somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভবিষ্যতের গল্প – “নীলাম্বরী” (আমার ছোট গল্প)

২৮ শে মে, ২০১৬ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পয়লা অক্টোবর ২০২৫ইং, ছোট একটা পোস্ট সামহোয়্যার ইন ব্লগের সবার দৃস্টি আকর্ষণ করল, পোস্ট টা ছিল এরকম –

সাম্প্রতিক সময়ের সবচাইতে আলোচিত লেখকের একটি গল্পের জন্য নাম আবশ্যক। উপযুক্ত নাম দাতাকে এক লক্ষ টাকা পুরুস্কার দেয়া হবে।

আমি জানি এরকম পোস্টে অনেকেই আগ্রহী হবে। এত সহজে এক লক্ষ টাকা পুরুস্কার কেউই হারাতে চাইবে না।

পরবর্তী এক সপ্তাহে কয়েক হাজার নাম পড়ল। এর মধ্যে একটা নাম খুব পছন্দ হোল আমার – “নীলাম্বরী”, কেমন মায়াবী নাম। মন উদাস করে দেয়।

পুরুস্কার দেবার ধারে কাছেও গেলাম না। শুধু ব্লগের একাউন্টটা ডি-অ্যাক্টিভেট করে নতুন আরেকটা একাউন্ট খুললাম।

মাস খানেক পর আরেকটা পোস্ট ছাড়লাম –

গল্প প্রতিযোগিতা !!!

শর্তঃ
১। গল্পের নাম “নীলাম্বরী” হতে হবে,
২। নামের সাথে গল্প মানানসই হতে হবে,
৩। গল্প .............................. – এই ইমেইল অ্যাড্রেসে লেখকের যোগাযোগের ঠিকানা সহ মেইল করতে হবে।
৪। প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের গল্প আগামী বইমেলায় প্রকাশ করা হবে,
৫। গল্প পাঠাবার শেষ তারিখ আগামী ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ ইং।

প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে নগদ দশ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা এবং পরবর্তী তিন জন প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে পুরুস্কার দেয়া হবে।


এরকম সুযোগ কোন লেখক হাতছাড়া করতে চাইবে বলেন? ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার ওপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গেল! মানুষ পারেও বাবা! গল্প লিখেই লাখ লাখ টাকা? এরা এত পরিশ্রম না করে আমার সাথে যে কেন যোগাযোগ করে না? যাক্‌ বাবা, অতসব চিন্তা করার দরকার নেই আমার। সামনে অনেক কাজ আমার।

একটা গল্প খুব পছন্দ হল আমার। দূর্দান্ত প্রেমের গল্প। এক কথায় হিট। আমার একাউন্ট আবার ডি-অ্যাক্টিভেট করে গল্পটার পান্ডুলিপি নিয়ে ছুটলাম আমার প্রকাশক বন্ধুর কাছে।


“নাহ্‌ দোস্ত, তোর মাথায় বুদ্ধি আছে। এই গল্প হিট হবেই” – পান্ডুলিপি পড়েই আমার প্রকাশক বন্ধু আমাকে সাফ সাফ জানিয়ে দিল।

- দশ হাজার কপি ছাপা, ৫০০ কপি বইমেলায় ছাড়বি আর বাকি ৯৫০০ কপি ছাড়বি ব্ল্যাক মার্কেটে – বলে দেই আমি।

“তুই কি বলতেছিস? বুঝে শুনে বলতেছিস তো? মিস্‌ হলে কিন্তু আমি শেষ!” – আমার অতি অভিজ্ঞ প্রকাশক বন্ধুও ঘাবড়ে যায়।

- যা বলতেছি তা-ই কর, সব রিস্ক আমার – বলে আমি আর অপেক্ষা করি না, বের হয়ে আসি। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অফিসের রিপোর্টার দোস্তের সাথে দেখা করতে হবে।

পয়লা ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। বই মেলা শুরু। আমি আমার পছন্দের গেরুয়া রঙয়ের পাঞ্জাবি পরে ছুটলাম বইমেলার দিকে।

সারা দিনে একটাও “নীলাম্বরী” বিক্রী হোল না। আমার প্রকাশক বন্ধু শুধু আমার দিকে আড়চোখে চায়, আমি আলস্যে হাই তুলি।

৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। এ পর্যন্ত মোট একটা “নীলাম্বরী” বিক্রী হয়েছে। আমার প্রকাশক দোস্তের অবস্থা এখন অনেকটা তেলাপিয়া মাছের মত। কিছুক্ষণ পর পর বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। আমার ভয় হচ্ছে স্ট্রোক না করে বসে ব্যাটা।

১০ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। আরো একটা “নীলাম্বরী” বিক্রী হোল আজ, এ পর্যন্ত মোট দু’টা। আমার প্রকাশক দোস্তকে বোধ হয় ডাক্তারের কাছে নিতেই হবে। ছোট ছোট বাচ্চা বেচারার, ওর কিছু হলে এই বয়সে বাচ্চা গুলির কি হবে? নাহ্‌ আমার কাজ শুরু করে দিতে হবে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন দেই সেই নামদাতা আর লেখককে। আচ্ছা, ওদের কথা মনে আছে তো আপনাদের?

২০শে ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। জাতীয় দৈনিক পত্রিকার হেড লাইনে একটা খবর সবার দৃস্টি আকর্ষণ করল –

জোচ্চুরি করে গল্প প্রকাশ !! লেখকের বিরুদ্ধে মামলা !! বই মেলা থেকে “নীলাম্বরী” প্রত্যাহার করার জন্য আদালতের নির্দেশ !!

সেই দিন আর বইমেলায় গেলাম না। মান ইজ্জতের ব্যাপার! সারা দিন আমার প্রকাশক বন্ধুর ফোনও আসল না, আমিও ফোন করলাম না। যাক্‌ এতদিন পর হয়ত বেচারা শান্তি পাচ্ছে!

সন্ধ্যায় ওর ফোন আসল – “দোস্ত তুই করছস কি? মানুষে পাগলের মত নীলাম্বরী খুজতেছে। ৫০০ কপি শেষ । কি করমু অহন? ঐ ৯৫০০ কপি আনামু?”

- নাহ্‌, ওগুলি অহন ব্ল্যাক মার্কেটে ছাড়। দাম ২৫% বাড়ায়া দে।


আমি এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাই। আমি এখন সবচাইতে আলোচিত লেখক !!!
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৬ রাত ৩:৩০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×