শান্তি নিকেতন !
জায়গার নামটার সাথে পরিবেশের কোন মিল নেই । রিকশার ক্রিং ক্রিং বেলের আওয়াজ আর মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি জায়গাটাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না,শান্তিতে নেই আমিও ! বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, চোখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তবুও চোখে ঘুম নেই একফোঁটা। শান্তির খোঁজে বন্ধুদের নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম,হাতির ঝিলে।হাতির ঝিল নাকি ইট পাথরের মাঝে একফোঁটা প্রশান্তির নাম ! কথার সত্যতা অনুধাবন করছি।
চারদিকে বাতাস,প্রশান্তি পেতে শুরু করেছি। ঝিলের উপর দাড়িয়ে থাকা ব্রিজটার কাছে আমরা। ' রেলিংএ বসবেন না' কাগজ সাঁটানো। নিয়ম অমান্য করে বসে আছে অনেকে,পাশেই কিছু আনসার সদস্যদের দেখা যাচ্ছে। বন্ধু বলল, কিছুদিন আগে এক ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া ছাত্রী হাতির ঝিলে ঝাপ দিয়েছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে আহসানুল্লাহ ভার্সিটির একজন। কথাটা শুনতেই মনে পরে গেল,কয়েক মাস আগের কথা। এক মেয়ে আর এক ছেলে ঝাপ দিয়েছিল,এখানে,একসাথে। ছেলেটা মারা পড়ল, বেচে গেল মেয়েটা ! নির্মল প্রশান্তির জন্য বানানো হাতির ঝিল, আত্মহত্যার প্রিয় জায়গায় পরিণত হচ্ছে কেন ? অদ্ভুত এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার!
প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ইচ্ছে নেই, কিছু প্রশ্নের উত্তর কখনো জানা যায় না !হটাতই শাঁ শাঁ করে ছুটে গেল এক মোটরসাইকেল,পেছনে এক মেয়ে বসা ! পাতলাপুতলা মেয়েটা কিভাবে মোটরসাইকেলের সাথে জুড়ে আছে,তা ভাববার বিষয় ! গতির নেশা,খারাপ নেশা। সবাইকে এ নেশা পেয়ে বসেছে । আমি গতি চাই না,আমার দরকার কিছুটা স্থবিরতা।এই মুহূর্তে কুমিল্লাকে মনে পরছে না,কুমিল্লায় ফেলে আসা কিছু সৃতি মনে পরছে! হাতির ঝিলে আর থাকা যাবে না। হাতির ঝিলে মোটরসাইকেলের গতি আছে,প্রশান্তি নেই। আমি শান্তিকে খুজছি,পাচ্ছি না । শান্তি নিকেতনে ফিরে যাই, কোলাহলের মাঝে শান্তিকে খোঁজার চেষ্টা করি, বৃথা চেষ্টা !
২৩শে মে, ২০১৫
রাত ১০ টা বেজে ৫৮ মিনিট !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



