দীর্ঘ সময় ধরে আলিফের জন্য অপেক্ষা করছে হৃদি,ধানমন্ডির জাহাজ বাড়ীটার সামনে।জায়গাটা বেশ ভালোই লাগে তার।শহরের কোলাহলময় পরিবেশের মাঝে নোংরা হয়ে যাওয়া পানির লেকটাকেও সুন্দর মনে হয়।আধা ঘন্টা হতে চললো।ছেলেটা আসুক আজ..!আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে সে।
আলিফ আর হৃদির সম্পর্কের প্রায় এক বছর হতে চললো।কলেজের সাইন্সফেস্টে আলিফের সাথে প্রথম পরিচয় হয় তার।লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট টাইপ কিছু না হলেও ফেসবুকে তাদের দুজনের বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়! অনুমতি ছাড়াই ভালোবাসা নামক অনুভূতিটা প্রবেশ করে তাদের বন্ধুত্বের মাঝে।অতঃপর শুরু হয় একসাথে পথচলা।ঝগড়া-খুনসুটি লেগেই আছে,তবুও মায়ার বাঁধনটা ছেড়ে যেতে পারে নি কেওই!
হঠাত পেছন থেকে হৃদির চোখের ওপর হাত রাখে আলিফ। হৃদি বুঝতে পারে কে এসেছে,তবুও নিশ্চুপ থাকে সে।
-রাগ করেছো?
জবাব দেয় না হৃদি!
রাগ করলে মেয়েদের সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। আলিফ তাকিয়ে থাকে হৃদির দিকে...
-আচ্ছা স্যরি তো! আজকে এত জ্যাম রাস্তায়!
-এক অজুহাত আর কত?আধটা ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি!
-এই যে কানে ধরলাম,আর হবে না এমন! প্রমিস!
ছেলেটার জন্য মায়া লাগছে হৃদির।তারপরো চেষ্টা করতে থাকে রাগ ধরে রাখার!
-অ্যাই আইস্ক্রিম খাবা?
-না!
আলিফ জানে,হৃদি না করলে কি হবে,পছন্দের কোণ আইস্ক্রিম নিয়ে এলে সে না করতে পারবে না!দুটো আইস্ক্রিম এনে হৃদির হাতে দিল সে।
বাচ্চা মেয়েদের মত হৃদি দু হাতে দুটো আইস্ক্রিম নিয়ে খাচ্ছে।কপালের এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে কানের কাছে আলতোভাবে আলিফ বলে,"ভালোবাসি,হৃদি,অনেক বেশি ভালোবাসি"
রাগগুলো যেন এবার গাল বেয়ে পরতে শুরু করে হৃদির।পরম মমতা নিয়ে আলিফ সে দৃশ্য দেখতে থাকে।পাজী ছেলেটা প্রমিস ভুলে মনে মনে ভাবে,এই দৃশ্য দেখার জন্য মেয়েটাকে সে হাজারবার রাগাতেও রাজি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



