আর পুরাতন মন্দির, বটগাছ আর জঙ্গল ছিলো অনেক বেশি। তাই এই সব ঘটনা ঘটতো। আসলে ভূত বলে কিছু নাই। এরা সবই হলো জিন। এই জিন গুলো মানুষের ক্ষতি করে না আবার কিছু কিছু ক্ষতিও করে। আমি রাজশাহীতে এই রকম অনেক গল্প শুনেছি আর আমি বিশ্বাস করি কারন যাদের সাথে এই সব ঘটনা ঘটেছে তাদের মুখে থেকেই শোনা। যা হোক আমার সাথে কোনদিন এই রকম কিছু হয় নাই কিন্তু ঐসব জায়গায় আমরা ভয়ে যেতাম না।

আজ আমি আপনাদের আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা সত্য ঘটনা বলবো। এই ঘটনা আমাকে নিয়েই কিন্তু তখন আমার বয়স ছিলো ১ বছর কি তারও কম হবে। আমার মা আমাকে এই ঘটনা বলেছিলেন।

আমরা তখন থাকতাম হলো রাজশাহীর সাগর পাড়া, ছোট বটতলা নামক একটা জায়গায়। আমাদের বাসার পাশেই একটা মসজিদ ছিলো। রাস্তার এপার আর ওপার। ঐ মসজিদের পেছনে একটা অনেক পুরাতন পুকুর ছিলো এবং ঐ পুকুরের পাশে ছো্ট্ট একটু জায়গা নিয়ে এক বয়স্ক মহিলা থাকতেন। উনাকে সবাই ডাইনী বুড়ি বলে ডাকতো। উনার ২ ছেলে ছিলো এবং তারাও বিয়ে করে আলাদা থাকতো। আমাদের বাসার পাশেই থাকতো। ওনারা খুব নামাজী ছিলেন। ২ ছেলে তাদের মাকে সাথে রাখতেন না কারন ছিলো উনি বাচ্চাদের রক্ত চুষে খেতেন। ছোট বাচ্চাদের উনি কোলে নিতেন এবং আঙ্গুলের নোখ দিয়ে রক্ত চুষে খেতেন। এর জন্য ছেলেরা আলাদা থাকতো। এছাড়া আমাদের পাড়ার যারা যারা জানতো যে উনি রক্ত চোষা তারা কেউই ছোট বাচ্চা উনার কোলে দিতেন না। যারা নতুন আসতো তাদের কে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বাচ্চা কোলে নিতো আর রক্ত খেতো। ৩/৪ জন বাচ্চা মারাও গিয়েছিলো।

আমার বয়স তখন কত হবে তা মা আমাকে বলেন নাই কিন্তু শুধু বলতেন যে আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। হাটতেও পারতাম না। একদিন আমার বড় বোন আমাকে কোলে নিয়ে বাড়ীর বাইরে দাড়িয়ে ছিলো। তখন ঐ ডাইনী বুড়ি আমার বড় বোন কে ডাকলো আর বলল যে,তোর ভাই তো অনেক সুন্দর হয়েছে। নাদুস - নুদুস লাগলো। আমার কোলে একটু দে তো। এই বলে আমার বোন আমাকে তার কোলে দিয়েছে। ২/৩ মিনিট পর আমার মা আমাকে খোজার জন্য রাইরে এসে দেখে যে আমি ডাইনী বুড়ির কোলে। তখন মা তাড়াতাড়ী আমাকে তার কোল থেকে কেড়ে নেই এবং দেখে যে আমার শরীর নীল হয়ে গিয়েছে। তখন তো আমার মোবাইল ছিলো না তাই আমার আব্বাকে ডাকতে পারে নাই। তখন মা-ই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো। ডাক্তাররা আমাকে দেখে বলেছিলো যে, বাচ্চার রক্ত শুন্যতা হয়েছে। তখন আমার মায়ের বুঝতে বাকি রইলো না। তার পর থেকে ঐ বুড়ির কোলে কেউই কোন বাচ্চা দিতো না।

এই ভাবেই চলছিলো্। আমার মনে আছে এখনো যে ঐ বুড়িকে আমি দেখেছি। সাদা শাড়ী পড়তো। উচ্চতা ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি হবে। পাতলা, রোগার মতন ছিলো। হাতের কব্জি ছিলো চিকন। আমরা ছোট বেলাই উনাকে ডাইনী বুড়ি বলে ডাকতাম। একদিন এই এক মহিলা তার বাচ্চাকে উনার কোলে দিয়েছিলো আর সে বাচ্চা মারা গিয়েছিলো। তারপর পাড়ার মানুষ জন উনাকে অনেক মেরেছিলো এবং আমাদের এলাকা থেকে উনাকা বাহির করে দিয়েছিলো। তারপর থেকে উনার কোন খবর আমরা জানি না। উনি মারা গিয়েছেন কি না তাও আমরা জানি না। এই হলো সেই ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×