ছোট বেলায় দাদীর মুখে জ্বীন, দৈত্য আর পরীর অনেক গল্প শুনেছি। বড় আপুর কাছে শুনেছি পরীরা নাকি অনেক সুন্দরী। যে রুপ আমাদের পৃথিবীতে কারো নেই। প্রেম শব্দটার সঙ্গে তখন পরিচিত না হলেও সেই ছোটবেলাই পরীর প্রেমে পড়ে গেলাম। মা বলতো রাত-বিরাতে বাঁশি বাজাবিনা। খারাপ বাতাস লাগতে পারে। কিন্তু আম্মু খারাপ বাতাসটা কি? জানতে চাইলেও মা কোনো উত্তর দিতোনা। আপুর কাছে উত্তর পেতাম। অমাবশ্যা রাতে বাঁশির সুরে আকাশ থেকে পরী নেমে আসে। অপেক্ষা করতাম অমাবশ্যার। সেই কাঙ্খিত দিনে আমার প্রেম আমার কাছে আসবে। কিন্তু না, যতই বাঁশি বাজাই পরী আর আসেনা। আম্মু আর আপুর উপর রেগে যেতাম। তোমরা আমাকে ধোকা দিয়েছ। পরী আসেনা কেন? তারা দুজনেই আমার কথা শুনে হাসতো। কারনটা কী জানেন, আমার বাঁশির সুর.................।
পরীর অপেক্ষায় স্কুল জীবন শেষ করে ঢাকায় চলে এলাম। তখন বড় হয়েছি। পরী আসবেনা বুঝতে পারি এখন। কি বোকা, ঢাকাতে কী পরী থাকে? তবুও মাঝে মাঝে ঢাকাতে নিজের রুমে বসেই বাঁশিতে সুর তুলি। যদি পরী আসে!
রুমমেটরা বিরক্ত হয়ে বলে-আর কতো জ্বালাবেন? দয়া করে এবার অন্য জায়গায় রুম দেখুন।
মুখ বুজে হজম করে নিতাম সেসব। আমার পরী বলে কথা। কত রাত দুচোখের পাতা এক করে রেখেছি। যদি স্বপ্নে দেখা দেয় আমার পরী! কিন্তু না পরী আমাকে হতাশ করলো।
না, ভূল বলেছি। আমার পরী আমাকে হতাশ করেনি। পরী আমার বাঁশির সুর শুনতো। কিন্তু লজ্জায় আমার সঙ্গে দেখা করতো না। ঢাকাতে আসার পর অনেকদিন পরী আমার অপেক্ষায় গ্রামে ছিল। কিন্তু আমি গ্রামে যখন যেতাম পরী তখন তার নিজ দেশে চলে যেতো।
প্রতীক্ষার প্রহর ভেঙ্গে পরী অবশেষে দেখা দিয়েছে। তবে আমার সঙ্গে নয়। আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। আমার ছোট ভাইটিকে আমি খুব ভালোবাসি। আমার চেয়ে মাত্র 3 বছরের ছোট ও। পরী এখন আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম করতে চায়।
খুব কষ্ট পেলাম!!! আমার পরী আমাকে ভুলে গেছে?
আমার ছোট ভাই পরীকে খুব ভয় পায়। ও কিন্তু পরী একদম অপছন্দ করে। কিভাবে পরী ওর সঙ্গে দেখা করলো জানেন.........................
(চলবে).........................
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


