
শামচুল হক
মা বকবে না বলে কথা দেয়ায় হাসু মোবাইল এগিয়ে দেয়। মা মোবাইল হাতে নিয়ে বলে, হ্যালো।
অপর দিক থেকে জবাব আসে, স্লামালেকুম খালাম্মা। আপনি কেমন আছেন?
-- ভাল আছি, তুমি কেমন আছো?
-- আল্লাহর রহমতে ভাল আছি।
-- হাসু ভাই আপনাকে কিছু বলেছে?
-- কি ব্যাপারে?
-- আমাদের বাসায় বেড়াতে আসার কথা।
হাসুর মা কিছুটা রাগান্বিত হয়েই বলে উঠল, এই মাইয়া, তোমারে চিনিনা জানিনা তুমি কইলা আর তোমার বাসায় লাফ দিয়া বেড়াইতে গেলাম। এইডা হয়?
-- হাসু ভাই তো বলল, আপনি হাসু ভাইকে খুব ভালোবাসেন, হাসু ভাই বললেই নাকি তার সাথে চলে আসবেন।
-- আরে মাইয়-- আমার পাগোল পোলা কইলেই কি সব জায়গায় যাওয়া যায়, আমাগো একটা মানসম্মান আছে না?
-- আপনারা আমাদের বাসায় আসেন আমরা আপনাদের অসম্মান করবো না। আমাদের যতটুকু সাধ্য আছে তার মধ্যে সম্মান করার চেষ্টা করবো।
-- হুট কইরা যাওয়া সম্ভব না। পারলে তুমিই চইলা আসো। তোমারে আগে দেইখা লই।
-- আপনারা না আসলে তো আমার বাবা আমাকে আপনাদের ওখানে যেতে দিবে না। আমি আপনাদের কথা বাবাকে বলেছি। বাবা বলেছে যদি আপনারা আসেন তা হলে বাবা আমাকে সাথে নিয়ে আপনাদের বাসায় বেড়াতে যাবে।
-- এই মাইয়া তুমি কর কি?
-- আমি বিএ পড়ি।
-- পড়াশুনা কর ভালো কথা। আমরা তোমাদের ওখানে গেলে তোমার লাভটা কি?
-- আপনারা নাকি কখনও গ্রাম দেখেন নাই, আমিও ঢাকা শহর দেখি নাই। আপনারা আমাদের বাসায় এসে গ্রাম দেখবেন, আর আমি আপনাদের বাসায় গিয়ে ঢাকা দেখবো।
-- শুধু ঢাকা দেখবা, আর কোন মতলব নাই?
-- না খালা আর কোন মতলব নাই। আমাদের ঢাকায় কেউ নাই তো।
-- তোমাদের ঢাকায় কোন আত্মীয় স্বজন নাই?
-- না খালা কেউ নাই।
-- তাইলে পোলায় কইছে যখন তুমি ঢাকায় আইসা আমার বাসায় থাইকা ঢাকা দেইখা যাও।
-- খালা, আপনারা না আসলে বাবা আমাকে আপনাদের বাসায় যেতে দিবে না।
-- ক্যান?
-- আপনাদের দেখার পর যদি বাবার ভালো লাগে, তাহলে যেতে দিবে। না হলে যেতে দিবে না।
-- ঠিক আছে চিন্তা কইরা লই। বলেই বলল, এই মাইয়া তোমার মোবাইল নাম্বার কত?
-- খালা এখন যেটা দিয়ে কল করেছি এইটাই। শেষে দেখবেন ছয়।
হাসুর মা নাম্বার মিলিয়ে দেখে হুবহু তার মোবাইল নাম্বার। তার নাম্বারের শেষে নয়, আর মেয়েটির মোবাইল নাম্বারের শেষে ছয়। হাসুর মা বলল, এই মাইয়া তোমার নাম্বার তো দেখি আমার নাম্বারের সাথে মিল আছে। আমার নাম্বারের শেষে নয় তোমারটা ছয়।
-- এবার তা হলে বুঝতে পেরেছি। হাসু ভাই আপনাকে কল করতে গিয়ে ভুলে নয় এর জায়গায় ছয় টিপেছে তাতেই আমার মোবাইলে রিং বেজেছে।
এ কথা শুনে হাসুর মা সুর নরম করে বলল, এইবার বুঝবার পারছি, এই নয় ছয়-এর গন্ডগোলের লাইগা এই অবস্থা হইছে। ঠিক আছে মা যামু কি যামু না চিন্তা কইরা লই।
মেয়েটি সালাম দিয়ে মোবাইল রিং কেটে দিল। হাসুর মা মোবাইল ছেড়ে দিয়ে হাসুর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। হাসুর মা এক পলকে হাসুর দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে হাসু আগ্রহ নিয়ে বলল, মাইয়ার সাথে কথা কয়া কি বুঝলা মা?
-- মাইয়াডারে খারাপ মনে হইল না। তয় আমরা গেলে ও ঢাকা দেখার জন্য আমাগো বাসায় বেড়াইতে আইবো।
-- হাসু খুশি হয়ে বলল, তাইলে মা কবে যাইবা?
-- চিনিনা যানিনা কেমনে যাই?
হাসু অতি উৎসাহী হয়ে বলল, আরে মা চেনোন লাগবো না, মাইয়ার সাথে কথা কয়া বুঝবার পারছি মাইয়ার স্বভাব চরিত্র খারাপ না।
হাসুর কথা শুনে মায়ের চোখেমুখে চিন্তার ছাপ ফুটে উঠল। মায়ের চিন্তিত ভাব দেখে হাসু বলল, মা, মাইয়াডার সাথে কথা কয়া কি বুঝলা? মাইয়াডা কি খারাপ?
-- না রে বাজান, খারাপ না।
-- আমি কইছি না, মাইয়ডা ভদ্র, গাইল দিবা না। গাইল দিলে কেমন অপমান হইতাম। তয় মা, আমি কিনতু যশোর বেড়াইবার যামু। আমি কোনদিন গ্রামে যাই নাই, গ্রাম দেখবার যামু।
-- মাইয়াডাও তো কোনদিন ঢাকা দেখে নাই, ঢাকা দেখবার আইবো।
-- তাইলে তো ভালই হয়। আমরা যশোর যামু হেরা ঢাকা আইবো।
-- বুঝছি--রে পাগোল পোলা, এবার ঘুমা, আর রাত জাগনের দরকার নাই। বলেই সবাইকে রুম থেকে চলে যেতে বলল।
পরদিন কোন ফোন আসল না এরাও আর ফোন করল না। রাতের বেলা হাসু নিজেই মেয়েটির নাম্বারে মায়ের সামনে টেলিফোন করে বলল, বোইন আমরা কিন্তু যশোর আইতেছি। আপনারা রেডি থাইকেন। মায় রাজি হইছে।
অপর প্রান্ত থেকে কি বলল বোঝা গেল না। হাসু শুধু ঠিক আছে ঠিক আছে বলে ফোন কেটে দিল।
হাসুর মা ছেলের কান্ড দেখে অবাক হয়ে চেয়ে রইল।
(ছবি - অন্তর্জাল)
প্রথম পর্ব পড়ার জন্য নিচে ক্লিক করুন- -
রং নাম্বার নয় ছয়
রং নাম্বার নয় ছয় (২)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ১১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



