somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিথি এখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকে

০৭ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইদানিং সিটি কর্পোরেশন রাজধানীর হোর্ডিং বোর্ডগুলো নামিয়ে নিয়েছে। মারিয়া নূরকে তাই এখন আর দেখতে পাই না।
আড়ংয়ের পাশ দিয়ে হাতিরঝিল থেকে গুলশান রোডে নামার সাথে সাথেই দেখতে পেতাম ড. ফজলে রাব্বী পার্কের দখিন কোণে বিশাল এক হোর্ডিং বোর্ডে মারিয়া নূর বসে রয়েছে কেতাদুরস্ত সাজে।

নিকেতনের গেটে ঝাঁ চকচকে রাস্তায় আমি যখন বাইকে বসে চৈত্র বোশেখের রোদে দরদর ঘামতে থাকি, তখনও মারিয়া নূর ওই বিলবোর্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থাকে মুখে স্মিত হাসি নিয়ে।
প্রখর রোদে পুড়ে, তুমুল বৃষ্টিতে ভিজেও মারিয়া নূর কখনও মলিন হয় না।
এমনকি ওই হোর্ডিং বোর্ডের উপরে কাকেরা যখন কর্পোরেট সভা বসায় আর বিষ্ঠার আবরণে কিঞ্চিত ঢেকে যায় পিভিসি ব্যানার, তখনও মারিয়া থাকে আগের মতই।
দুপুরের গণগণে রোদে পথচলতি যুবকেরা এই স্নিগ্ধ মারিয়াকে দেখে ক্রাশ খায় দলে দলে।

মারিয়া নূর যে বিলবোর্ডের উপরতলায় নির্বিঘ্নে নির্ভাবনায় থেকে যায় শীত গ্রীষ্ম বর্ষায়, সেই বিলবোর্ডেরই নিচতলায় চলে জীবনের নিরন্তর সংগ্রাম। ঠিক যেমন আমাদের সমাজে চলে নীচু আর উঁচুর দরদাম।
পিঠে বস্তা নিয়ে শৈশব চুরি হয়ে যাওয়া শিশুরা ওই বিলবোর্ডেরই নিচে আবর্জনার স্তুপে খুঁজে ফেরে বেঁচে থাকার অবলম্বন। শ্রেণিবৈষম্যের এই পরম্পরা হয়ত আগামী শতবর্ষেও একই থাকবে।
একইভাবে চলতে থাকবে এই দ্বৈরথ। দুই শ্রেণির চিন্তাভাবনাও থাকবে একই।

অফিসে আমার নেক্সট ডোর নেইবার ছিল মারিয়া নূর প্রজাতির এক মেয়ে। তিথি নাম। একদিন হঠাৎ বললো, ওরা অস্ট্রেলিয়ায় সেটল্ড হবে। আমি একটুও অবাক হইনি।
সমাজের যে শ্রেণিকে তিথিরা বিলং করে, সে শ্রেণির লোকেরাই সাধারণত কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় সেটল্ড হতে চায়।
বাবা এবং স্বামীর তরফে ঢাকা শহরে দুই তিনটি বাড়ির মালিক হওয়ার পরও দেশ ছাড়ার প্রণোদনা এদের অফুরন্ত।

বরং আমি অবাক হয়েছিলাম যখন তিথি আমাদের অফিসে এসে জয়েন করলো।
এ রকম নয়টা পাঁচটার ধরাবাঁধা ম্যাড়মেড়ে জীবনে ওদের মানায় না।
তিথির ভেতরে আলাদা একটা জেল্লাদার ভাব ছিল। ডাকবুকো চলাফেরা আর কথাবার্তায় বোঝা যেত যে সে আমাদের প্রজাতির না, মারিয়া নূর প্রজাতির।
তিথি প্রিভিলেজড অফিসার হিসেবেই এখানে ছিল, যতদিন সে ছিল। তারপর অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেল স্বপরিবারে।
এই পোড়া দেশের জরা-দুঃখ-ক্লান্তিকে অতীত করে আরো সুখের সন্ধানে। দেখে দেখে মনে হয়, এ দেশের জল হাওয়ায় বড় হয়েও অনেকেই এ দেশের হতে পারেনা, ওরা থাকে অস্ট্রেলিয়ায় আর এ দেশের বিলবোর্ডগুলোয়।

তিথি তাই এখন সিডনি অপেরার সামনে দাড়িয়ে ছবির জন্য পোজ দেয়।



**ছবিসূত্র: ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:২৪
২৭টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন কথনিকা-৬৩৮৯-৯০=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

মন কথনিকা-৬৩৮৯
সকাল সকাল উঠে দেখি, চোখের মাঝে ঘুমের পাহাড়
চোখ মেললেই ঘুমরা ছড়ায়, চোখের মাঝে ক্লান্তির বাহার
রাত বারোটায় ঘুমোতে যাই, ফযর বেলা উঠে পড়ি
পাঁচ ঘন্টা ঘুম মাত্র ঘুমাই, না ঘুমিয়ে ক্লান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×