তখন ফার্স্ট ইয়ারে সবে ভর্তি হয়েছি। আমি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, হাওয়ায় উড়াই গাত্র –ভাব নিয়ে দলবেঁধে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করি।কিনতু হলে চলাফেরা করি আসামির মত। বড় ভাইদের হুকুম তামিল করতে পারলে ধন্য হয়ে যাই। গেস্ট রুমে নিয়মিত হাজিরা দিই। হলে, ক্যাম্পাসে- চলাফেরার বিস্তর নিয়মকানুন রপ্ত করি। সব জায়গায় চলে অনুশীলন। টিভি রুমের প্রথম তিন সারিতে বসা যাবেনা, কেন্টিনের প্রথম চার টেবিলে বসে খাওয়া যাবেনা, লুঙ্গি পরে দোকানে যাওয়া যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। এ নিয়মগুলোর দুএকটা ফাঁকি দেয়া সম্ভব হলেও বড় ভাইদেরকে সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করা ছিল অলঙ্ঘ্যনীয়। হ্যান্ডশেক করার আবার ছিল নানান কায়দা কানুন। যদি কাউকে পাওয়া যেত যে এসব নিয়মের ব্যাতিক্রম করেছে, তবে আর রক্ষে নেই। চেইন অব কমান্ড অনুসারে নিয়মিত ঝাড়ি তো ছিলই- বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকতো রাত ১২টায় বড় ভাইদের রুমে হাজিরা। রুমে যাওয়া মাত্র পুরো ঝড় বয়ে যেতো(পরে বুঝেছি ওগুলো ছিলো ফাঁকা বুলি- স্রেফ ভয় পাইয়ে দেবার জন্য)। বড় হাজিরা দেওয়ার সুবাদে আমাদের গালিভান্ডারের সীমিতি কেটে যেতো অনেকটাই। হাজিরা শেষ করে রুমে ফিরলে সবাইকরুণ চোখে তাকাতো। কেউ হয়তো দয়াপরবশ হয়ে একটু জায়গাও ছেড়ে দিতো ঘুমানোর জন্য।
ঘুমানোর জন্য একটু জায়গা পাওয়া আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া ছিলো সমান কথা। রুমের লাইট কেউ অফ করলো তো দুই মিনিট পর বাইরে থেকে কেউ এসে আবার অন করে দিলো। ব্যাস-শুরু হয়ে গেল গালাগালি। অভিভাবকসুলভ কেউ আবার মিটমাট করে দিতো রাত দুপুরের সেই কাজিয়া। আরো কত ঘটন-অঘটন যে ঘটতো সে কথা বিস্তারিত অন্য কোথাও বলবো।
আরও অনেক অনেক কথা আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন নিয়ে। হয়তো মনে হতে পারে হল জীবন বিভীষিকার জীবন- কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যি কথা বলতে কি আমিসহ যারা একসাথে ছিলাম সবাই সেই দিনগুলো অনেক মিস করি। কেন? আশা করি সময় পেলে শেয়ার করব।
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


