ক্যানসার, নামটা শুনলেই ভেতরটা হু হু করে কেঁদে উঠে। সংসারে মাথার ছায়া বলতে একমাত্র বাবাই ছিলেন। বাবা ছিলেন স্কুল মাস্টার। সামান্য বেতনে সংসারের খরচ মিটিয়ে আমাদের ছয় ভাই-বোনকে মানুষ করেছেন। সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবার বলে এখনো তেমন একটা কিছু করতে পারিনি আমরা কেউ। পেশায় সাংবাদিক। মোটমুটি দিন চলে যাচ্ছিল। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চিকিৎসা করালাম। ডাক্তার একদিন বললো- বাবার ক্যানসার ধরা পড়েছে। বাঁচবনে মাত্র 6 মাস। মনটা ভেঙ্গে গেল কিন্তু সাহস হারালামনা। নিজের যতটুকু সম্বল আছে তাই দিয়ে চালিয়ে গেলাম বাবার চিকিৎসা। কিন্তু বিধিবাম। গত 2 মার্চ 2006 বাবা আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে গেলেন। হয়ে গেলাম নিঃস্ব। বুকের ভেতর কতগুলো জমানো কষ্ট আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু বের হয়না। কতদিন বাবা বলে ডাকিনা। বাড়িতে মা ছাড়া কেউ। বাবার সেবা করতে গিয়ে মা-ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শুধুমাত্র একটা শব্দ। ক্যানসার। আমাদের পুরো পরিবারটাকে এলোমেলো করে দিয়েগেল। মনের ভেতর কষ্ট জমে থাকলেও বিশ্বাস করি একদিন অনেক বড়ো হবো। কিন্তু আমার বাবাকে সুখটা দেখানো সম্ভব হলোনা। বাবা হয়তো স্বর্গে বসেই দেখবেন তার সন্তানদের সুখী জীবন। ভালো থেকো বাবা- ভালো থেকো। ক্যানসার? ধিক তারে। আমাদের এক বন্ধু লিখেছেন 2 বছরের প্রাপ্তির ক্যানসার ধরা পড়েছে। আসুন না সবাই মিলে ছোট্ট শিুশুটিকে বাচিয়ে তুলি। ব্যস্ততা এবং চাহিদার টানাপোড়নের মাঝে এমন একটি উদ্যোগকে আমরা সফল করে তুলতে পারি শুধু আপনাদরে সহযোগিতায়। তাহলে হয়তো মনের জমানো কষ্টগুলো কিছুটা হলেও হালকা হবে। আমার বাবা চলে গেছে তাতে কী হয়েছে ছোট্ট প্রাপ্তির জীবনে আশার আলো ফোটাতে পারলে মানুষ হিসাবে আমরা অনেক উঁচুতে থাকবো। ক্ষনস্থায়ী জীবনে এটাইবা কম পাওয়া কিসে?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৬ সকাল ৭:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



