somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্লাবন২০০৩
বিশ্বের বিশালতা, স্রষ্টার উদারতা, মানবতার মহিমা ....., সব কিছুতেই আমি মুগ্ধ।

ভবিষ্যতের গল্প – “নীলাম্বরী” (আমার ছোট গল্প)

২৮ শে মে, ২০১৬ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পয়লা অক্টোবর ২০২৫ইং, ছোট একটা পোস্ট সামহোয়্যার ইন ব্লগের সবার দৃস্টি আকর্ষণ করল, পোস্ট টা ছিল এরকম –

সাম্প্রতিক সময়ের সবচাইতে আলোচিত লেখকের একটি গল্পের জন্য নাম আবশ্যক। উপযুক্ত নাম দাতাকে এক লক্ষ টাকা পুরুস্কার দেয়া হবে।

আমি জানি এরকম পোস্টে অনেকেই আগ্রহী হবে। এত সহজে এক লক্ষ টাকা পুরুস্কার কেউই হারাতে চাইবে না।

পরবর্তী এক সপ্তাহে কয়েক হাজার নাম পড়ল। এর মধ্যে একটা নাম খুব পছন্দ হোল আমার – “নীলাম্বরী”, কেমন মায়াবী নাম। মন উদাস করে দেয়।

পুরুস্কার দেবার ধারে কাছেও গেলাম না। শুধু ব্লগের একাউন্টটা ডি-অ্যাক্টিভেট করে নতুন আরেকটা একাউন্ট খুললাম।

মাস খানেক পর আরেকটা পোস্ট ছাড়লাম –

গল্প প্রতিযোগিতা !!!

শর্তঃ
১। গল্পের নাম “নীলাম্বরী” হতে হবে,
২। নামের সাথে গল্প মানানসই হতে হবে,
৩। গল্প .............................. – এই ইমেইল অ্যাড্রেসে লেখকের যোগাযোগের ঠিকানা সহ মেইল করতে হবে।
৪। প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের গল্প আগামী বইমেলায় প্রকাশ করা হবে,
৫। গল্প পাঠাবার শেষ তারিখ আগামী ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ ইং।

প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে নগদ দশ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা এবং পরবর্তী তিন জন প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে পুরুস্কার দেয়া হবে।


এরকম সুযোগ কোন লেখক হাতছাড়া করতে চাইবে বলেন? ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার ওপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গেল! মানুষ পারেও বাবা! গল্প লিখেই লাখ লাখ টাকা? এরা এত পরিশ্রম না করে আমার সাথে যে কেন যোগাযোগ করে না? যাক্‌ বাবা, অতসব চিন্তা করার দরকার নেই আমার। সামনে অনেক কাজ আমার।

একটা গল্প খুব পছন্দ হল আমার। দূর্দান্ত প্রেমের গল্প। এক কথায় হিট। আমার একাউন্ট আবার ডি-অ্যাক্টিভেট করে গল্পটার পান্ডুলিপি নিয়ে ছুটলাম আমার প্রকাশক বন্ধুর কাছে।


“নাহ্‌ দোস্ত, তোর মাথায় বুদ্ধি আছে। এই গল্প হিট হবেই” – পান্ডুলিপি পড়েই আমার প্রকাশক বন্ধু আমাকে সাফ সাফ জানিয়ে দিল।

- দশ হাজার কপি ছাপা, ৫০০ কপি বইমেলায় ছাড়বি আর বাকি ৯৫০০ কপি ছাড়বি ব্ল্যাক মার্কেটে – বলে দেই আমি।

“তুই কি বলতেছিস? বুঝে শুনে বলতেছিস তো? মিস্‌ হলে কিন্তু আমি শেষ!” – আমার অতি অভিজ্ঞ প্রকাশক বন্ধুও ঘাবড়ে যায়।

- যা বলতেছি তা-ই কর, সব রিস্ক আমার – বলে আমি আর অপেক্ষা করি না, বের হয়ে আসি। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অফিসের রিপোর্টার দোস্তের সাথে দেখা করতে হবে।

পয়লা ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। বই মেলা শুরু। আমি আমার পছন্দের গেরুয়া রঙয়ের পাঞ্জাবি পরে ছুটলাম বইমেলার দিকে।

সারা দিনে একটাও “নীলাম্বরী” বিক্রী হোল না। আমার প্রকাশক বন্ধু শুধু আমার দিকে আড়চোখে চায়, আমি আলস্যে হাই তুলি।

৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। এ পর্যন্ত মোট একটা “নীলাম্বরী” বিক্রী হয়েছে। আমার প্রকাশক দোস্তের অবস্থা এখন অনেকটা তেলাপিয়া মাছের মত। কিছুক্ষণ পর পর বড় করে শ্বাস নিচ্ছে। আমার ভয় হচ্ছে স্ট্রোক না করে বসে ব্যাটা।

১০ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। আরো একটা “নীলাম্বরী” বিক্রী হোল আজ, এ পর্যন্ত মোট দু’টা। আমার প্রকাশক দোস্তকে বোধ হয় ডাক্তারের কাছে নিতেই হবে। ছোট ছোট বাচ্চা বেচারার, ওর কিছু হলে এই বয়সে বাচ্চা গুলির কি হবে? নাহ্‌ আমার কাজ শুরু করে দিতে হবে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন দেই সেই নামদাতা আর লেখককে। আচ্ছা, ওদের কথা মনে আছে তো আপনাদের?

২০শে ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং। জাতীয় দৈনিক পত্রিকার হেড লাইনে একটা খবর সবার দৃস্টি আকর্ষণ করল –

জোচ্চুরি করে গল্প প্রকাশ !! লেখকের বিরুদ্ধে মামলা !! বই মেলা থেকে “নীলাম্বরী” প্রত্যাহার করার জন্য আদালতের নির্দেশ !!

সেই দিন আর বইমেলায় গেলাম না। মান ইজ্জতের ব্যাপার! সারা দিন আমার প্রকাশক বন্ধুর ফোনও আসল না, আমিও ফোন করলাম না। যাক্‌ এতদিন পর হয়ত বেচারা শান্তি পাচ্ছে!

সন্ধ্যায় ওর ফোন আসল – “দোস্ত তুই করছস কি? মানুষে পাগলের মত নীলাম্বরী খুজতেছে। ৫০০ কপি শেষ । কি করমু অহন? ঐ ৯৫০০ কপি আনামু?”

- নাহ্‌, ওগুলি অহন ব্ল্যাক মার্কেটে ছাড়। দাম ২৫% বাড়ায়া দে।


আমি এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাই। আমি এখন সবচাইতে আলোচিত লেখক !!!
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৬ রাত ৩:৩০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি?

লিখেছেন জিয়া চৌধুরী, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৩০

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি? একই গ্যাস, দামের এত পার্থক্য কেন? এনসিপির আকতার হোসেনের প্রশ্ন।

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

ছবি গুগল থেকে গৃহিত।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

◆ ভূমিকা: এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×