somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প-আমার গোপন প্রিয়া

০৯ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি ছোট কাল থেকেই একটু মেজাজী ছিলাম। এই স্বভাবটা আমার এখন ও আছে। চাকুরির সুবাধে আমি ২০১২ সাল থেকে ঢাকায় আছি। সেদিন আমি ও আমার দুই বন্ধু মিলে মিরপুর চিড়িয়াখানা দেখতে গিয়েছিলাম। আমার বন্ধুরা এসেছে গ্রামের বাড়ি চট্রগ্রামের পটিয়া থেকে। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের কিছুক্ষন পরে আমার মোবাইলে একটা মিসড কল আসে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখলাম অপরিচিত নাম্বার। কিছুক্ষন পর সে একই নাম্বার থেকে আবার মিসড কল। যথারীতি আমার মেজাজ বিগড়ে গেলে। রেগে গিয়ে কল দিই,কোন রেসপন্সড নেই। সন্ধ্যায় আমি বাসায় ফিরছি সেই সময় ঠিক একই নাম্বার থেকে আবার ও মিসড কল। আমি তখন সংসদ ভবনের পাশে। আমি পাল্টা কল করতেই একটা মেয়ে ফোনটা রিসিভ করে। মেয়েটা কিছু বলার আগেই বলে উঠলাম,এই যে বার বার মিসড কল দেন কেন? কল করলে রিসিভ করতে পারেন না? ফালতু, আর কোন সময় কল দিবেন না। আমার কথা শেষ হতেই, দেখুন আমি সুমি,যা কে আপনি গত রাতে নাম্বারটা দিয়েছিলেন,আর আপনি আমার সাথে এইভাবে কথা বলছেন কেন? আমি তখন কি বলব ভেবে পায়নি, শুধু এই টুকু বললাম,সরি,আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। পরে কথা হবে বলে ফোনটা রাখি।

পরে বাসায় ফেরার পথে আমার মনে পরেছে ,গত রাতে আমিই রবি সার্কেলে সুমিকে নাম্বারটা দিয়েছিলাম। তাছাড়া সুমির কন্ঠ এত সুন্দর এইভেবে তখন আর কল করার লোভটা ধরে রাখতে পারলাম না। আমি মোবাইল বের করে সুমিকে কল দিলাম। অপর প্রান্ত থেকে,হ্যালো।
আমি সরি,আমি আসলেই ঐ সময় আপনাকে চিনতে পারিনি।
ঠিক আছে, আমি আপনার কথায় কিছু মনে করিনি।তবে আপনি আমার একটা কথার উওর দিবেন?
হ্যা, বলেন।
আপনি সেই সময় আমার সাথে ধমক দিয়ে কথা বলছেন কেন?
দেখেন,আমি আপনাকে চিনতে পারিনি,তার জন্য সরি।
আশ্চার্য! কাউকে চিনতে না পারলে ধমক দিয়ে কথা বলতে হবে এমন কোথাও লিখা আছে নাকি?
সরি,ধমক দিয়ে বলতে হবে এমনটা যেমন কোথাও লেখা নাই, তেমনি মিষ্টি করে বলতে হবে এটাও আমার চোখে পড়েনি।
ও মা! তাই নাকি?
হ্যা তাই, শুনেন,আমাকে কি আপনার কাছ থেকে ভদ্রতা শিখতে হবে,কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়?
তা তো অবশ্যই,না জানলে শিখতে হবে না।
ধন্যবাদ,আমার অত টাইম নাই,আপনি রাখতে পারেন। এই বলে লাইন কেটে দিই।

এরপর থেকে আমাদের দুজনের প্রায় কথা হত। আপনি বলা থেকে তুমিতে চলে আসলাম। সুমির চারিত্রিক গুনাবলি ছিল লক্ষ্যনীয়, সে কোন সময় নামায আদায় করা বাদ দিত না, এমন কি আমি ও সুমির সাথে সাথে কত বার নামায পড়েছি তার কোন ইয়াত্তা নেই। কথায় আছে, “ women are just like magnet, they has attractive and directive power.” এইভাবে প্রায় আমাদের মধ্যে দুই বছর সম্পর্ক অতিবাহিত হল। ইতিমধ্যে সুমি আমাকে প্রায় তার সাথে দেখা করার কথা বলত,কিন্তু চাকরির ব্যস্ততার কারনে সুমির সাথে আমার দেখা করা হয়ে ওঠেনি। তবে যখন আমি দেখা করতে চাইতাম তখন সে ও বিভিন্ন কারনে এড়িয়ে যেত। যাইহোক একদিন সুমি আমার কাছে আমার ফেইজবুক আইডি চেয়েছিল। আমি ও দিয়ে দিলাম। সেদিনের পর থেকে সুমির সব মোবাইল নাম্বার বন্ধ। আমার অবশ্যই নিজেকে নিয়ে একটা দ্বম্ভিকতা ছিল,যে কোন মেয়েই হয়তো আমাকে দেখলে আমার প্রেমে পড়ে যাবে। সেবারই প্রথম আমার ধারনা ভুল প্রমাণিত হল। আমাকে দেখে হয়তো তার ভাল লাগেনি। এর কারন, সে আমাকে সব সময় একটা স্মার্ট ছেলের কথা বলত। হয়তো আমি দেখতে সেই ছেলেটির মত ছিলাম না।

কিছুদিন আগে সুমি আমাকে ফোন করেছিল,তার বিয়ে আমাকে যেতে হবে। আমি পালটা প্রশ্ন করলাম, আমার অপরাধ কি ছিল? আমি ও তো চাকুরি করি। আমি কি তোমাকে ভালবাসিনি? কান্না জড়িত কন্ঠে সুমি বলেছিল,আমি ও তোমাকে ভালবাসি, কিন্তু তুমিতো কোন সময় আমার কথার মূল্য দিতে না, তাছাড়া সেদিন তোমার ফেইজবুক প্রোফাইল পড়ে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এই জন্য তোমাকে ভুলার চেষ্টা করেছি।
এখন ভুলতে পেরেছ?
সুমি কোন উওর না দিয়ে, তুমি বিয়েতে আসবে, এই আমার ঠিকানা ………………।
আমি বিয়েতে যায়নি। সেদিন থেকে সুমির নাম্বার আবার ও বন্ধ। হে আমার গোপন প্রিয়া, তোমাকে দেখার খুব ইচ্ছা! ভালবাসা দিবসে তোমার একটা ছবি দিও আমাকে। গোপন প্রিয়া,তুমি এত সহজে গোপন হয়ে যাবে?


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×