
মানুষের জীবনই সবচেয়ে বড় কৌতুক । মুদ্রার যে দিকটা আমাদের দিকে থাকে আমরা তাই দেখি, তাই বিশ্লেষণ করি, তার উপরেই সিদ্ধান্ত নেই । অন্য পাশে যে বসে থাকে তার দিকটা কি দেখি ? দেখি না । আসুন না একবার দেখি তার দিকটা কেমন দেখায় ? আমারটাই ঠিক ? নাকি তারটা ?
ঘটনা-১
মুদ্রার এপিঠঃ
আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে কতখানি ভালোবাসে পরীক্ষা করতে চাইলাম ।
-পরদিন ডেটিঙে এক ঘন্টা দেরী করে গেলাম । ও আমার সাথে দুই ঘন্টা পর কথা শুরু করল ।
-
এর পরের ডেটিঙে দুই ঘন্টা দেরী করে গেলাম । ও আমাকে দেখেই উঠে চলে গেল ।
-
এর পরের ডেটিঙে তিন ঘন্টা দেরী করে গেলাম । ওকে আর খুঁজে পেলাম না । নিজের বোকামিতে মনটা খারাপ হয়ে গেল । ডিসিশন নিলাম এরকম আর করব না । মেয়ে মানুষ, এভাবে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখাওতো ঠিক না ।
-
-
রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখি পরীক্ষার রেজাল্ট চলে এসেছে, ও পার্কের কোনায় অন্য এক ছেলের সাথে ডেটিঙে ব্যাস্ত ।
-
-
ওকে আর ওর নতুন বয়ফ্রেন্ডকে একগাদা উইশ করে এলাম ।
-মনটা ভালো হয়ে গেল ।।
মুদ্রার ওপিঠঃ
আমার ভালোবাসার ওপর আমার বয় ফ্রেন্ডের আস্থা দিন দিন কমেই চলেছে, এর একটা সুরাহা করা দরকার । এভাবে জীবন চলে ?
-একদিন ডেটিঙে এক ঘন্টা দেরী করে এল । বুঝতে পেরেছি আমাকে পরীক্ষা করতে চাইছে । রাগে ওর সাথে দুই ঘন্টা কথা বলতে পারলাম না ।
-
-এর পর ডেটিঙে দুই ঘন্টা দেরী করে এল । ঘৃণায় উঠে চলে এলাম । কাজিনের সাথে দেখা করতে হবে, একমাত্র ওই পারে বলতে আমার এখন কি করা উচিত ?
-
-কাজিনের বুদ্ধিমত ওকে চূড়ান্ত পরীক্ষা করতে চাইলাম । ঠিকই এর পর ডেটিঙে ও তিন ঘন্টা দেরী করে এল । আমাদের প্ল্যান মত ওর ফেরত যাবার রাস্তায় দুজন পাশাপাশি বসে থাকলাম । আমার কাজিন আমাকে সাহস যোগাতে লাগল আর আমি মনে মনে আল্লাহ্কে ডাকতে লাগলাম, আল্লাহ্ আমি যে ওকে প্রচন্ড ভালোবাসি ।
-
-
ও ঠিকই আমাদের দেখল । কাছে এগিয়ে এল, আর আমাকে হতবাক করে দিয়ে আমার কাজিনকে আমার নতুন বয়ফ্রেন্ড ভেবে একগাদা উইশ করে গেল ।
-ওর প্রতি আমার মনটা তিক্ততায় ভরে গেল ।
ঘটনা-২
মুদ্রার এপিঠঃ
স্বামীঃ আমার স্ত্রী আমাকে খুব ভালোবাসে, ওর কথামত প্রতিদিন অফিস থেকে বের হবার সময় ওকে ফোন করি । বাসায় এসে দেখি ও আমার জন্য অনেক খাবার দাবার রান্না করে বসে আছে । এরকম স্ত্রী এখনকার দিনে পাওয়া যায় ?
স্ত্রীঃ আমার স্বামীটা খুব ভালো । আমার কথামত প্রতিদিন ও অফিস থেকে বের হবার সময় আমাকে ফোন করে আর আমি সাথে সাথে আমার প্রেমিককে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ওর জন্য রান্না-বান্নায় লেগে যাই । আমার লক্ষী স্বামিটা আবার মজার মজার খাওয়া দাওয়ার পাগল কিনা !
মুদ্রার ওপিঠঃ
স্ত্রীঃ আমার স্বামীটা এত ভালো ! ও যদি শুধু আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা করত ! আচ্ছা আমি ওর স্ত্রী, কিন্তু তাই বলে কি কোন রক্ত মাংসের মানুষ না ! আমি কি শুধুই রান্না বান্না করার জন্য ? আমারও তো কোন চাহিদা থাকতে পারে ? পারে না ? আমিও তো চাই আমার স্বামী আমাকে সময় দিক, আদর সোহাগে ভরিয়ে রাখুক, এসব চাওয়া কি অন্যায় ?
স্বামীঃ আমিও যে আমার স্ত্রীকে প্রচন্ড ভালোবাসি । সারাটা দিন অপেক্ষা করি কখন বাসায় যাব । ওকে শুধু আমার ভালোবাসাগুলো প্রকাশ করতে পারি না, আমি যে পুরুষ মানুষ । জানেন ? বাসায় ফিরে যখন দেখি আমার জন্য খাওয়া দাওয়া রেডি করে বসে আছে তখন কি যে ভাল লাগে বলে বোঝাতে পারব না, শুধু মনে মনে বলি, “হে ইশ্বর, পরজন্মেও এমন দেবীর দেখা যেন পাইগো” ।
ঘটনা-৩
মুদ্রার এপিঠঃ
স্ত্রীঃ আমার স্বামীটা আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে । কোন কিছু চাওয়ার আগেই এনে হাজির করে ।
স্বামীঃ আমার স্ত্রী একটা বেকুবের হদ্দ । যেদিনই আমি পরকীয়ায় আসি, বাসায় যাবার সময় ওর জন্য শুধু হাতে করে কিছু নিয়ে যাই, ব্যস্ সব ঠিকঠাক । কোন কিছুই আর সন্দেহ করতে পারে না !
মুদ্রার ওপিঠঃ
স্বামীঃ আমার স্ত্রী টা এত ভালো ! ও যদি শুধু আমাকে একটু বোঝার চেষ্টা করত ! আচ্ছা স্বামীর ভালোবাসার চেয়ে কি একজন স্ত্রীর কাছে জিনিস পত্রই বেশী দামি ? আমি তো চাই আমি বাসায় আসার সাথে সাথে ওর শাড়ির আঁচল টা দিয়ে আমার মুখ টা মুছে দিক, আমাকে একটু জড়িয়ে ধরুক । এসব চাওয়া কি অন্যায় ? স্ত্রীর কাছ থেকে এসব না পেলে আমি কি করব ?
স্ত্রীঃ আমার স্বামীটা একটা বোকার হদ্দ । প্রায় সময়ই বাসায় আসার সময় হাতে করে কিছু না কিছু নিয়ে আসবেই, হয় শাড়ি, নয়ত কোন পারফিউম, আরো কত কি ? আচ্ছা স্ত্রীরা কি শুধু এগুলোই চায় ? আমি তো চাই ও একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসুক । যে খরচ করে ও জিনিসগুলো কিনেছে তার চেয়েতো অনেক কম খরচে আমরা বাইরে একটু রিক্সায় করে ঘুরতে পারি, দুজনে হাত ধরে রাস্তায় একটু হাটতে পারি । ঠিক না ? ও কেন বুঝেনা এসব ?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ ভোর ৪:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




