somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরপেক্ষ কণ্ঠ থেকে রাজনীতির বাইরে কিছু বলতে চাই

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন হয়েছে কথা বলা যেনো বন্ধ করেদিয়েছি।
হৃদয়টি খুব ছোট মনে হলেও এখন দেশটাকে সে তুলনায় বিশাল মনে হচ্ছে। এমন মনে হওয়ার কারন হচ্ছে, ধর্ম, রাজনীতি ও আমাদের আধুনিকতা নিয়ে যে তুমুল সংঘাতময় বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি যেনো মনের কল্পনার আয়তনকে হাড়িয়েছে।
গত কয়েকদিন থেকে অনেকেই আবদার করে আসছে, বিশেষ করে কতিপয় সাংবাদিক বন্ধুদের কথা রাখার জন্য ভেবেছি, একটা লেখা উপহার দেবো।

অবশেষে সেটা আর উপহার হয়ে এলো না। বাংলাদেশের আমরা সব জনগণ দেশের জন্য জীবন দিতে পারি। ধর্মের জন্যও পারি। সত্যের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অকালে মরতে পারি। আবার দেশকে নিয়ে আকাশ কুশুম পর‌্যন্ত ভাবতে পারি। এরই ফলাফল দেখছি, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ, ৭১ এ মানবতাবিরোধীদের বিচার, এবং সর্বশেষ যেটা, ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ প্রেরিত রাসুল সঃ কে কটুক্তির প্রতিবাদে ঘাত-সংঘাত।
আগেই বলে রাখী, কে ছাত্র লীগ-ছাত্রদল বা জামাত-শিবির, সেটা বিচার করা আমার উচিৎ না। কেনোনা, রাজনীতি এবং আমি ও আমার লেখা সব সময় আলাদা ভাবের হয়। এখানেও আমি আলাদা করে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই।
গত কয়েকদিন থেকে একদল ক্যাকারের ফাদে পড়তে হয়েছে আমাকে। ফেইস্ বুক একাউন্ট একাধিকবার হ্যাকিং করে তারা কি পেতে বা খুঁজতে চেয়েছিল আমার জানা নেই। কিন্তু এদের প্রতিহত করা সম্ভবনয় এটা নিশ্চয় বুঝতে পারি। কয়েকমাস পূর্বেই এসব হ্যকাররা বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা শুধু সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ID হ্যাকিং করতে পারদর্শী নয়, তারা দশ কোটি মানুষের ব্যবহৃত ফেইস বুক কোম্পানীর মূল ID কেই বন্ধ করে অচল করে দিতে পারে বিশাল ফইস বুক কে।

যিনি রাজনীতি করেন তিনি রাজনীতির সাথে সম্পৃত্ততা যোগান দিয়ে চলতে ভালোবাসে। হোক্ সে সরকার বা বিরোধী দলের লোক। আমি দেশকে নিয়ে ভাবি রাজনীতির বাইরে, তাই যার তার কথা আমার এবং আমার দেশে কল্যাণে বলা হয়, সেটি এখন বিশ্বাস করি না। সরকারী দল গাইবে নিজ দলের গান, বিরোধীদল গাইবে তার এবং জামাত শিবিরও গাইবে তার দলের গান। এমন করে যত দল রয়েছে সবাই ব্যক্তিগত বা নিজ পছন্দের দলের নামে বেনামে সুনাম গেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ময়ের কথা হচ্ছে, অধিকাংশ মুসলমানরা আজ তার ধর্ম ইসলামের সুনাম করতে পারছে না। কি বিবেক বাঁধা দিচ্ছে, না রাজনীতি নাকি সমাজ ও সামাজিকতা থেকে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে, সেটি নেহাৎ চিন্তার বিষয়।
তাই ইসলামকে এখন কয়েকটি রাজনৈতীক দলের ব্যানারে দমনের অপ্রতিহত চেষ্টা চলছে। গত কাল যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটাকে নিরীহ কিছু মুসল্লিদের ব্যানারে দাঁড় করিয়ে ইসলামকে ব্যাপক ক্ষতিগস্ত করার পায়তারা করেছে পুলিশ ও সরকার।
সাংবাদিকতার বদৌলতে গত কাল একটি স্পটে সরজমিন থেকে বিপজ্জনক এক সংঘাতের চোখ সাক্ষি ছিলাম। যেখানে রাসুল সঃ কে অবমাননা ও কটুক্তির প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে, সেখানে পুলিশ আতর্কিত হামলা করে হাজার হাজার জনগণকে খেপিয়ে তোলার পেছনে কি কারণ ছিল, আদৌ তা বুঝে আসে না। এরকম পরিরিস্থতির শিকার হয়ে দেশের অনেক স্থানে সংঘর্ষ ও হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সব যায়গাতে যে একই কারণে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে তা মোটেও নয়। কিছু লেজুর বৃক্তের লোকদের দ্বারা সৃষ্ট ঘটনার বলী হতে হয়েছে অসংখ্য নিরীহ মুসল্লিকে।
আর পুলিশ যে প্রতিহত করতে গিয়ে সারাদেশে হাজার হাজার গুলি চুড়েছে, সেটা নিশ্চয় খুব ভালো করেছেন বা জাতীকে উদ্ধার করতে পেরেছেন তা নয়। আমি যে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সংঘাত দেখেছিলাম, সেখানে আওয়ামী লীগ, যুব লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্য থেকে অনেকেই ছিল। একজনকে বলতে শুনেছি, রাজনীতি আলাদা কথা। রাসুলকে নিয়ে যারা খারাপ মন্তব্য বলে, তাদের ছাড় দেবো না।
যদিও আজকের অধিকাংশ পত্র-পত্রিকায় এসেছে, জামাতের তান্ডব বা জামাত-পুলিশ সংঘর্ষ ইত্যাদি ধরনের শিরোনাম। কিন্তু ১২ দলের নেতাদের সাথেেএকাত্বতার মাধ্যমে যে সমাবেশ হয়েছিল, সে সমাবেশের উদ্দেশ্যকে আন্তর্জাতিক মহলে জঙ্গী বলে পরিচিত করা সরকারের লক্ষ ছিল সেটা অনায়াসে বুঝা যায়।
মানবতা বিরোধীদের সরকার চরম হাতে ধরেছে ,সেটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। জামায়াতকে বা ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করণ সেটা সরকার, আদালত ও জনগনের আবেদনের বিশ্লেষণ করেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিবে। আশা করি নির্বাচন কমিশন জাতীয় প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁচবেন। তবে ইসলাম বা যে কোনো ধর্ম-নেতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে যারা আঘাত হানে তাদের বিচার করা ক্ষমতাধীন সরকারের হাতেই পড়ে।

অন্যদিকে শেষে একটি কথা না বললেই নয়। রাজধানীসহ সারা দেশে যে সংঘাত হয়েছে সেটা নিয়ন্ত্রণ ও একটি সুন্দর প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের জন্য সার্বিক সহযোগিতা কি পুলিশ পারত না?
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×