(পরী আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেছে। ও আমাকে বলেছে। গত সংখ্যায় বলেছিলাম কিভাবে পরীর সঙ্গে আমার ছোট ভাইয়ের দেখা হয়েছিল সেটা বলবো। তা পরে বলছি। তার আগে আমার সঙ্গে পরীর সম্পর্কের কথা শুনুন.................)
পরীকে আমি খুবই ভালোবাসি। সেই ছোট্টবেলা থেকে। কিন্তু তাকে আমি কোনোদিন দেখিনি। পরী নাকি আমাকে সবসময় দেখতো। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনোদিন দেখা করেনি। কতদিন বাঁশি নিয়ে কেঁদেছি। কিন্তু তাতেও পরীর মন গলেনি। মনের দুঃখে একদিন বাঁশি ভেঙ্গে ফেললাম। দাদী বললো-
'এভাবে বাঁশি ভাঙ্গলে পরী আসবেনা'।
তাহলে কিভাবে আসবে দাদী?_উৎসুক হয়ে দাদীর কাছে জানতে চাইলাম। দাদী তখন বললো- কি বোকা, বাঁশি বাজালে পরী আসবে কেন? বাঁশি তো বাজেনা, বাঁশি কাঁদে!
ছোট্ট ছিলাম বলে কথাটার মর্মার্থ বোধগম্য হলোনা। দাদী তখন বুঝিয়ে বললো_'আমাদের মানুষের মধ্যে কেউ মারা গেলে তার বিয়োগে মানুষ কাঁদে। তেমনি বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে বাঁশি বানানো হয় বলে হারানো স্বজনের খোঁজে বাঁশিরুপী বাঁশ নিজেই কাঁদে'।
দাদীর কথা শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। কেমন স্বার্থপর মানুষ আমি? অবশ্য স্বার্থপর শব্দটার সঙ্গে তখনো ততটা পরিচিত ছিলাম না। 'তাহলে দাদী আমি কী করবো'? দাদী উত্তর না দিয়েই চলে গেলেন। ভাঙ্গা বাঁশিটা হাতে নিয়ে কয়েক ফোঁটা চোখের জল ফেললাম।
তবুও হতাশ হলামনা। নতুন করে আরেকটি বাঁশি কিনলাম। ততদিনে আমার বাঁশির সুরে আরো পরিবর্তন এসেছে। একদিন গভীর রাতে সঙ্গে ছোট ভাইকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য পরীর খোঁজ। বাঁশিটা আর ছোট ভাই সঙ্গী। রাত তখন 11টার মতো হবে। অন্ধকার রাত ছিল। দুঁজনেই বাড়ীর কাউকে না বলে বেরিয়েছি। বাড়ীর কাছাকাছি থাকলে বাঁশির শব্দ শুনলে বাবা ঘাড় ধরে বাড়িতে নিয়ে পিঠের ছাল তুলে নেবেন-এমন ভয় মনের ভেতর ছিল। তাই গন্তব্য বহুদুর। অন্ধকার রাতে গ্রামে পথচলা সে খুবই কঠিণ। বড় আপু বলেছিল আলোর মধ্যে পরী আসেনা। তাই আমাদের সঙ্গে কোনো আলো ছিল না। আমাদের বাড়ি থেকে মোটমুটি দুরে একটি বটগাছ ছিল। গন্তব্য সেখানটাই। ওখান থেকে বাবার কানে বাঁশির শব্দ যাবেনা। তাছাড়া এতদুর থেকে শুনে বুঝতে পারবেন না কে বাঁশি বাজাচ্ছে।
কিছু দুর যেতেই ঘটতে শুরু করলো বিপত্তি। অন্ধকার রাতে পরীর দেখা পাব এমন আশা যতটুকু ছিল মনে তার চেয়ে বেশী ভীড় করলো ভয়। আবেগ আর ছোট্ট মনের দুরন্তপনা আমাদের দুভাইকে নিয়ে যাচ্ছে বটতলায়। সে এক দূর্বার আকর্ষণ। রাত গভীর হচ্ছে। খুব কাছ থেকে ভয়ংকর কিছু শব্দ শোনা যেতে লাগলো। ছোট্ট ভাইটি ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
'ভাইয়া আমি বাড়ি যাবো। আমি আম্মুর কাছে যাবো'_ ছোট্ট ভাইয়ের কান্না জড়ানো কণ্ঠে তাকে সান্তনা দিলাম। এইতো আমরা পোঁছে গেছি। কাছাকাছি যাওয়ার পর যা দেখলাম তাতে আমাকে সান্তনা দেবে কে................................
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


