মানুষ প্রথমে খাবার চায়,তার পর গায়ে দেয়ার কাপর চায়। আর এ দুটো হয়ে গেলে মানুষ ৩য় যে কাজটি করে তা হল গল্প বলা। গ্রামে শীতকালে সবচেয়ে লক্ষণীয় হল বৃদ্ধ মানুষ গুলো একত্রে বসে আগুন জ্বেলে
গল্প করে। মা তার শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় গল্প বলে। অনেক বছর পর কারো সাথে দেখা হলে একে অপরের এতগুলো গেল বছরের গল্প করতে।
আমি মাঝে মাঝে অনুভব করি মানুষের ভিতেরে গল্পের চাহিদা এতটাই মারাত্মক যে একমাত্র গল্প দিয়ে মানুষের যত কাছে আসা যায় তা অন্য কোন কিছু সম্ভব নয়।
আমি একটা গল্পবাজ। গল্প বলতে ও শুনতে খুব ভালবাসি। এতটাই ভালবাসি যে একবার আমি একজনকে জীবনে আর যাই করিনা কেন বড় হয়ে আমি আমার জীবনের গল্প (আত্মজীবনী) লিখে ফেলব।তিনি আমাকে খুব ভদ্র ভাষায় অপমান জনক কথা শুনিয়ে ছিলেন।উনি আমার একজন শুভাকাং্খী ছিলেন।প্রতিঞ্জা করছিলাম জীবনে বেচে থাকলে কখনো আত্মজীবনী লিখতে যাব না।
তাই বলে গল্প বলা থামাতে পারিনি এখনও লিখে ও বলেই যাচ্ছি।
হলোকাষ্টের পর ইহুদীরা এইযে আস্তে আস্তে বিশাল হলোকাষ্ট-ইন্ডাষ্ট্রী গড়ে তুলেছে, হলোকাষ্টের উপর মিউজিয়াম, হলোকাষ্টের উপর একের পড় এক মুভি, হলোকাষ্টের উপর এমনকি পুরা একটা রাষ্ট্র গড়ে ফেলেছে ইহুদীরা,কীভাবে জানেন?স্রেফ গল্প বলে!বিশ্বাস হচ্ছেনা?
যারা গনহারে বই পড়ে, বই পড়ার অভ্যাস আছে এমন একশ' মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, আমি গ্যরান্টি দিয়ে বলতে পারবো কমপক্ষে আশিজনকে পাবেন যে অ্যাানা ফ্র্যাংকের ডায়রী পড়েছে।পড়েছেই! যারা মুভি দেখে, প্রচুর মুভি দেখে, জিজ্ঞেস করে দেখুন, বেশীরভাগই হলোকাষ্টের উপর কমপক্ষে তিনচারটা মুভি তো দেখেছেই!ঐ সব বই, ঐসব মুভি আর কিছুই করেনা, স্রেফ গল্প বলে।মানুষের জীবনের গল্প।
.
.
ইহুদীরা খুব ভাল করেই জানতো, তারা যদি হলোকাষ্টের উপর এক কোটি গবেষনা করে ফাটিয়েও ফেলে, এবং কোটি-কোটিবারও যদি তারা চিৎকার করে বলে 'দেখো, আমাদেরকে কীভাবে মেরেছে! দেখো, আমাদেরকে কীভাবে অত্যাচার করেছে!'- তাতে যতটা না লাভ হতো, তারচে' স্রেফ একটা বই, স্রেফ একটা জীবনের গল্প, স্রেফ এক অ্যাানা ফ্র্যাংকের ডায়রী তারচে' হাজারগুনে বেশী সিমপ্যাথি এনে দিয়েছে ইহুদীদেরকে!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



