আমার আগের লেখা পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এই জন্য যে আমার লেখা আপনাদের ভাল লেগেছে। আসলে আগের দিনে এই রকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে। আমার কাছে যেটা মনে হয় যে, তখন লোক বসতি ছিলো অনেক কম আর পুরাতন মন্দির, বটগাছ আর জঙ্গল ছিলো অনেক বেশি। তাই এই সব ঘটনা ঘটতো। আসলে ভূত বলে কিছু নাই। এরা সবই হলো জিন। এই জিন গুলো মানুষের ক্ষতি করে না আবার কিছু কিছু ক্ষতিও করে। আমি রাজশাহীতে এই রকম অনেক গল্প শুনেছি আর আমি বিশ্বাস করি কারন যাদের সাথে এই সব ঘটনা ঘটেছে তাদের মুখে থেকেই শোনা। যা হোক আমার সাথে কোনদিন এই রকম কিছু হয় নাই কিন্তু ঐসব জায়গায় আমরা ভয়ে যেতাম না।
আজ আমি আপনাদের আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা সত্য ঘটনা বলবো। এই ঘটনা আমাকে নিয়েই কিন্তু তখন আমার বয়স ছিলো ১ বছর কি তারও কম হবে। আমার মা আমাকে এই ঘটনা বলেছিলেন।
আমরা তখন থাকতাম হলো রাজশাহীর সাগর পাড়া, ছোট বটতলা নামক একটা জায়গায়। আমাদের বাসার পাশেই একটা মসজিদ ছিলো। রাস্তার এপার আর ওপার। ঐ মসজিদের পেছনে একটা অনেক পুরাতন পুকুর ছিলো এবং ঐ পুকুরের পাশে ছো্ট্ট একটু জায়গা নিয়ে এক বয়স্ক মহিলা থাকতেন। উনাকে সবাই ডাইনী বুড়ি বলে ডাকতো। উনার ২ ছেলে ছিলো এবং তারাও বিয়ে করে আলাদা থাকতো। আমাদের বাসার পাশেই থাকতো। ওনারা খুব নামাজী ছিলেন। ২ ছেলে তাদের মাকে সাথে রাখতেন না কারন ছিলো উনি বাচ্চাদের রক্ত চুষে খেতেন। ছোট বাচ্চাদের উনি কোলে নিতেন এবং আঙ্গুলের নোখ দিয়ে রক্ত চুষে খেতেন। এর জন্য ছেলেরা আলাদা থাকতো। এছাড়া আমাদের পাড়ার যারা যারা জানতো যে উনি রক্ত চোষা তারা কেউই ছোট বাচ্চা উনার কোলে দিতেন না। যারা নতুন আসতো তাদের কে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বাচ্চা কোলে নিতো আর রক্ত খেতো। ৩/৪ জন বাচ্চা মারাও গিয়েছিলো।
আমার বয়স তখন কত হবে তা মা আমাকে বলেন নাই কিন্তু শুধু বলতেন যে আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। হাটতেও পারতাম না। একদিন আমার বড় বোন আমাকে কোলে নিয়ে বাড়ীর বাইরে দাড়িয়ে ছিলো। তখন ঐ ডাইনী বুড়ি আমার বড় বোন কে ডাকলো আর বলল যে,তোর ভাই তো অনেক সুন্দর হয়েছে। নাদুস - নুদুস লাগলো। আমার কোলে একটু দে তো। এই বলে আমার বোন আমাকে তার কোলে দিয়েছে। ২/৩ মিনিট পর আমার মা আমাকে খোজার জন্য রাইরে এসে দেখে যে আমি ডাইনী বুড়ির কোলে। তখন মা তাড়াতাড়ী আমাকে তার কোল থেকে কেড়ে নেই এবং দেখে যে আমার শরীর নীল হয়ে গিয়েছে। তখন তো আমার মোবাইল ছিলো না তাই আমার আব্বাকে ডাকতে পারে নাই। তখন মা-ই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো। ডাক্তাররা আমাকে দেখে বলেছিলো যে, বাচ্চার রক্ত শুন্যতা হয়েছে। তখন আমার মায়ের বুঝতে বাকি রইলো না। তার পর থেকে ঐ বুড়ির কোলে কেউই কোন বাচ্চা দিতো না।
এই ভাবেই চলছিলো্। আমার মনে আছে এখনো যে ঐ বুড়িকে আমি দেখেছি। সাদা শাড়ী পড়তো। উচ্চতা ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি হবে। পাতলা, রোগার মতন ছিলো। হাতের কব্জি ছিলো চিকন। আমরা ছোট বেলাই উনাকে ডাইনী বুড়ি বলে ডাকতাম। একদিন এই এক মহিলা তার বাচ্চাকে উনার কোলে দিয়েছিলো আর সে বাচ্চা মারা গিয়েছিলো। তারপর পাড়ার মানুষ জন উনাকে অনেক মেরেছিলো এবং আমাদের এলাকা থেকে উনাকা বাহির করে দিয়েছিলো। তারপর থেকে উনার কোন খবর আমরা জানি না। উনি মারা গিয়েছেন কি না তাও আমরা জানি না। এই হলো সেই ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



