...রাত দেড়টার কিছু কমবেশি।
প্রকৃতিতে আবছা কুয়াশা ভর
করেছে সেই সন্ধ্যে থেকেই। গাঢ়
অন্ধকারে কেবল দূর
থেকে ভেসে আসা কুকুরের ডাক
শোনা যায়। সময়
অনুযায়ী হাসপাতালের পরিবেশও
তাই চুপচাপ নিরিবিলি।
২০৯ নং কেবিনের
বেডে নিউমোনিয়ায় শ্বাস বন্ধ
হয়ে অজ্ঞান অবস্থায়
শুয়ে থাকা দুই বছরের আমি তখনও
ভালমত "আব্বু" ডাকতে পারিনা।
বলি "আবু"। চশমা পড়া গাঢ়
বাদামি চেহারার লোকটাকে দেখার
সাথে সাথেই জোরে "আবুউউউ"
বলে চিল্লিয়ে উঠতাম। যাক, এসব
হল অসুস্থ হওয়ার আগের কথা।
তো বুকের মধ্যে গাদি গাদি কফ্
নিয়ে নিউমোনিয়ার চরম অবস্থায়
যখন আমি, তখন আম্মুও
কি কারণে যেন বেশ অসুস্থ। বাসায়
ছিল, মেজো খালা সেবা-যত্ন
করত। আর এদিকে অফিস কাজ
সব বাদ দিয়ে আমার জন্য,
আমাকে ভাল করার সর্বাত্মক
চেষ্টার জন্য প্রায় সারাক্ষণই
ডাক্তার নার্সদের পিছে অসহায়ের
মত দৌড়ের উপর থাকত আমার
"আবু"। আম্মুর সাথে ঝগড়া করত,
মেজো খালাকে কেন একটু
হাসপাতালে খাবার
নিয়ে যেতে বলেনা?
আমাকে একা রেখে কেন
দুপুরে রাতে খাওয়ার জন্য বাসায়
আসতে হয়?
কফ্ ওয়াশের পর অনেক
ঘন্টা যাবত অজ্ঞান। আমার একটু
জ্ঞান ফেরে কিনা, বুকে ওঠা-
নামা হয় কিনা, ডান পায়ের
বুড়ো আঙ্গুলটা একবার
নড়ে ওঠে কিনা; এজন্য
সারাটা রাত বেডের পাশে বসা ছিল।
এই শীতে নিজের গায়ে সোয়েটার
কিংবা চাদর পড়া দূরে থাক, ঠিকমত
পায়ে স্যান্ডেল পড়তেও অনেক
সময় ভুলে যেত। দেখা যেত কেবিন
থেকে খালি পায় দৌড়াচ্ছে একবার
নিচে ফার্মেসিতে, আবার ডক্টর
চেম্বারে। ফলাফল,
কাশি বাধিয়ে ফেলল
ওখানে থাকতেই।
শেষমেষ টানা একমাস চিকিৎসার
পর আমার অবস্থা স্বাভাবিক-এ
এলো। হাসপাতাল থেকে রিলিজ
দেয়া হল। স্কুটারে আব্বুর
বুকে মাথা ঠেকিয়ে অর্ধেক পথ ঘুম
আর অর্ধেক পথ জেগে বাসায়
এলাম। এবং তার মাত্র কিছুদিন
পর দারুণ জ্বর কাশি ঠান্ডা শুরু
হয়ে গেল আব্বুর। অনেকদিন
পর্যন্ত কষ্টে ভুগেছে।
...এই যদি হয় একজন বাবা'র
মমতার সীমারেখা,
তাহলে আমি চিৎকার করে ঠিকই
পৃথিবীকে বলতে পারব - হে পৃথিবী !
"বাবা দিবস"
নামে তোমরা যে সাময়িক
একটা দিন ক্যালেন্ডার
থেকে নির্ধারণ করলে;
তোমরা কি তাহলে সত্যিই
জানো না, বাবা কাকে বলে?
বাবা'দের আবেগ বিবেক
মমতা সন্তানের জন্য সাত
আসমান সমান বিশাল?
তোমরা কেন জানো না, একজন
খুব খারাপ পুরুষও একজন খুব ভাল
"বাবা" হওয়ার ক্ষমতা রাখে।।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



