
আমি তখন ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র...
ক্লাস শুরু হয়নি, বন্ধুরা আলাদা হয়ে গেছে,কেউ সরকারিতে, কেউ ইস্পাহানি আমরা কিছু ভিক্টোরিয়ায় আরও অনেকে অনেক জায়গায় ভর্তি হয়েছে। কুমিল্লায় তখন প্রচণ্ড শীত, জ্যাকেট, মোটা উলের সোয়েটার কোন কিছুতেই শীত কমে না। আমাদের যখন এই অবস্থা তাহলে রাস্তার সেই মানুষরা কি পরিমাণ কষ্টে আছে, চিন্তা করতেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। হটাত একদিন—কুমিল্লায় থাকা বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা শীতবস্ত্র বিতরণ করবো,কিন্তু এত টাকা পাবো কোথায়? আমরা একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলাম—বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের পুরনো কাপড় সংগ্রহ করবো আমরা । কাজে লেগে পড়লাম, কাজটা যত সহজ হবে চিন্তা করেছিলাম, ঠিক ততটা সোজা ছিল না! প্রতিটা এলাকায় যাওয়া,৫তলা-৬ তলা বাড়িতে ওঠা , তাদের বোঝানো, কষ্ট কম হয় নাই! তারপরও বন্ধুদের মিলিত প্রচেষ্টায় কাপড় সংগ্রহ বেশ পরিপুষ্ট চেহারাই পেয়েছিল। আমরা সকলেই বেশ খুশি ছিলাম। ঠিক হল—কুমিল্লা রেলস্টেশনে কাপড় দেয়া হবে,সন্ধার দিকে। রেলপুলিশদের আমরা আগেই জানিয়ে রেখেছিলাম আর তারা আশ্বস্ত করেছিলেন আমাদের সাহায্য করার। অথচ নির্ধারিত দিনে--- সেই রক্ষক রা ভক্ষক হয়ে গেলেন। আমরা যখন গরীবদের মাঝে কাপড় বিতরণে ব্যাস্ত, সেই সময় আমাদের সাহায্য করার বদলে তারা সেই কাপড় গুলো থেকে বেছে বেছে ভালো কাপড় আলাদা করছিলেন, নিজেদের জন্য !!! চেষ্টা করেছিলাম ভালো ভাবে বলে তাদের নিবৃত্ত করতে, খুব একটা কাজ হয়নি,তাতে ! তাছাড়া এত পরিশ্রমের পর—দেখলাম, কিছু বন্ধুরা কাজ শেষ না করে, নিজেদের ছবি তুলতে ব্যাস্ত !!আমার প্রথম অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল !!!!!!!!
এখন আর ক্যাম্পেইনে কাজ করার সাহস আর ইচ্ছা কোনটাই পাই না, ব্যাক্তিগত ভাবে যতটুকু পারি সাহায্য করার চেষ্টা করি, কিন্তু ক্যাম্পেইনে কাজ করা......... না !
ছবিটি গুগোল থেকে নেওয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




