আমি ট্রাউজার আর টিশার্ট পড়ে ঘুরে বেড়াই, সবসময়-- আর সেটা আমার মায়ের অপছন্দের বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম! তাঁর ভাষ্যমতে- এভাবে বেরোলে আমায় দেখতে “গিদরের” মত লাগে !! জিনিসটা কি, সে ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই,জানার ইচ্ছেও নেই ! একে তো ঈদের সময় আমি সারাদিন ঘরে বসেই কাটাই, আর বছরের বাকি দিনগুলো এভাবে ঘুরতেই আমার ভালো লাগে। কিন্তু,আম্মুও একগুঁয়ে! গত দুই ঈদে কিছু না নিলেও এবার আর আম্মুর জোরাজুরির সাথে পেরে উঠলাম না।তবে আমারও একটা শর্ত ছিল—আমি একা যাবো! মহিলা মানুষ ১০ দোকান ঘুরে পছন্দ করবে,পরে দেখা যাবে দাম মিলছে না,ব্যাস আবার ঘোরাঘুরি শুরু,বিব্রতকর !! আম্মু আমার শর্তে রাজি,ভিড়ভাট্টা এড়াতে বিকালের দিকে বেরলাম। আম্মু হাতে বেশ মোটাসোটা টাকা ধরিয়ে দিল !
প্রথমে গেলাম জুতার দোকানে। আমার বেশভূষা দেখে দোকানিরা মনে হয় বেশি আশা পেল না,তারপরেও কাস্টমার এটেন্ড করতে হবে, তাই আমার কেমন জুতো চাই,জেনে নিল । জুতো ট্রাই করে পছন্দ হতেই দাম জিজ্ঞেস করলাম আর সাথে ‘দুটো লাইন’ বললাম !দোকানি প্রথমবার যেই দাম চাইল, কিছু না বলে পরিশোধ করে বেরিয়ে এলাম ।
গন্তব্য এবার শার্টের দোকান। দোকানি দুজন আমার বয়েসি। আমি যেমন শার্ট চাই তেমন একটাও মিলছে না! ট্রাই করতে করতে ঘাম ছুটে গেছে। এ নিয়ে কিছুক্ষন হাসাহাসিও হল ! অবশেষে আমার পছন্দের সাথে একদম মিলে গেল ১টা শার্ট। এই দোকানেও সেই দুই লাইনের বুলি আওড়ালাম আর দাম পরিশোধ করে বেরিয়ে এলাম।
১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটেই মাত্র ২টা জুতোর দোকান আর ২টা কাপড়ের দোকান ঘুরে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরলাম । আম্মুর দেয়া মোটা অংকের ১/৩ অংশ খরচ হয়েছে কেবল !!
আমার কাছে জুতো আর শার্ট-প্যান্টের দাম শুনে,আম্মু অবাক ! “কিরে আমাদের কাছে এত্ত দাম চায়,আর তুই এত কমে কিভাবে পেলি !” আমার মুখে তখন মুচকি হাসি
আহ! আনন্দ, অত্যান্ত আনন্দ ! আচ্ছা,সেই দুই লাইনের বুলিটা কি ছিল জানেন কি ?
---------------- ভাই, আমি দামাদামি করবো না, সরলসোজা মানুষ আমি
আমাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে তো সবসময় খেলা করে ওরা, তাই আমিও একটু চেষ্টা করলাম। ব্যর্থ হই নি বোধয়
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





